অর্ণব আইচ: জঙ্গি তহবিল বাড়াতে একটি নামী সংস্থার কর্তাকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা নিয়ে সোজা মণিপুর থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছেছিল পাঁচ জঙ্গি। তাদের মধ্যে দু’জন অসমের দুই তরুণী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা ও হাওড়ার গোলাবাড়ির ডেরা থেকে দুই মহিলা-সহ মোট ৫ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে জাল নোট ও মুক্তিপণের সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা।
মণিপুরের জঙ্গি সংগঠন জোলিয়াংগরংগ ইউনাইটেড ফ্রন্ট (জেডওয়াইএফ)-এর এই জঙ্গিরা মণিপুরে তাদের অপারেশনের পর কলকাতা ও হাওড়াকেই বেছে নিয়েছিল লুকিয়ে থাকার জায়গা হিসাবে। যদিও এই আশ্রয়স্থল থেকেই ধরা পড়ে যায় তারা। এর আগে কলকাতা পুলিশের হাতে শহর থেকে ধরা পড়েছে অসমের আলফা, মণিপুরের প্রিপাক-সহ বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। এবার ধরা পড়ল জেডওয়াইএফ সংগঠনের সদস্যরা। মণিপুরের জঙ্গিদের এই অসমিয়া বান্ধবীরাও তাদের অপহরণ ও অপহৃত ব্যক্তিকে লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিল। তারা হাওড়ার একটি জায়গায় দম্পতি সেজেই ওঠে। তারা যে আসলে মণিপুরী জঙ্গি, তা কোনওভাবেই বুঝতে পারেননি হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা। তবে কলকাতায় বসে তারা মুক্তিপণের ফোন করত কি না, গোয়েন্দারা তা জানার চেষ্টা করছেন।
[আরও পড়ুন: কারখানার ভিতর শ্রমিকের গলা কাটা দেহ, জোড়াবাগানে ঘনাচ্ছে রহস্য]
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ইসাউলাং রাইমে নামে এক যুবককে এসটিএফ গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় দেড় লাখ টাকা জাল নোট। তার বক্তব্য়ে গোয়েন্দারা অসঙ্গতি পান। তাকে ক্রমাগত জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, কলকাতায় তার আরও সঙ্গীরা রয়েছে। তাকে জেরা করেই গোয়েন্দারা শুক্রবার হাওড়ার গোলাবাড়ির একটি ডেরায় হানা দেন। মণিপুরের দুই জঙ্গি লাইশরাম জিনান, রংমেই কামেই আতুহান, তাদের দুই বান্ধবী অসমের রিনসি কিখি পনমেই ও জিনা রংমেইকে গোয়েন্দারা গ্রেফতার করেন। তাদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ২৭০ টাকা, কয়েকটি মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড গোয়েন্দারা উদ্ধার করেন।
[আরও পড়ুন: সেজে উঠছে শহিদ মিনার, অমিত শাহর সভায় রেকর্ড ভিড়ের আশায় বঙ্গ বিজেপি]
জেরার মুখে তারা স্বীকার করে যে, জেডইউএফ জঙ্গি সংগঠনের হয়ে তারা মণিপুর ও নাগাল্যান্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে। তবহিল বাড়াতে তারা তোলাবাজি ও অপহরণ করে প্রায়শই। সম্প্রতি মণিপুরের নোনে জেলা থেকে একটি নামী সংস্থার প্রোজেক্ট ম্যানেজারকে তারা অপহরণ করে গভীক জঙ্গলের ডেরায় লুকিয়ে রাখে। তারা ফোন করে ওই সংস্থার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা আদায় করে। এর পর তাঁকে ছেড়ে দেয় জঙ্গিরা। সেই টাকার বড় অংশ নিয়েই কলকাতায় চলে আসে জঙ্গিরা। তাদের জেরা করে মাথাদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