৪ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সোম রায়, অবন্তীপোরা: শ্রীনগরে আসা ইস্তক বেশ অবাক হয়েছিলাম। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শহরের এদিক-ওদিক ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রার্থী ফারুক আবদুল্লার সমর্থনে কয়েকটা ছোটখাটো সমাবেশ দেখলেও আশ্চর্যজনকভাবে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি বা পিডিপি-র কোনও মিটিং-মিছিল চোখে পড়েনি।

[বিজেপিতে যোগ দিলেন হেয়ার স্টাইলিস্ট জাভেদ হাবিব]

মনে কেমন একটা ‘কিন্তু কিন্তু’ তখন থেকেই ছিল। যতই বিজেপি-র মতো হিন্দুত্ববাদী দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেকায়দায় পড়ুক দল, তবু রাজে্য শেষ গঠিত সরকারে ক্ষমতায় ছিল তারাই। শ্রীনগরের রাজপথে তো একবারও দেখতে পাইনি জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের শেষ মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে! হতে পারে তিনি নিজের কেন্দ্র নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এমনিতেই দক্ষিণ কাশ্মীরে সারা বছর অতি সতর্ক থাকে প্রশাসন। এই অঞ্চলই যে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর। পুলওয়ামা কাণ্ডের পর এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সতর্কতা বেড়েছে আরও। এমনই অবস্থা যে একটি কেন্দ্রে তিন দফায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে অঞ্চলের সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে হয়তো একটু বেশিই ব্যস্ত মেহবুবা।

কিন্তু তাও দ্বিতীয় দফার প্রচারের লাস্ট ল্যাপে একবারের জন্যও আসবেন না রাজধানীতে? দলের প্রার্থীর হয়ে ভোটভিক্ষা করবেন না শ্রীনগর কেন্দ্রের ভোটারদের কাছে? অবাক হওয়া তখনও শেষ হয়নি।

১৮ এপ্রিল মিটে গিয়েছে শ্রীনগরের ভোট পর্ব। ভেবেছিলাম এবার থেকে অনন্তনাগে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়বেন এনসি-র দুই সর্বময় নেতা ফারুক আবদুল্লা ও ওমর আবদুল্লা। কিন্তু কোথায় কী? হাজার প্রতিবাদ, অতর্কিত হানার মাঝেও যেখানে মেহবুবা নিজের প্রচার চালাচ্ছেন, সেখানে কোথায় এনসি?

প্রথম প্রথম ভাবছিলাম কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা হওয়াতেই হয়তো এই কেন্দ্র নিয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না এনসি। কিন্তু অনন্তনাগ কেন্দ্রের এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করতেই আস্তে আস্তে স্পষ্ট হয়ে গেল ছবি। আসলে শ্রীনগর ও অনন্তনাগ কেন্দ্রে গোপন আঁতাত হয়েছে এনসি ও পিডিপির। ঠিক হয়েছে শ্রীনগর কেন্দ্রে বেশি জোর দেবে না পিডিপি। যাতে ফারুক আবদুল্লা হাসতে হাসতে জিতে যেতে পারেন। এর পরিবর্তে অনন্তনাগ কেন্দ্রে মেহবুবার জয়ের পথে কাঁটা হবেন না আবদুল্লা পিতা-পুত্র।

কিন্তু কেন এনসি ও পিডিপি-র এই ‘গোপন আঁতাত’?

আসলে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফা করতে চেয়েছিল এনসি। জম্মু ও উধমপুর। এই দুই আসনে প্রার্থী দেয়নি তারা। বদলে কংগ্রেসকে বলা হয়েছিল কাশ্মীরের তিন আসন ছেড়ে দিতে। কিন্তু শ্রীনগর ছাড়া বাকি দুই আসনেই প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে ‘শিক্ষা’ দিতেই নাকি এনসি-র এই সিদ্ধান্ত!

বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে ত্রিমুখী লড়াই হলে অনন্তনাগে জিতে যেতে পারে কংগ্রেস। এমনিতে এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার খুবই কম। তাই লড়াই থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে এনসি। আসলে হাওয়া যতই মেহবুবা মুফতির উল্টোদিকে থাক, তবু ঘরের কেন্দ্রে তাঁর দখল বেশ মজবুত। কংগ্রেসের হাত যাতে শক্ত না হয়– তাই নাকি এই ‘সমঝোতা’ হয়েছে দুই দলের।

২৩ তারিখ, তৃতীয় দফার নির্বাচন পর্যন্ত যা খবর, তাতে জম্মু কেন্দ্রে কংগ্রেস ও উধমপুরে বিজেপির জেতা অনেকটা নিশ্চিত। লাদাখে এবার বিজেপির জেতা মুশকিল। গতবার তাদের জয়ী প্রার্থী দল ছেড়েছেন। সম্ভবত নির্দলে দাঁড়াবেন। এই পরিস্থিতিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী লাদাখে অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছে কংগ্রেস। তাই নিজেদের লড়াইয়ে কোনওভাবে অনন্তনাগে কংগ্রেস জিতে গেলে ছয়ের মধ্যে তিনটি আসন পেয়ে যাবে তারা। সেক্ষেত্রে দুর্বল হবে কাশ্মীরি দুই দলের জোর। তা রুখতেই এই ‘সমঝোতা’।

[দুর্ঘটনা ঘিরে তৃণমূলের ‘দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ’ বেলুড়ে, থানার ভিতরেই চলল গুলি]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং