দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, দড়ি টানাটানি পেরিয়ে ভারতের মাটিতে পা রাখলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার দু’পুরে সপারিষদ দিল্লিতে পা রাখেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই কি এবং চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ওয়াং ই। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসদা। আজই প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন জিনপিং।
শেষবার জিনপিং ভারতে এসেছিলেন ২০১৯ সালে। তারপর দু’দেশের সম্পর্ক বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ডোকলামে দু’দেশের দোলাচল, অরুণাচল নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বৈঠকের মূল এজেন্ডায় রাখা হয়েছে, প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সমস্যা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, দু’দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবার মতো ইস্যুকে। এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ও বিভিন্ন কূটনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই ওই বৈঠকের দিকে গোটা বিশ্বের নজর রয়েছে।
আরও পড়ুন:
#WATCH | Delhi: Chinese President Xi Jinping arrives in Delhi to participate in the BRICS Summit 2026.
Union MoS Jitin Prasada received him at the airport. pic.twitter.com/fk77Bq5nmy
— ANI (@ANI) September 12, 2026
তাৎপর্যপূর্ণভাবে জিনপিং ভারতের মাটিতে পা রাখার আগেই চিনা দূতাবাসের তরফে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় চিনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংয়ের জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের পরামর্শ মেনে দুই প্রতিবেশী দেশ কৌশলগত এবং সুদূরপ্রসারী সুসম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাবে। চিনা রাষ্ট্রদূতের বার্তা, “দুই নেতার কৌশলগত নির্দেশে চিন-ভারত ঐক্যবদ্ধভাবে সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টা করবে। কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আমরা ভালো প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পরস্পরের সাফল্যে সাহায্যকারী অংশীদার হিসেবে কাজ করব।”
জিনপিংয়ের এই সফর বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের জন্য মোটেই সুখের নয়। শি জিনপিং ভারতে যাবেন না ধরে নিয়ে ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি বাংলাদেশকে। স্পষ্টভাবে না জানালেও বাংলাদেশের বার্তায় স্পষ্ট ছিল ব্রিকসে তারা যোগ দেবে না। এখন যে চিনের ভরসায় তারেক ব্রিকস বয়কট করলেন, সেই জিনপিং নিজেই আসছেন ভারত। ভারত এবং চিন যদি পারস্পারিক সমস্যা মিটিতে ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে দক্ষিণ সেটা আমেরিকের জন্যও খুব সুখকর পরিস্থিতি হবে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গণেশ পুজোয় তুলসী অর্পণ করলে রুষ্ট হন দেবতা! নেপথ্যে কোন পুরাণ কাহিনি?
-
এবার নেতৃত্ব দেবেন সিরাজ, কোন দলের অধিনায়ক হলেন টিম ইন্ডিয়ার পেসার?
-
আইনি জটেও ভাটা নেই জৌলুসে, বাগবাজারে জোরকদমে শুরু দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি
-
ব্রিকসের মধ্যাহ্নে মহাভোজের আয়োজন! নিরামিষ ভারতীয় পদে বিশ্বনেতাদের রসনাতৃপ্তি
-
অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দাদের রাডারে মাও শীর্ষনেতা আকাশ! নজরে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া হয়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলপথও