‘হাউস ওয়াইফ’ যদি হতে পারে, তবে ‘হাউস হাজবেন্ড’ কেন হতে পারে না? অর্থাৎ, স্ত্রী যদি বাড়িতে থেকে ঘর সামলাতে পারেন, তাহলে স্বামী কেন পারবেন না? সম্প্রতি এক মামলায় এই প্রশ্নই তুললেন মাদ্রাজ হাই কোর্টের (Madras High Court ) বিচারপতি। চিরাচরিত অচলায়তন ভাঙার পক্ষে সওয়াল করে আদালতের মত, অতীতের এই সব রীতি বদলানোর সময়ে এসেছে এখন।
এক চিকিৎসক দম্পতির বিচ্ছেদ মামলার শুনানি চলাকালীন হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “সমাজে যদি গৃহবধূর ভূমিকা থাকতে পারে তাহলে গৃহস্বামীর ভূমিকাও সমানভাবে স্বাভাবিক হতে পারে।” ভারতের সামাজিক ব্যবস্থা ও দাম্পত্য জীবনের ভারসাম্যের উপর জোর দিয়ে আদালত বলে, “আমাদের সংস্কৃতিতে পরিবারই সমাজের মৌলিক একক। পরিবার চালানোর জন্য অর্থ উপার্জনের দায়িত্ব এবং সংসার পরিচালনার দায়িত্ব, উভয়ই সমান শ্রদ্ধা ও মর্যাদার দাবি রাখে। অনেক সময় মহিলারা বিয়েকে তাঁদের কর্মজীবনে সামনে একটি বাধা হিসেবে দেখতে শুরু করে। যার জেরে সমাজে অবিবাহিত মহিলার সংখ্যা বাড়ছে। এখন স্বামীরা যদি গৃহস্থালীর কাজ ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নিতে শুরু করেন তাহলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। ‘হাউস ওয়াইফ’ বা ‘গৃহবধূ’র উপর বাড়ির সব দায়িত্ব ন্যাস্ত হতে পারে না। পুরুষরাও যদি অবদান রাখেন তবে বিবাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী হবে, পারিবারিক কাঠামো রক্ষা হবে।”
আরও পড়ুন:
অনেক সময় মহিলারা বিয়েকে তাঁদের কর্মজীবনে সামনে একটি বাধা হিসেবে দেখতে শুরু করে। যার জেরে সমাজে অবিবাহিত মহিলার সংখ্যা বাড়ছে।
উল্লেখ্য, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে তিরুভান্নামালাইয়ের এক চিকিৎসক দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার প্রেক্ষিতে। ২০১১ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। সেই সময় তাঁরা দু’জনেই পুদুচেরির এক মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের পুত্র সন্তানের জন্মের পর, স্ত্রী সন্তান পালিনের জন্য বাপের বাড়ি চলে যান এবং স্বামী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়। ২০২০ সালে কোভিড চলাকালীন একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। সেই সময় থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের হয়।
নিম্ন আদালতের পর উচ্চ আদালতে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের আর্জি মঞ্জুর হয়েছে। পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হলেও স্বামী তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য খোরপোষ বাবদ মোট ২.৫ কোটি টাকা দেবেন। এর মধ্যে ৩ মাসের মধ্যে ১.৫ কোটি টাকা দিতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এক বছরের মধ্যে দম্পতির উভয় সন্তানের নামে ৫০ লক্ষ টাকা করে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে মিশে যায় আজান, বাংলার সাড়ে ৩০০ বছরের পুজোয় অটুট সম্প্রীতি
-
মহালয়ায় ইডেনের মেগা ইভেন্টে নেই মোদি! শেষ মুহূর্তে সূচি বদল, থাকতে পারেন কারা?
-
সৌরভের ‘বিগ বস বাংলা’ স্ক্রিপ্টেড? চর্চার মাঝে মুখ খুললেন দ্বিতীয় সিজনের প্রতিযোগী শিলাজিৎ
-
একাই ১৯৮ মুসলিম ভোটারের নাম কাটার আবেদন, বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
-
রেজিস্ট্রেশন, নাম যাচাই না করে নিয়োগ নয়! ভুয়ো চিকিৎসক ধরতে একাধিক নির্দেশিকা রাজ্যের