নির্বাচন কমিশনে ঘোরতর ভিন্নমতের পরিস্থিতি তৈরি হয়! অপর দুই কমিশনারের বক্তব্য উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই প্রতিবেদন ঘিরে দেশজুড়ে তুঙ্গে চর্চা। এর মধ্যেই গোয়ার ৯৭ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করা নিয়ে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমটিরই নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৭ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করার জন্য ৭ দিনে আট বার ইমেল করেছিলেন গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)। কিন্তু কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না একবারও উত্তর দেননি।
নতুন প্রতিবেদনে দাবি, ভোটার তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়া ৯৭ জনের নামই তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকায় ছিল। যদিও কমিশনের সময়সীমার মধ্যেই নথিপত্র জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আর্জি জানান তাঁরা। এরপর নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-রা ওই ৯৭ জনের ক্ষেত্রে সবুজ সঙ্কেতও দেন। অভিযোগ, এরপরেও কমিশনের ইসিআইনেট সফ্টওয়্যারে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ওই ৯৭ জনের নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮টি মেল পাঠান কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নাকে। যদিও উলটো দিক থেকে উত্তর মেলেনি বা কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। সীমাকে পাঠানো ইমেলে বলা হয়, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে বাধা দিতে পারে না। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অনুসরণ করার ব্যবস্থা করা হোক।” যদিও কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বুধবার সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বিস্ফোরক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনে ঘোরতর ভিন্নমতের পরিস্থিতি তৈরি হয়! অপর দুই কমিশনারের বক্তব্য উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের লিখিত আপত্তি জানিয়েছিল দুই নির্বাচন কমিশনার। ভোটার তালিকায় নতুন নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া, বাদ দেওয়া নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় সংযোজনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর সম্মতি ছিল না।
এরপরেই ভোটচুরি নিয়ে সরব হয় কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। বৃহস্পতিবার সংবিধান হাতে সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, “দেশ বিরোধী কাজ করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। ভোট কেড়েছেন মানেই দেশদ্রোহী। অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে। সব ফাঁস করব আমরা। ” এখানেই না থেমে লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের সময়েও আপত্তি তুলেছিলাম। গণতন্ত্রের উপর এত বড় আক্রমণ আগে হয়নি। ভোটজালিয়াতি নিয়ে ছেড়ে কথা বলবে না কংগ্রেস। কারণ ভোট কাড়া হচ্ছে মানে গণতন্ত্রকেও ধ্বংস করা হচ্ছে।” জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে রাহুল বলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটচুরি হয়েছে, আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত।” এদিকে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ নিয়ে আসরে নেমেছে জেন-জিদের দল ককরোচ জনতা পার্টিও। তারাও সাংবাদিক সম্মেলন করে অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি করেছে।
সর্বশেষ খবর
-
ন’মাস ধরে যৌন নিগ্রহের শিকার! নাবালিকার সন্তান প্রসবের পর কু-কীর্তি ফাঁস, এন্টালিতে গ্রেপ্তার যুবক
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে করবে আদানিরা! শুভেন্দু সরকারের উদ্যোগে বঙ্গ পর্যটনে নতুন দিগন্ত
-
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা, অপসারণের দাবিতে এবার সংসদের দু’কক্ষেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব!
-
দুধের তৈরি না হলে বলা যাবে না ‘পনির’, ভেজালের রমরমা রুখতে কড়া নিয়মের পথে কেন্দ্র
-
পুজোয় বাঙালির পাতে পড়বে না পদ্মার ইলিশ! রুপোলি শস্য রপ্তানিতে মেলেনি ছাড়পত্র