দিল্লিতে এআই সম্মেলনে ‘নগ্ন’ প্রতিবাদ করায় গ্রেপ্তার হয়েছেন যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব। এই ঘটনায় ফুঁসে উঠলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। উদয়ের গ্রেপ্তারির নিন্দা জানিয়ে তিনি বললেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা আমাদের অধিকার। আমাদের বব্বর শেরের পাশে আছি।”
এআই সম্মেলনে অর্ধনগ্ন হয়ে প্রতিবাদের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই ঘটনায় উদয়ও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, অর্ধনগ্ন প্রতিবাদের অভিযোগে থানায় ডেকে জেরা করা হয় উদয়কে। অন্তত ১৫ ঘণ্টা ধরে চলে প্রশ্নের পালা। কিন্তু যুব কংগ্রেস নেতা তদন্তকারীদের সাহায্য করেননি বলেই পুলিশের দাবি। এমনকি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও আনা হয়েছে উদয়ের বিরুদ্ধে। তারপরই মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুন:
পুলিশের এহেন পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী প্রবণতা এবং কাপুরুষতার লক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছেন রাহুল। উদয়ের গ্রেপ্তারির নিন্দা জানিয়ে তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় এবং অন্যান্যরা দেশের সামনে সত্য তুলে ধরেছেন। কমরেডদের গ্রেপ্তারি স্বৈরাচারী প্রবণতা এবং কাপুরুষতার প্রমাণ।’ রাহুল আরও লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আমাদের ঐতিহ্য। এটি আমাদের রক্তে মিশে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ প্রতিটি ভারতীয়ের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি যুব কংগ্রেসে আমার বব্বর শের কমরেডদের জন্য গর্বিত। দেশের স্বার্থে তাঁরা আপোস করা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে তাঁদের আওয়াজ তুলেছেন।’
शांतिपूर्ण विरोध हमारी ऐतिहासिक धरोहर है। यह हमारे खून में है और हर भारतीय का लोकतांत्रिक अधिकार है।
मुझे युवा कांग्रेस के अपने बब्बर शेर साथियों पर गर्व है, जिन्होंने ‘COMPROMISED PM’ के खिलाफ निडर होकर देश के हित में आवाज़ उठाई है।
अमेरिका के साथ हुए Trade Deal में देश के…
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) February 24, 2026
এই প্রতিবাদকে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও। স্পষ্ট বলেন, ” আপনারা তো নগ্নই, নতুন করে জামা খোলার কি প্রয়োজন ছিল?”
উল্লেখ্য, এআই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বহু অতিথি এবং বক্তা ছিলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ থেকে শুরু করে চ্যাটজিপিটি প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান-সকলেই ছিলেন ওই সম্মেলনে। সেখানেই প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেন কয়েকজন। ‘নরেন্দ্র মোদী কমপ্রোমাইজড’ লেখা টি-শার্ট খুলে আদুল গায়েই বিক্ষোভ চলে। সম্মেলনে উপস্থিত আমজনতার একাংশ এর প্রতিবাদ জানালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। পরের দিনই দিল্লি পুলিশ দাবি করে, যুব কংগ্রেস কর্মীদের এহেন প্রতিবাদের নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে।
ঘটনার পরদিন থেকেই শুরু হয় গ্রেপ্তারি। আদালতে তদন্তকারীদের বক্তব্য, “নেপালে যে জেন জি আন্দোলন হয়েছিল, তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বড় ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। অনেক ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও সংগ্রহ করা দরকার। এটা ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” এই প্রতিবাদকে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও। স্পষ্ট বলেন, ” আপনারা তো নগ্নই, নতুন করে জামা খোলার কি প্রয়োজন ছিল?” যুব কংগ্রেসের এহেন আচরণের প্রতিবাদ করেছে ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য দলগুলিও। দিল্লির ওই সম্মেলন নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে গিয়ে যেভাবে বিদেশি অতিথিদের সামনে নিজেদের তুলে ধরল, তা দেশের পক্ষে অত্যন্ত অপমানজনক, মেনে নিচ্ছে বিরোধী শিবির।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফের রক্তাক্ত নানুর! দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে চলল গুলি, মৃত ১, গ্রামে মোতায়েন পুলিশ
-
‘ভয়ংকর রকম কমে গিয়েছে’, ভারতের জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মাস্কের
-
সিএবিতে ‘দাদাগিরি’, প্রভাব খাটিয়ে জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান! গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
-
এবার গরমের ছুটি! বর্ষার আগেই ঝেঁপে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কলকাতায় কালবৈশাখীর সতর্কতা
-
স্ট্যালিন আউট, বিজয় ইন! ইন্ডিয়া জোটে চমকের সম্ভাবনা, কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে পত্রবোমা সিপিএমের