Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
live-in Relationship

৪৯৮-এ ধারায় লিভ-ইনে থাকা মহিলারাও পাবেন আইনি সুরক্ষা! ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

গার্হ‌স্থ‌‌্য হিংসা আটকানোর ক্ষেত্রে বিবাহিত মহিলা এবং ‘বিবাহের মতো’ লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের আলাদা চোখে দেখার কোনও যুক্তি নেই বলেও শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১৩:৩৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১৩:৩৮

options
link
৪৯৮-এ ধারায় লিভ-ইনে থাকা মহিলারাও পাবেন আইনি সুরক্ষা! ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

প্রেমে আর যুদ্ধে সবই চলে, সবই সঠিক–বহু প্রাচীন প্রবাদ। কিন্তু আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ প্রেমের সম্পর্কে যুদ্ধ চলবে না। মানে কোনও প্রকার মারপিট, হিংসা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না– বলছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিয়ের পাশাপাশি লিভ-ইন সম্পর্ক (live-in Relationship) বর্তমানে ‘জল-ভাত’। বিয়ের আইনি জটিলতা এড়িয়ে একত্রবাসের সুবিধাই লিভ ইন সম্পর্কের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। এবার তার সঙ্গে জুড়ছে আইনি সুরক্ষা। লিভ-ইনে থাকা মহিলার উপর যদি পুরুষসঙ্গী বা তাঁর পরিবার অত্যাচার চালায়, তবে সেই মহিলাও এবার থেকে আইনি সুরক্ষা পাবেন। এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

Advertisement

আদালতের মতে, আইনত বিবাহিত মহিলারা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সুরক্ষার অধিকার ও সুযোগ পাবেন, অথচ বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে গড়ে ওঠা লিভ-ইন সম্পর্কের মহিলারা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, তা হতে পারে না। তেমনটা ঘটলে তা ‘সাম্যের অধিকারকে’ আঘাত করে।

আইন মোতাবেক বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে থাকা মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশ কয়েক বছর আগে তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় সাজার নিদান দেওয়া হয়– বর্তমানে যা ভারতীয় ন‌্যায়সংহিতার ৮৫ ও ৮৬ ধারার অধীন। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস‌্যদের দ্বারা নির্যাতনের বিরুদ্ধে, গার্হ‌স্থ‌‌্য হিংসার ক্ষেত্রে এই আইনেই সুরক্ষা পান মহিলারা। এবার থেকে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলারাও সেই সুবিধার আওতায় এলেন। এক মামলার শুনানিতে এই মত জানিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

কর্নাটকের বাসিন্দা এক ব‌্যক্তির বিরুদ্ধে হিংসা ও অত‌্যাচারের অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর লিভ-ইন পার্টনার। কর্নাটক হাই কোর্ট ওই ব‌্যক্তিকে দোষী সাব‌্যস্ত করে। কিন্তু ‘বিয়ে হয়নি’ এই যুক্তি দেখিয়ে গার্হ‌্যস্থ হিংসার অভিযোগ তাঁর উপর প্রযোজ‌্য নয়, এই দাবিতে শীর্ষ আদালতে পালটা অভিযোগ দায়ের করেন অভিযুক্ত। কিন্তু হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রেখে লিভ ইনকেও বাড়তি মান‌্যতা দিল কোর্ট। তবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন কোটেশ্বর সিং এবং বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, সব লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। কেবল যে সব সম্পর্কে ভবিষ্যতে বিয়ের স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা প্রতিশ্রুতি ছিল, সেখানেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে।

আদালতের মতে, আইনত বিবাহিত মহিলারা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সুরক্ষার অধিকার ও সুযোগ পাবেন, অথচ বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে গড়ে ওঠা লিভ-ইন সম্পর্কের মহিলারা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, তা হতে পারে না। তেমনটা ঘটলে তা ‘সাম্যের অধিকারকে’ আঘাত করে। সুপ্রিম বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ৪৯৮এ ধারার মূল লক্ষ্য স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার ও মানসিক যন্ত্রণার হাত থেকে সমস্ত মহিলাকে সুরক্ষা দেওয়া। তাই কেবল আইনি বিয়ের পরেই অত্যাচার হতে পারে, তার আগে নয় এমন ভাবনা ভুল বলে জানিয়েছে আদালত। গার্হ‌স্থ‌‌্য হিংসা আটকানোর ক্ষেত্রে বিবাহিত মহিলা এবং ‘বিবাহের মতো’ লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের আলাদা চোখে দেখার কোনও যুক্তি নেই বলেও শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.