BREAKING NEWS

১০ মাঘ  ১৪২৮  সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

সন্তরূপেণ সংস্থিতা শহরের মাদার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: September 4, 2016 2:40 pm|    Updated: September 4, 2016 2:54 pm

MotherTeresa 's canonisation in Vatican City

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভ্যাটিকান থেকে কলকাতার দূরত্ব ঠিক কতখানি, তা নেহাতই অঙ্কের হিসেব৷ কিন্তু আবেগের নিরিখে, অনুভবের যোগাযোগে এ মুহূর্তে দুনিয়ার দু-প্রান্তের মধ্যে বিন্দুমাত্র দূরত্ব নেই৷ সারা বিশ্বের পথ যেন আজ আক্ষরিকভাবেই মিলেছে রোমে৷ মেলালেন, তিনিই মেলালেন৷ যিনি একদিন এই সুদূর আলবেনিয়া থেকে কলকাতাকেই তাঁর সাধনা তথা কর্মযোগের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন৷ অ্যাগনেস  গোনজা বোয়াজিউ, কলকাতার আদরের মাদার, আজ থেকে ভ্যাটিকানের স্বীকৃতিতে সেন্ট টেরিজা৷

কোন কোন অলৌকিকের জন্য তিনি জনমানসে সন্তরূপেণ সংস্থিতা হলেন, তা আজ আর কারও অজানা নয়৷ যুক্তির পথ যেখানে গিয়ে খেই হারায়, সেখানেই শুরু ভক্তির সরণি৷ মাদারের যাত্রাশুরু সেখান থেকেই৷ সন্ন্যাসিনী থেকে তাঁর গ্লোবাল আইকন হয়ে ওঠা এবং অবশেষে আজ সেইন্টহুডপ্রাপ্তিই তো যেন এক অলৌকিক যাত্রা৷

teresa 1

১৯২৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন৷ তখন কে জানত গোটা ভুবনজোড়া ঘর হবে তাঁর! আর তিনি হয়ে উঠবেন বিশ্বজননী৷ বস্তুত ভারতের মতো দেশ, যেখানে ত্যাগ ও সেবার আদর্শের দীপটি চিরকালই প্রোজ্জ্বল, সেখানেও সেবাধর্মের শিখাটি যুগপোযোগী করে জ্বালিয়ে তোলা সহজ নয়৷ কেননা পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বহু ধর্ম-ভাষার বিভাজন, বহু ভেদাভেদ৷ যেখানে সমাজ কাঠামোয় ধনবৈষম্যও চোখে পড়ার মতো, সেখানে নয়া সময়ের স্থানাঙ্কে সেবা-ত্যাগ-প্রেমের ধর্মটিকে চিহ্নিত করা চাট্টিখানি কথা নয়৷ প্রত্যাশামতোই তাই সমালোচনার কাঁটাও রয়েছে মাদারের যাত্রাপথে৷ কিন্তু অলৌকিক এই যে, কোন মন্ত্রবলে যেন তিনি সেই রক্তক্ষরণ বদলে দিতে পেরেছিলেন স্নেহচ্ছায়ায়৷ রুটির প্রয়োজন ছাপিয়েও জেগে থাকে যে মানবপ্রেমের বাসনা, মাদারের অবস্থান ঠিক সেখানেই৷ ফলে ওই একফালি নীল-সাদা আশ্রয়েই তৈরি হতে পেরেছিল রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা এক পরিসর৷ দেশ পেয়েছিল এক আধুনিক নিবেদিতাকে৷

teresa-2_web

আর কী এই আশ্চর্য সমাপতন!  আজ যখন ১৯ তম তিরোধান দিবসের ঠিক আগের দিনে তাঁকে সেইন্টের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, ততোদিনে তাঁর কর্মক্ষেত্র কলকাতারও রঙও রাজনৈতিক পালাবদলে হয়েছে নীল-সাদা৷ মাদার দেখলে হয়তো খুশি হতেন৷ কিন্তু উপায় কী! তবু তাঁর শহর কলকাতাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অসংখ্য পূর্ণার্থীদের মতো একজন হয়েও, তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি এসেছেন মাদারের শহর থেকে৷ বাংলার প্রতিনিধিদের ব্যাজে তাই লেখা- ‘উইথ হোমেজ ফ্রম দ্য সিটি অফ মাদার, কলকাতা’

Crf3N4BVYAEJH0y

মাদারের সেইন্টহুড উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজে যেতে না পারলেও পাঠিয়েছেন সর্বদলীয় প্রতিনিধি৷ সে দলে আছেন খোদ বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ কয়েক লক্ষ মানুষের সঙ্গে আজ এই স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন তাঁরা সকলেই৷  পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য গোড়া থেকেই নিজেকে ভারতের প্রতিনিধি দল থেকে আলাদা করে রেখেছেন৷ কেননা মাদার হাউসের আমন্ত্রণেই তিনি পৌঁছেছেন রোমে৷ তবে সেটাই সব নয়৷
নেপথ্যে রয়ে আছে কলকাতার প্রতি তাঁর নিখাদ টান৷ মাদারের দৌলতে আজ যে সারা বিশ্ব জুড়ে উচ্চারিত হল পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতার নাম, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই বিরল সম্মানিত মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন তিনি৷ নিঃসন্দেহে তাঁর জন্য তো বটেই, বাংলার ইতিহাসেও এ এক অভাবনীয় সম্মানের দিন৷

বর্ণময় প্রস্তুতির পর্ব সারা হয়েইছিল৷ কাতারে কাতারে মানুষ আজ জমা হয়েছিলেন মাদারের সন্ত উপাধিপ্রাপ্তির মুহূর্তটির সাক্ষী হতে৷ পোপ দ্বিতীয় জন পলের হাত ধরে শুরু হয়েছিল যে কাজ, আজ তা সমাধা করলেন পোপ ফ্রান্সিস৷ শান্ত সমাহিত সেন্ট পিটারস স্কোয়ার জুড়ে আজ প্রায় এক অলৌকিক পরিবেশ৷ এত জনসমাগম অন্তত এ রাজ্যের কোনও রাজনৈতিক সমাবেশেও হয় না৷ আর এটাই যেন অলৌকিক৷ রাজনীতির উদ্দেশ্য যে লোকহিত, তাইই যখন রাজনীতি ছাপিয়ে ব্রত হয়ে ওঠে, তখন এভাবেই ঢল নামে মানুষের৷ এভাবেই পৃথিবীর সব পথ মিশে যায় অনুভবের এক বিন্দুতে৷ সে বিন্দুতে জ্বলে ওঠা মোম-শিখায় জেগে থাকে মানবহিতের প্রার্থনা৷ আর তাকেই বোধহয় দু’হাতে আগলে রাখেন মাদার, সেন্ট টেরিজা৷ সশরীরে তিনি না থাকলেও থেকে যায় তাঁর দর্শন৷ নশ্বর এ পৃথিবীতে এ অমরতাই বা কী কম অলৌকিক!

teresa4_web

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে