অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিকিম ও দার্জিলিঙের পাহাড়ি এলাকার জনজীবন। টানা বৃষ্টিতে শুক্রবার ভোর থেকে গিয়ালশিং জেলার রিম্বি গ্রামের ধস (Sikkim Landslide) নামে। এর জেরে কম বেশি ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ৩০টি বাড়ির মধ্যে ২টি বাড়ি ধসের জেরে পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। গ্যাংটক থেকে এই গ্রামটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে রংপো ও গ্যাংটকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাড়িঘর, সম্পত্তি ও গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এই ধসটি গত ১৩ আগস্টের ধসের ধারাবাহিকতা। ১৩ তারিখের পর জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রায় ৩৫টি পরিবারকে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে রেখেছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, ভূমিধসটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে গ্রামে প্রবেশ করেছে।
আরও পড়ুন:
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছেন। স্থানীয় বিধায়ক শেরিং টি. ভুটিয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ভুটিয়া বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে বর্তমান ভূমিধসের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং রাতের বেলা অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
সিকিম ও পার্শ্ববর্তী দার্জিলিং পাহাড়ের অন্যান্য এলাকায় ভূমিধসের ফলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। গ্যাংটক থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বারডাঙে ভূমিধসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে রংপো ও গ্যাংটকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দার্জিলিং পাহাড়ের কার্সিয়াং মহকুমার মহানদীর কাছে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ভূমিধসের ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ধসের কারণে টয় ট্রেনের লাইনের উপর ধ্বংসস্তূপ জমে রয়েছে। এর ফলে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সকাল থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই টয় ট্রেন পরিষেবা ফের চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরেও পড়ে।
অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির সময় দার্জিলিং জেলার তাকদহ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি দেওয়াল ধসে পড়ে। এই ঘটনায় রংলি-রংলিওট ব্লকের জিংলাম গ্রামের বাসিন্দা নির্মল তামাং আহত হন। পরে তাঁকে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, নিউটাউনে দু’টি বাইকের সংঘর্ষে মৃত্যু নিরাপত্তারক্ষীর
-
দিনের পর দিন টাট্টু ঘোড়ার সঙ্গে যৌনতা! জেলে ব্রিটিশ কিশোর
-
রাজ্যবাসীকে ‘ফেস্টিভ প্যাকেজ’ উপহার খাদ্যমন্ত্রীর! ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে রেশন সামগ্রী
-
খুদে দুর্গা গড়েই চমক! দেশ-বিদেশে পাড়ি কৃষ্ণনগরের কৃশানুর অভিনব শিল্পকর্ম
-
‘তার মানে বিচার হবে’, অভয়া সৎকার মামলা সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পর বললেন মা রত্না