Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১২ জুন ২০২৬
এনআরএসে গাফিলতি

‘রেড জোন’-এর প্রসূতিকে ফেরানোয় সদ্যোজাতের মৃত্যু, কড়া শাস্তির মুখে স্বাস্থ্যকর্মীরা

এনআরএস হাসপাতালের গাইনি বিভাগে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের তালিকা চেয়ে পাঠাল স্বাস্থ্য দপ্তর।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২০, ১০:৪৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২০, ১০:৪৩

options
link
‘রেড জোন’-এর প্রসূতিকে ফেরানোয় সদ্যোজাতের মৃত্যু, কড়া শাস্তির মুখে স্বাস্থ্যকর্মীরা zoom

গৌতম ব্রহ্ম ও অরিজিৎ গুপ্ত: প্রবল প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে হাসপাতালে গেলেও ‘রেড জোন’ হাওড়ার প্রসূতিকে ভরতি নিতে অস্বীকার। বাড়ি ফিরে প্রসবের পরই মৃত্যু হয় সদ্যোজাতের। এমন চূড়ান্ত অবহেলার ঘটনায় এবার স্বাস্থ্য দপ্তরের নজিরবিহীন শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অভিযুক্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি তৈরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

ঘটনা শুক্রবার সন্ধের। প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাওড়া থেকে এনআরএস হাসপাতালে এসেছিলেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। অভিযোগ, তিনি হাওড়া থেকে এসেছেন শুনে প্রথমে তাঁকে ভরতি নিতে অস্বীকার করেন গাইনি বিভাগের চিকিৎসক, নার্সরা। কারণ, করোনা মোকাবিলায় এই জেলাকে ‘রেড জোন’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ততক্ষণে ওই মহিলা প্রসব যন্ত্রণায় কাবু হয়ে পড়েন।  পরিবার সূত্রে খবর, এনআরএসের ডেপুটি সুপার নিজে তাঁকে ভরতির নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও সমস্যা মেটেনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: ‘করোনায় মৃতদের লাশ গায়েব করছে রাজ্য’, ফের বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ]

বরং পরিবারের সদস্যদের দিয়ে একটি মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। যাতে উল্লেখ থাকবে যে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভরতি নেওয়া হবে, সন্তান প্রসবের পর মা ও সদ্যোজাতের COVID-19 পরীক্ষা হবে, ১৪ দিন আলাদা রাখা হবে সন্তানকে, তাকে দেখার জন্য কেউ দাবি তুলতে পারবেন না – এমনিই একগুচ্ছ প্রস্তাব ছিল সেই মুচলেকায়। আরও বলা ছিল, এরপরও যদি মা অথবা সন্তানের কোনও বড় বিপদ হয়, তাহলে তার দায় নিতে পারবে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এত কিছু দেখে সাময়িকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে প্রসূতির পরিবার। মুচলেকায় সই করিয়ে, তাঁকে ভরতি না করিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তাঁরা। এরপর বাড়িতেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে পৃথিবীর আলো দেখার পরই মৃত্যু হয় সদ্যোজাতের।

এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতে নড়েচড়ে বসে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। সূত্রের খবর, ওই সময়ে যে চিকিৎসক, নার্সরা এনআরএস হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন, তাঁদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে এনআরএস কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। গাফিলতি খুঁজতে তদন্ত কমিটি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাসপেনশনেরমতো শাস্তি মিলতে পারে।

[আরও পড়ুন: মাস্ক পরতে রাজি না হওয়ায় ছেলেকে খুন, থানায় আত্মসমর্পণ বাবার]

করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মাঝে এর আগে বারবার স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে চিকিৎসকদের বার্তা দেওয়া হয়েছে যে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসায় যেন গাফিলতি না হয়। রাজ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটছিল প্রায়ই। সামান্য জ্বর-শ্বাসকষ্ট দেখলেই এমআর বাঙুর হাসপাতালে রেফার করে দেওয়ার ধুম পড়ে গিয়েছিল। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এ এই খবর প্রকাশিত হয়।নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে রোগীদের বিপদের মধ্যে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠতে থাকায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনও এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করেছেন। তারপরও এই ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.