৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

স্রেফ ইচ্ছাপূরণের জন্য আস্ত ছুরি খেয়ে ফেললেন যুবক! প্রাণ বাঁচাতে বিরল অস্ত্রোপচার এইমসে

Published by: Sulaya Singha |    Posted: July 28, 2020 8:59 am|    Updated: July 28, 2020 9:09 am

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চোখের সামনে রাখা ২০ সেন্টিমিটারের একটা ছুরি খেতে খুব ইচ্ছা করছিল। তাই দেরি না করে মনের ইচ্ছাটি পূরণ করে ফেলেন ২৮ বছরের এক যুবক। শরীরের মধ্যে সোজা ঢুকে পড়ে সেই ছুরি। তারপর প্রত্যাশিতভাবেই হাজির হতে হল হাসপাতালে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার বিরল অস্ত্রোপচারের পর সেই যুবকের পেট থেকে ছুরিটি বের করতে সফল হলেন এইমসের (AIIMS) চিকিৎসকরা।

শুনতে অবাক লাগলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে হরিয়ানায়। পাওয়ালের ওই যুবক পেশায় সাফাইকর্মী। মাঝে মধ্যেই মাদক সেবন করে থাকেন। মাস দেড়েক আগে লকডাউনের মধ্যে হঠাৎ একদিন চিকিৎসককে নিজেই এসে তিনি জানান, রান্নাঘরে ঢুকে নাকি তাঁর ছুরি খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল! প্রথমে চিবিয়ে খেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হচ্ছে না দেখে সোজা জল দিয়ে গিলেই ফেলেন। মজার বিষয় হল, এরপর একমাস কেটে যায় বেশ স্বাভাবিকভাবে। পেটে কোনও ব্যথা কিংবা শরীরে অস্বাভাবিক কিছুই অনুভব করেননি তিনি। দেহের ভিতর আস্ত একটি ছুরি নিয়েই ঘুরে বেরিয়েছেন, কাজ করেছেন। তবে তারপর থেকে ধীরে ধীরে খাবার খেতে সমস্যা শুরু হয়। কমতে থাকে ওজন। জ্বর, পেটে যন্ত্রণা ক্রমেই অসহ্য আকার ধারণ করে। স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে দিল্লির সাফদারজঙ্গ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন।

[আরও পড়ুন: শাড়ি পরে স্যানিটাইজার হাতে দাঁড়িয়ে রোবট, ভাইরাল ভিডিওটি না দেখলেই মিস]

সেখানেই এক্স-রে করে দেখা যায়, লিভারের ভিতর ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে সেই ছুরি। চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় নেই। তাঁকে AIIMS-এর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগে পাঠানো হয়। গত ১২ জুলাই সেখানে ভরতি হন ওই যুবক। প্রথমেই করোনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর চিকিৎসা শুরু হয়। সিটি স্ক্যানে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, ছুরিটি লিভারে আটকে পড়ায় সেই অংশের অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ধরনের অস্ত্রোপচার অত্যন্ত বিপদজনক হওয়ায় প্রথমে অ্যান্টি-বায়োটিক দিয়ে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। এরপর শরীরের আভ্যন্তরিণ ক্রিয়াকলাপ স্বাভাবিক রাখতে বসানো হয় দুটি টিউব। এভাবে সাতদিন অতিক্রান্ত হলে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

ড. নিহার রঞ্জন দাসের কথায়, “অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শরীরে থেকে ছুরি বার করতে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা ছিল। এমন অবস্থায় রোগীর প্রাণও যেতে পারে। তবে ১৯ জুলাই তিন ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে ছুরিটি বের করতে সফল হই আমরা।” অদ্ভুতভাবে এটি ফুসফুস, হার্ট অথবা অন্য কোনও অংশকে নষ্ট করেনি।” চিকিৎসকরা আরও জানান, যুবকের মানসিক রোগের কারণেই ছুরি খেয়ে ফেলেছিলেন। সেই জন্য তাঁর কাউন্সেলিংও করা হয়। এমন বিরল অস্ত্রোপচারে সফল হয়ে নজির গড়ল এইমস।

[আরও পড়ুন: ফের ডিজিটাল স্ট্রাইক কেন্দ্রের! নিষিদ্ধ আরও ৪৭ চিনা অ্যাপ, এবার নজরে PUBG]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement