পোষ্যকে ভালোবেসে কতদূর যেতে পারে মানুষ? পশুপ্রেমীরা নিঃসন্দেহে যেতে পারে বহুদূর। যারা সহজেই পশুপ্রাণীর প্রতি সহমর্মী অনুভব করেন, তাঁরা অনেকেই বলেন যে জীবনসঙ্গী বাছার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে এই বিষয়ে। উলটোদিকের মানুষটি যদি পশুপ্রেমী না হন, তবে সে সংসার টিকবে না কোনওমতেই!
এ ঘটনা উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলার। বাড়ির মেয়ের বিয়ে তাই বুক করা হয়েছিল ফতেহপুর জেলারই খাগা এলাকার একটি গেস্ট হাউস। পাত্রী ১৯ বছরের তনু কেশরওয়ানি। পাত্র ২৫ বছরের সুমিত কেশরওয়ানির সঙ্গে বিয়ের তুমুল তোরজোড় চলছিল পরিবারে। এর আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল যুগল। কানপুরে পরিবারের অনুপস্থিতিতেই এক হয়েছিল চার হাত।
আরও পড়ুন:
সংঘর্ষে অন্তত পাঁচ থেকে আটজন আহত হয়। কনের পরিবারের কয়েকজনের মাথায় গুরুতর চোট লাগে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুই পক্ষও সমঝোতা করতে নারাজ হয়।

তবে এরপর বাড়ির লোক জানাজানি হতে সকলেই স্বচ্ছন্দে এই প্রেম সম্পর্কটি মেনে নেয়। ফলে পরিবারের উপস্থিতিতে জাঁকজমক করে আরও একবার আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন করা হয়। ভালোয় ভালোয় মিটছিল সবই। পর চারটে নাগাদ কনেকে আশীর্বাদের পর গয়না তুলে দেওয়া হয় বরযাত্রীর তরফ থেকে। কিন্তু এসবের মাঝে বাধ সেধেছিল তনুর পোষ্য কুকুরটি। এত আলো-আওয়াজ হইহট্টগোলের মধ্যে ভয় পেয়ে চিৎকার করে যাচ্ছিল ক্রমাগত। শান্ত করার চেষ্টা করেও বিফলে যায় পরিবারের লোকেরা।
কনেপক্ষের অভিযোগ, এই অবস্থায় কুকুরটির চিৎকারে বিরক্ত হয়ে আচমকাই এগিয়ে যায় বরপক্ষের এক ব্যক্তি (Pet dog dispute ends UP wedding)। সজোরে লাথি বসিয়ে দেয় কুকুরটির গায়ে। এই ঘটনায় কনের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শুরু হয় তীব্র বাগ্বিতণ্ডা, যা অল্প সময়ের মধ্যেই মারামারিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষে লাঠি ও চেয়ারও ব্যবহার করা হয়।
সংঘর্ষে অন্তত পাঁচ থেকে আটজন আহত হয়। কনের পরিবারের কয়েকজনের মাথায় গুরুতর চোট লাগে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুই পক্ষও সমঝোতা করতে নারাজ হয়। সবচাইতে বেশি বেঁকে বসে কনে নিজেই। পরে উভয় পরিবার পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে বাতিল করে এবং বিয়ের প্রস্তুতির সময় আদান-প্রদান করা উপহার ও মূল্যবান সামগ্রী ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
খবরটি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে, দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায় নেটনাগরিকেরা। কেউ বলেন, এত সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার মানেই হয় না। অন্যপক্ষ অবশ্য দাবি করেন, কনে সত্যিকারের পশুপ্রেমী হয়ে থাকলে, এই পদক্ষেপই যথার্থ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে সাফল্যের স্বীকৃতি! এবার ‘ম্যাজিশিয়ান’ ভোজিনহার নামে নতুন প্রাণীর নামকরণ
-
ডায়ালিসিস কাণ্ড থেকে ‘শাস্তিমূলক বদলি’! পালাবদলের বাংলায় কলকাতায় ফিরলেন একঝাঁক চিকিৎসক
-
নারীপাচারে বড় সাফল্য পুলিশের! ৭ দিনের মধ্যে রাজস্থান থেকে উদ্ধার মালবাজারের কিশোরী
-
জগন্নাথদেবের প্রিয় মিষ্টি এবার আপনার হেঁশেলে, রথের আগেই শিখে নিন সেরা ৩ রেসিপি
-
হাঁটাও অসম্ভব, জল-কাদায় ভরা ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক যেন চাষের জমি! বিপর্যস্ত যোগাযোগ