অর্ণব আইচ: ট্যাক্সির ডিকিতে কুমড়ো সরাতেই বেরিয়ে এল মহিলার মাথা। চৌবাগা বাসস্ট্যান্ডের কাছে আটক ওই ট্যাক্সির ভিতর থেকে শুক্রবার সাতসকালে উদ্ধার মহিলার রক্তাক্ত দেহ। প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হাড়হিম করা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে চৌবাগা বাসস্ট্যান্ডের কাছে চালক-সহ তিনজন একটি ট্যাক্সিতে করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পুলিশ রুটিন তল্লাশির জন্য গাড়ি আটকায়। ট্যাক্সির ডিকি খুলতে বলে পুলিশ। খুলতে প্রথমে আপত্তি করে দুই যাত্রী। তারা জানায়, ডিকিতে করে সবজি নিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে ডিকি খুলতে না চাওয়ায় সন্দেহ হয় পুলিশের। তাই জোর করে ডিকি খোলানো হয়। বেশ কয়েকটি গোটা কুমড়ো দেখতে পায় পুলিশ। তবে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে দেখা যায় কুমড়োর ফাঁক দিয়ে একটি মহিলার মাথাও দেখা যাচ্ছে। প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ট্যাক্সিটিকে আটকায়। ট্যাক্সিতে থাকা চালক-সহ তিনজনকে আটক করা হয়।
[আরও পড়ুন: লালবাজারেও করোনার থাবা, আক্রান্ত কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার]
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত ওই মহিলার নাম সুজামণি গায়েন। তদন্তকারীদের অনুমান, প্রথমে ভারি কোনও বস্তু দিয়ে মহিলার মাথায় আঘাত করা হয়েছে। তারপর তার দেহ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। সম্ভবত বাসন্তী হাইওয়ের আশেপাশে কোনও পরিত্যক্ত এলাকায় দেহ ফেলে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলেই অনুমান করা হচ্ছে। তবে আটক হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে পুলিশ আধিকারিকরা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছেন না।
জানা গিয়েছে, নিহত ওই মহিলা পুত্রবধূকে অত্যন্ত বিরক্ত করতেন। তার ফলে সুজামণি গায়েনের উপর পুত্রবধূ এবং তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনের অত্যন্ত বিরোধ ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, পারবারিক অশান্তির নিষ্পত্তি করতেই ভাইয়ের সাহায্য নিয়ে মেয়ের শাশুড়িকে খুন করে পুত্রবধূর মা। তবে খুনের নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।