Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Russian oil

‘যেখানে সস্তা, সেখান থেকেই কিনব’, রুশ তেল ক্রয়ে ‘অনুমতি’র মার্কিন দাবি ওড়াল ভারত

আগামী ৩০ দিনে রুশ থেকে তেলের আমদানি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। যার অর্থ, ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আমদানি এখন হরমুজ ক্ষেত্রের বাইরে থেকে আসবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২৬, ১৭:২৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২৬, ১৭:২৫

options
link
‘যেখানে সস্তা, সেখান থেকেই কিনব’, রুশ তেল ক্রয়ে ‘অনুমতি’র মার্কিন দাবি ওড়াল ভারত zoom
রুশ তেল ক্রয়ে 'অনুমতি'র মার্কিন দাবি ওড়াল ভারত।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা নাকি ভারতকে রাশিয়ার থেকে ৩০ দিনের জন্য তেল কেনার ‘অনুমতি’ দিয়েছে। এই ঘটনায় বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই এই ইস্যুতে মুখ খুলল নয়াদিল্লি। নিজেদের পুরনো অবস্থান আবারও স্পষ্ট করে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, ‘দেশের স্বার্থে যেখানে সস্তায় তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তেল কিনবে ভারত। উৎস বদলালেও সাপ্লাইয়ে কোনও প্রভাব পড়বে না।’

মার্কিন দাবি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মাঝেই শনিবার সকালে ‘প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো’ বা ‘পিআইবি’র তরফে সোশাল মিডিয়ায় এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে জানানো হয়েছে, ‘হরমুজ দেশগুলিতে উত্তেজনা চললেও তার প্রভাব ভারতের উপর কোনওভাবেই পড়বে না। কারণ, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। তাছাড়া, ভারত কারও উপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের তৈল আমদানির ক্ষেত্রকে অনেক বেশি বাড়িয়েছে। আগে যা ২৭ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তা বেড়ে এখন ৪০ হয়েছে। ভারত সেখান থেকেই তেল কেনে যেখানে সস্তায় পাওয়া যায়।’

Advertisement

ভারত কারও উপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের তৈল আমদানির ক্ষেত্রকে অনেক বেশি বাড়িয়েছে। আগে যা ২৭ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তা বেড়ে এখন ৪০ হয়েছে।

এর পাশাপাশি রুশ তেল প্রসঙ্গে পিআইবির তরফে জানানো হয়েছে, ‘আগামী ৩০ দিনে রুশ থেকে তেলের আমদানি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। যার অর্থ, ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আমদানি এখন হরমুজ ক্ষেত্রের বাইরে থেকে আসবে।’ সরকারি বয়ান অনুযায়ী, ‘ভারতের উন্নত রিফাইনারি বা তেল পরিশোধন ব্যবস্থা বিশ্বের নানা ক্ষেত্র থেকে আসা কাঁচা তেলকে সহজেই জ্বালানি তেলে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। অর্থাৎ উৎস বদল হলেও সাপ্লাইয়ে কোনও প্রভাব পড়বে না। যার অর্থ ভারতকে আর কারও উপর নির্ভর করতে হবে না।’

উল্লেখ্য, ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারবে ভারত। সম্প্রতি নাকি এই ‘অনুমতি’ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই বিরোধীদের খোঁচার মুখে পড়তে হয়েছে মোদি সরকারকে। প্রশ্ন উঠেছে, আমেরিকা কী করে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে ‘অনুমতি’ দিতে পারে? কিন্তু সত্যিই কি এমন ‘অনুমতি’ দিয়েছে ওয়াশিংটন? নাকি এই ধারণাটায় রয়ে যাচ্ছে এক ধরনের ভ্রান্তি?

আগামী ৩০ দিনে রুশ থেকে তেলের আমদানি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। যার অর্থ, ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আমদানি এখন হরমুজ ক্ষেত্রের বাইরে থেকে আসবে।

রিপোর্ট বলছে, ভারত তাদের মোট তেলের প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশই মেটায় আমদানি মারফত। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির হিসেব বলছে, রাশিয়া এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহকারী। দৈনিক ১০ লক্ষ ব্যারেল মস্কো থেকে আমদানি করে নয়াদিল্লি। অর্থাৎ দেশের তেল আমদানির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই আসছে রাশিয়া থেকে। এই ফেব্রুয়ারিতেও। কেবল এই পরিসংখ্যানই ‘অনুমতি’র ধারণাকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। যদি সত্যিই রাশিয়া থেকে তেল কিনতে আমেরিকার ‘অনুমতি’ নিতে হত, তাহলে এই বিপুল পরিমাণে রুশ তেল আমদানি সম্ভব হত না!

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারতের কাছে রুশ তেলের আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। কেননা তা পাওয়া যাচ্ছিল আকর্ষণীয় ছাড়ে। এই পরিস্থিতিতেও আমেরিকার সঙ্গে এই নিয়ে কথা চালিয়ে গিয়েছে ভারত। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলির সঙ্গেও চালিয়েছে আলোচনা। আসলে বৃহত্তর অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে কূটনীতির অন্যতম বিষয়ই হল এই ধরনের বাণিজ্য-দরাদরি। ফলে এক্ষেত্রে ‘অনুমতি’ শব্দটি একেবারেই ভ্রান্তির। ভারত নিজেদের অবস্থান বারবার পরিষ্কার করে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে এমন ভ্রান্তির কোনও জায়গা নেই। এমনই মনে করে ওয়াকিবহাল মহল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.