Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২২ জুলাই ২০২৬
মমতা

শেষ দফার ভোটে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চর্চা

বাংলায় ঢুকতে দিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী, অভিযোগ যোগীর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৭, ২০১৯, ১৩:২৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৭, ২০১৯, ১৩:২৬

options
link
শেষ দফার ভোটে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চর্চা zoom
Advertisement

দীপঙ্কর মণ্ডল, গোরক্ষপুর: গোরক্ষপুরের রেল কলোনিতে দীর্ঘদিন কাটানো বাঙালি গিন্নিমায়েদের কাছে এখানে ভূত থাকার গল্প শুনেছি। শেষ দফার ভোটের হালচাল বুঝতে চষে বেড়াচ্ছি উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন কেন্দ্র। কিন্তু এখানেও পিছু ছাড়ছে না বাংলা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে এ রাজ্যের তেরো কেন্দ্রে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘মমতা ভূত’। প্রসঙ্গহীনভাবে উচ্চারিত হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। যোগী নিয়ম করে বলে যাচ্ছেন, তাঁকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফল ভুগতে হবে। প্রার্থীরাও বাঙালি সাংবাদিক পেয়ে মমতার খবর নিচ্ছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন নীতির সমালোচনায় মুখর গো-বলয়। বিজেপির প্রধান বিরোধী এখানে অখিলেশ -মায়া জোট। হাতে গোনা কয়েকটি আসন বাদ দিলে কংগ্রেস ধারে-ভারে পিছিয়ে। তবে অখিলেশের সঙ্গে মমতার সখ্যের খবর জানেন মোদি -যোগীপন্থী নেতারা। আর তাই হয়তো প্রথম পরিচয়েই উঠে আসছে কালীঘাটের টালির চালায় থাকা সেই মহিলার কথা। কলকাতার রিপোর্টারকে পেয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছেন গেরুয়া নেতারা।

[আরও পড়ুন: ‘স্বমেহন করেন?’, মহিলা পাইলটকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিতর্কে কমান্ডার]

দেশজুড়ে প্রধান বিরোধী কংগ্রেস। আর গোরক্ষপুর, বারাণসী, বালিয়া, দেওরিয়া, গাজিপুর, ঘোষী, কুশিনগর, মহারাজগঞ্জ, মির্জাপুর, রবার্টসগঞ্জের মতো কেন্দ্রগুলিতে নিয়ম করে মমতার নিন্দা চলছে। সঙ্গে আছে কমিউনিস্টদের মুণ্ডপাত। বাংলার শাসকদল এবং সিপিএমের প্রতি এত বীতশ্রদ্ধ হওয়ার কারণ কী? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল একদম নিচু স্তরে। বারাণসীর স্নাতক যুবকেরা মনে করেন, প্রশ্নহীন আনুগত্যই নাকি ভারতবর্ষকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। একটি বক্তব্যের যে ভিন্ন কোনও স্বর থাকতে পারে তা মানতে নারাজ উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দারা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

গোরক্ষপুরে দীনদয়াল উপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন পড়ুয়ার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তাঁদের কথা থেকে উঠে এল, এখানে তর্ক প্রায় নেই। শাসক যা বলে তা মাথা পেতে নেয় আমজনতা। তাঁদের মতে, বিরোধ উন্নয়নকে আটকে দেয়। বস্তুত, পরিকাঠামো থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য এবং শিল্পে প্রভূত উন্নতি করেছে যোগীর রাজ্য। মুসলিম অটো বা ট্যাক্সি চালকরা তাই অবলীলায় বলেন, “যে জিতবে তাকেই ভোট দেব। এ রাজ্যে বিজেপিই বেশিরভাগ আসন পাবে। তাদের চটিয়ে কী লাভ। আর দৃশ্যত কাজ তো হচ্ছে। তাহলে অসুবিধার কী আছে।”

[আরও পড়ুন: ‘বিজেপি নয়, সহানুভূতি কুড়োতে তৃণমূলই মূর্তি ভেঙেছে’, বিস্ফোরক অমিত শাহ]

