বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত, কান্নুর, কেরল: কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্য নিয়ে ফের আড়াআড়িভাবে বিভক্ত বঙ্গ ও কেরল সিপিএম। বাংলার কমরেড কুলের নেতাদের সব আশায় জল ঢাললেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan)। অনেক ক্ষেত্রেই বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের ফারাক নেই বলে বাংলার নেতাদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেন তিনি। কেরল লবির চাপে বাংলা চিড়েচ্যাপটা হচ্ছে বুঝে ময়দানে নেমে সাময়িক সামাল দেন সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি (Sitaram Yechuri)।
বুধবার পার্টি কংগ্রেসে বর্ষীয়ান পলিটব্যুরোর সদস্য রামচন্দ্রন পিল্লাই পতাকা উত্তোলন করে কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতা বিতর্কে পিনারাই বিজয়নদের চমকে দেন। বিজেপি বিরোধিতায় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে পার্টি কংগ্রেসের (CPIM Party Congress) হাত ধরবে বলে সাফ জানান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি জানান, জোট গঠনে কংগ্রেসকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বিজেপি বিরোধী সমস্ত আঞ্চলিক দলকে এক মঞ্চে আনার দায়িত্ব সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীদের নিতে হবে। এখনই আলোচনা শুরু করার প্রয়োজন বলে জানান।
[আরও পড়ুন: শক্তি কমলেও জৌলুস কমেনি সিপিএমের, পার্টি কংগ্রেসে খরচের বহর চমকে দেবে]
পিল্লাই (Ramchandran Pillai) কেরলের নেতা হয়েও কেন এমন অবস্থান নিলেন প্রশ্ন উঠছে। কারণ কেরলে চিরকালই বামেদের প্রধান শত্রু কংগ্রেস। পিল্লাইয়ের বক্তব্যে বঙ্গ সিপিএমের নেতারা উল্লসিত হলেও জল ঢেলে দেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। খানিক পরেই বঙ্গ নেতাদের মুখে ছাই দিয়ে বিজয়ন জানান, অর্থনীতি ও বিদেশনীতিতে বিজেপির (BJP) সঙ্গে কংগ্রেসের ফারাক নেই। বিজেপি সাংবিধানিক সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর বার বার আঘাত করছে। কংগ্রেসও (Congress) কলঙ্কমুক্ত নয়। তারাও সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বারবার আঘাত করেছে। কেরলের প্রথম বাম সরকার কে অগণতান্ত্রিকভাবে কংগ্রেস ফেলে দিয়েছিল বলে প্রতিনিধিদের স্মরণ করিয়ে দেন মালয়ালি মুখ্যমন্ত্রী। অর্থনৈতিকভাবে কংগ্রেস রাজ্য সরকারগুলির হাত বেঁধে দিয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।
[আরও পড়ুন: সর্বোচ্চ শাস্তির মেয়াদ পার, ইডি মামলায় জামিন সারদা ও রোজভ্যালি কর্তার]
এই মুহূর্তে আরব সাগরের পাড়ে একমাত্র বাম রাজ্যের সরকার ও পার্টির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বিজয়নের হাতে। কংগ্রেস নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে দক্ষিণী নেতারা বিজয়নের পাশে দাঁড়াবেন। এ ব্যাপারে কোনও সংশয় নেই বঙ্গের কমরেডকুলের নেতাদের। পার্টি কংগ্রেসের শুরুতেই রাজনৈতিক রণকৌশলের লাইন বেলাইন হচ্ছে। উপলব্ধি করে ময়দানে নামেন ইয়েচুরি। কংগ্রেসের নাম না করলেও তিনি জানান, এই মুহূর্তে বিজেপিকে পরাজিত করতে পার্টির শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি সমস্ত গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দলকে একত্রিত করতে হবে। সীতারামের বক্তব্যে সাময়িক স্বস্তি মিললেও কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বঙ্গ সিপিএমের (CPM) আশায় জল ঢেলে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা বিমান বসু-সূর্যকান্ত মিশ্রদের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার বিকেলে বৈঠকে বসে বঙ্গ সিপিএম। চাঁচাছোলা যুক্তিতে মালয়ালিদের জব্দ করতে পারবে এমন বক্তার খোঁজ শুরু হয়।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার