Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১৩ জুলাই ২০২৬
Manmohan Singh

‘তাহলে আমি আত্মহত্যা করব’, নির্বাচন কমিশনার কুরেশিকে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন, কেন?

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নির্বাচন কমিশনারকে বলেন, 'নির্বাচন কমিশন শুধু ভারতের গর্বই নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের আত্মা এবং যদি আমরা তা হারাই, তবে আমরা সবকিছুই হারাব।'

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:১২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:১২

options
link
‘তাহলে আমি আত্মহত্যা করব’, নির্বাচন কমিশনার কুরেশিকে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন, কেন? zoom
প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মাঝেই চর্চায় উঠে এল প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশির লেখা বই ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড আই: এ হান্ড্রেড মেমোরিজ, নট এ মেমোয়ার’। যেখানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং সম্পর্কে বেশকিছু আবেগঘন মুহূর্তের কথা তুলে ধরেছেন লেখক। দাবি করেন, ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশের কয়েকজন মন্ত্রী। তখন নির্বাচন কমিশনার কুরেশিকে ডেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি এমনটা ভাবেন, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’ মনমোহন আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শুধু ভারতের গর্বই নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের আত্মা এবং যদি আমরা তা হারাই, তবে আমরা সবকিছুই হারাব।’

কুরেশির বই থেকে জানা যাচ্ছে, এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময়। তৎকালীন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সলমন খুরশিদ মুসলিমদের জন্য চাকরিতে সংরক্ষণ বাড়ানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে সরব হয় বিজেপি। নির্বাচন কমিশনও এটিকে আদর্শ আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে খুরশিদকে তিরস্কার করে। এই পদক্ষেপের পর কংগ্রেসের একাধিক নেতা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়। কমিশনকে স্বেচ্ছাচারী বলে আক্রমণ শানায়। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হরিশ খারের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা উচিত।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নির্বাচন কমিশনার কুরেশিকে ডেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি এমনটা ভাবেন, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’

কুরেশির দাবি অনুযায়ী, পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফোন আসে। তাঁকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। কুরেশির কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছে দেখি খোদ প্রধানমন্ত্রী দরজার কাছে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রী রেগে গিয়ে বলেন, ‘আপনার বক্তব্য, হরিশ আমাকে বলেছেন। আপনি যদি তাই মনে করেন, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।’ যদিও আমার বক্তব্য ছিল কিছু মন্ত্রীর আচরণ নিয়ে, তাঁকে নিয়ে নয়। আমি যে তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করছি, এই ভাবনাটা তার জন্য অসহ্য ছিল। তিনি এক মুহূর্তও তা সহ্য করতে পারেননি। তাঁকে শান্ত করতে আমার বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগেছিল।” তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের যাবতীয় আক্রমণ বন্ধ হয়।

কুরেশি বলেন, ”আমার জীবনে আমি অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, কিন্তু এমন মানুষ খুব কমই ছিলেন যাঁরা ক্ষমতাকে এত সহজে গ্রহণ করতেন, কিংবা এর ভার এত গভীরভাবে অনুভব করতে পারতেন। এমন একটি পেশা, যেখানে দৃঢ় মানসিকতাকেই পুরস্কৃত করা হয়, সেখানে ডঃ মনমোহন সিং ক্ষমতা প্রয়োগে এক বিরল সংবেদনশীলতার জন্য অনন্য হয়ে থাকবেন।”

উল্লেখ্য, এসওয়াই কুরেশি ছিলেন ভারতের ১৭তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ২০১০ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১০ জুন পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর কার্যকালে তিনি ভোটার সচেতনতা, নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়িত হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.