কিন্তু গণতন্ত্রে সুস্থ বিতর্ক হবে না? চিনের মডেলে কি এ দেশ চলতে পারে? অখিলেশ-মায়া এবং কংগ্রেস নেতারা এই প্রশ্ন তুলছেন। শেষ দফার ভোটে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন সব দলের হেভিওয়েটরা। বিজেপি বিরোধীদের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে যে কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত বক্তব্য পেশ করা যায়। কিন্তু এ রাজ্যে গোরক্ষপুর-সহ উত্তর-পূর্বের জনপদগুলিতে বিরোধিতা মানেই না কি নিজের ক্ষতি। দীর্ঘদিনের এই অভ্যেসের ফলে অনেকে ভুলেই গিয়েছেন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ বলে অভিধানে কোনও শব্দ আছে। অথচ এই জেলায় তো ঘটেছিল চৌরিচৌরা বিদ্রোহের মতো ঘটনা। ব্রিটিশ পুলিশের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একসঙ্গে থানা ঘেরাও করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন চৌরিচৌরা গ্রামের বাসিন্দারা। যার জেরে গান্ধীজি সত্যাগ্রহ আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিলেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অত্যন্ত উজ্জ্বল সেই ঘটনা মনে করিয়ে দিলাম বিপিন তিওয়ারি নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে। যদিও তিনি যোগীর অন্ধ ভক্ত। তাঁর কথায়, “দেখুন আমরা এখানে শান্তিতে আছি। আপনাদের রাজ্যের মতো অশান্তি এখানে হয় না। ভোটের দিন কারও রক্ত এখানে ঝরে না। যোগীজিকে সবাই মুসলমান বিরোধী বলেন। কিন্তু বলুন তো একটা দাঙ্গাও এখানে হয়েছে?” যোগীর প্রতি আনুগত্যের কারণও জানালেন বিপিন। দু’বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তাঁর পা বাদ যায়। তারপর টানা আটমাস যোগীই তাঁকে দিল্লিতে এইএমস -এ রেখে বিনামূল্যে চিকিৎসা করান। এখন যোগী নিজের হাতে তাঁকে বিদ্যুতচালিত তিনচাকার সাইকেল দিয়েছেন। তাতে চড়ে রাস্তায় রাস্তায় বিজেপির প্রচার করছেন বিপিন। রমেশ ত্রিপাঠী, ধর্মদেব চৌহান, বীর সিং সোনকার, বিষ্ণু গুপ্তার মতো ঝঁকঝঁকে মানুষ ব্যক্তি যোগীর উপকারের কথা বলে চলেন।

[আরও পড়ুন: ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় শহরের সংস্থার ৪৮৩ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত]

গোরক্ষপুরের আলিশান বিজেপি কার্যালয়ে রামজনম সিং, শশাঙ্ক গুপ্তা, শিবম দ্বিবেদীর মতো ঝানু গেরুয়া নেতাদের বললাম, আচ্ছা আপনারা ক্ষমতায় থাকলে লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্রিজ খুলে দেখেন ভিতরে কী মাছ বা কী মাংস আছে। এটা কেন? প্রখর রোদের থেকেও বেশি তেজ দেখিয়ে তাঁদের উত্তর, ওসব ফালতু কথা। এখানে কোথাও জোর করে কিছু হয় না। আপনার রাজ্যে জয় শ্রীরাম বললে না কি জেলে যেতে হয়? পেশাদারি কায়দায় এড়িয়ে পালটা প্রশ্ন করলেও তাঁরা থাকেন সেই বাংলা এবং মমতা প্রসঙ্গে।  পালটা প্রশ্নে মুখর গোরক্ষপুরিয়ারা বলেন, আপনার রাজ্যে ফেসবুকে কিছু লিখলেও তো গ্রেপ্তার করা হয়। অসহিষ্ণুতা ইস্যু থেকে আলোচনা নিয়ে যেতে হয় অন্য দিকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.