BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কলকাতায় করোনায় আক্রান্ত ২১ মাসের শিশু, কোয়ারেন্টাইনে গোটা পরিবার

Published by: Soumya Mukherjee |    Posted: April 19, 2020 10:44 am|    Updated: April 19, 2020 10:54 am

An Images

ছবি: প্রতীকী

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ‌্যায়: পরিবারের কেউ আক্রান্ত নন। তবু কোভিড পজিটিভ হল ২১ মাসের শিশু। দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত ১৬ এপ্রিল শ্লেষ্মার সমস্যার জন্য ওই শিশুকে ভরতি করা হয়। চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় শিশুটির লালারসের নমুনা সোয়াব টেস্টের জন্য পাঠানো হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারপরই তাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তার বাড়ি তিলজলার কাছে উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি এখন স্থিতিশীল। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে পাঠানো হয়েছে রাজারহাটের কোয়ারান্টাইন সেন্টারে।

জানা গিয়েছে, শিশুটির বাবা গত ২৮ মার্চ ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই সংক্রমণ কি না দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় প্রবল উদ্বেগ ছড়িয়েছে চিকিৎসকমহলে। এর আগে তেহট্টের ছ’মাসের একটি শিশু কোভিড আক্রান্ত হয়েছিল। এবার ২১ মাসের শিশু। রাজ্যে এত কম বয়সের রোগী এই প্রথম। এই পরিস্থিতিতে করোনা পরীক্ষায় দ্রুত ফল পেতে ‘ডবল শিফট’-এ লালারস পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সরকার অনুমোদিত যেসব ল্যাবে আক্রান্ত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির লালারসের পরীক্ষা চলছে, শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরকে মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার নির্দেশ, যত দ্রুত সম্ভব ডবল শিফটে সেসব ল্যাবে তা করার ব্যবস্থা হোক।

[আরও পড়ুন: ‘রেড জোন’-এর প্রসূতিকে ফেরানোয় সদ্যোজাতের মৃত্যু, কড়া শাস্তির মুখে স্বাস্থ্যকর্মীরা ]

 

এদিন স্বাস্থ্য ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যসচিব। বলেন, ‘যদি পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা ডবল শিফটে কাজ করতে পারি, তবে দ্রুত রেজাল্ট পাওয়া যাবে। পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। নেগেটিভ হলে তার ব্যবস্থা অন্য।’ যদিও একইসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘মুখ্যসচিব হিসাবে আমি বললাম বলেই এটা চালু হয়ে গেল, তেমনটা নয়। কিছু লজিস্টিক্স সমস্যা রয়েছে। যতটা দ্রুত করা সম্ভব আমরা করছি।’

করোনায় আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা শনিবার আরও দু’জন বেড়েছে বলে জানান মুখ্যসচিব। যার ফলে সরকারি হিসেবে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াল ১২-তে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন। ফলে সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৭৮। যদিও এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। এখন রাজ্যে প্রতিদিন মোট আটটি জায়গায় ৪০০টি করে পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যেই বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে পরীক্ষার অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছে রাজ্য। তা পেয়ে গেলে ল্যাবের সংখ্যা বাড়বে। এর মধ্যে আগামিকাল থেকে মালদহ মেডিক্যালেও করোনার পরীক্ষা শুরু হবে বলেও জানান মুখ্যসচিব।

মুখ্যসচিবের কথায়, ‘রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে এখন নমুনা আসছে। সর্বত্র ল্যাব না থাকার ফলেই নির্দিষ্ট কয়েকটি ল্যাবের উপর চাপ পড়বে।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পরীক্ষার ফল পাওয়া সময়সাপেক্ষ বিষয়। সেই কারণেই ডবল শিফটে পরীক্ষার কাজ করার কথা বলেছি। তাতে পরীক্ষার সময় কম লাগবে।’ এর মধ্যে কেন্দ্র এখনও কিট না পাঠানোয় রাজ্যে র‌্যাপিড টেস্ট শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। কিট এলে র‌্যাপিড টেস্টের জন্য সবরকমভাবে রাজ্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। রাজ্যে বেশ কিছু বেসরকারি ক্লিনিকের আবেদনের ভিত্তিতে তাদের খুলে রাখার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যসচিব।

[আরও পড়ুন: বিজেপি সাংসদদের কাজে বাধার অভিযোগ উড়িয়ে রাজ্যের জবাবি চিঠি, বিস্মিত রাজ্যপাল]

 

রাজ্যে ১০ জেলায় নতুন করে কেউ করোনা আক্রান্ত হননি বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যসচিবের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে কলকাতা এবং হাওড়া থেকেই সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি খবর মিলেছে। একটি পরিসংখ্যান দিয়ে এদিন মুখ্যসচিব জানান, হাওড়ায় ৫৮৯ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৬২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে ৩০০ জনের পরীক্ষা করে ১৮ জনের পজিটিভ এসেছে। একইসঙ্গে জানান, করোনা মোকাবিলায় হাওড়া ও কলকাতায় একটি কম্পোজিট টিম তৈরি করা হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব কলকাতা ও হাওড়ায় কিছু পজিটিভ কেস এসেছে। সে কারণেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা থাকবেন। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নোডাল অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে। যে এলাকায় ২০০-৪০০টির বেশি বাড়ি রয়েছে সেখানেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হুগলির ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানান। প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে পাশের এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের তুলে আনা হচ্ছে। মুখ্যসচিবের কথায়, ‘উত্তরপাড়া থেকে চন্দননগরের মাঝের এলাকা একটু বেশি স্পর্শকাতর। সেখানে মাইক্রোপ্ল্যানিং করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেখা হচ্ছে যাতে খাবারের সমস্যা না হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

এদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পরিস্থিতি সামলাতে একটু কড়া হয়েছে পুলিশ। বারাসত, বনগাঁ, বসিরহাটের বিভিন্ন মোড়ে নাকা চেকিং হয়। বারাকপুর কমিশনারেট এলাকায় রুট মার্চ করে সশস্ত্র পুলিশ। লকডাউন উপেক্ষার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৫৫ জন। হাওড়াতেও এক ছবি। ড্রোনের নজরদারি চালিয়ে গলিপথে গার্ডরেলের ঘেরাটোপ, র‌্যাফের টহলের পাশাপাশি লকডাউন অমান্যকারীদের লাঠিচার্জ পর্যন্ত করার খবর আসে। গ্রেপ্তারির সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৪২-এ। কলকাতায় চিকিৎসাধীন মুর্শিদাবাদের সালারের এক ব্যক্তি ‘করোনা পজিটিভ’ বলে চিহ্নিত হওয়ার পর জেলাজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। বাড়ির লোকজন এবং প্রতিবেশীদের বেশ কয়েকজনকে অস্থায়ী কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বাঁকুড়া মেডিক্যালে এক বালকের মৃত্যুর পর তার দাদু চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে আচমকা ওয়ার্ডের ভিতর ছবি তুলতে শুরু করেন। সেই দেখে কর্মবিরতি শুরু করেন জুনিয়র চিকিৎসরা। কোচবিহারে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। করোনা চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট মিশন হাসপাতালে শনিবার সকালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এর মধ্যে নদিয়ায় ভুল করে করোনা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আইসোলেশনের পরিবর্তে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভরতি করা হয়। তারপরই কৃষ্ণনগর শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের সুপারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ডা. শচীন্দ্রনাথ সরকারকে। নতুন দায়িত্বে আনা হল ডা. দেবব্রত দত্তকে। এর মধ্যে লকডাউন উপেক্ষায় বসিরহাটে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ জনকে।

অন্যদিকে, ভিনরাজ্যে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে এক হাজার করে টাকা দেওয়ার কাজ শুরু করতে চলেছে রাজ্য। কোথাও কার অসুবিধা হচ্ছে, তা জানতে পারলেই স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ‘স্নেহের পরশ’ একটি অ্যাপে প্রয়োজনের কথা ওই শ্রমিকরা জানালেই তার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা হবে। রাজ্যে এই মুহূর্তে ৬৬টি কোভিড হাসপাতাল সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। সেখানে মোট ৭ হাজার ৯৬৯টি আইসোলেশন বেড রয়েছে। কিন্তু, রোগী ভরতির সংখ্যা মাত্র ১৭৮। এরপরই সরকারের তরফে মুখ্যসচিবের আবেদন, ‘কেউ অসুস্থ বোধ করলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসুন। আমাদের সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে। পরিকাঠামোও রয়েছে। যত তাড়াতাড়ি অসুস্থ ব্যক্তি হাসপাতালে আসবেন, সংক্রমণ ছড়ানোর মাত্রা ততই কমবে।’ সরকারি হাসপাতালে এখন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৮ জন। আর বাড়িতে কোয়রেন্টাইনে রয়েছেন ৩৫ হাজার ২০৯ জন।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement