Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Shatarup Ghosh

‘শ্রেণিচ্যুত’ হচ্ছেন শতরূপ! ‘নৈতিকতার ঠেকা’ মন্তব্যে সিপিএমের অন্দরেই নিশানায় যুবনেতা

হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠকের পর সেলিমের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শতরূপের মুখে 'নৈতিকতার ঠেকা' মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় সিপিএমের মধ্যে। সিপিএমের ছাত্র-যুব নেতৃত্বের একটা বড় অংশ চরম ক্ষুব্ধ শতরূপের উপর!

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১৫:০৬

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১৫:০৬

options
link
‘শ্রেণিচ্যুত’ হচ্ছেন শতরূপ! ‘নৈতিকতার ঠেকা’ মন্তব্যে সিপিএমের অন্দরেই নিশানায় যুবনেতা zoom
ফাইল ছবি

পার্টির সংগঠন গড়তে মাঠে-ময়দানে আর পাঁচজন যুব নেতার মতো দেখা না গেলেও সোশাল মিডিয়ায় কিন্তু উজ্জ্বল উপস্থিতি। টিভি চ্যানেলে মুখ দেখাতে গিয়ে কি শ্রেণিচ্যুত হচ্ছেন সিপিএমের যুব নেতা শতরূপ ঘোষ (Shatarup Ghosh)? এমনই প্রশ্ন এবার উঠেছে সিপিএমের অন্দরমহলে। আর শতরূপকে নিশানা করে দলেরই আরেক যুব নেতা প্রতীক উর রহমানের ফেসবুকে নৈতিকতার পোস্টটা হচ্ছে তারই একটা ‘সিম্বল’।

হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠকের পর সেলিমের (Md Salim) পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শতরূপের মুখে ‘নৈতিকতার ঠেকা’ মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় সিপিএমের মধ্যে। সিপিএমের ছাত্র-যুব নেতৃত্বের একটা বড় অংশ চরম ক্ষুব্ধ শতরূপের উপর। সিপিএমের যে যুব নেতারা সংগঠনটা করছেন, রাতদিন পরিশ্রম করছেন পার্টির জন্য, তাঁদের কাছে কার্যত বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছেন মিডিয়া প্রচারে ব্যস্ত শতরূপ।

Advertisement

আর তাই তাঁকে নিশানা করে দলের আরেক যুব নেতা প্রতীক উরের ফেসবুক পোস্টকে সমর্থন জানিয়েছে পার্টির বড় অংশই। এই পোস্টের কমেন্টে এক পার্টি সমর্থক লিখেছেন, ‘এই মানুষগুলোকেই চাই। সোনার চামচ মুখে দেওয়া বিশ লাখিরা কমিউনিস্ট নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের কী বোঝে?’ এই কমেন্টেও বিশ লাখি কমিউনিস্ট বলতে সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষকেই ওই পার্টি সমর্থক ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অর্থাৎ, সেই ২২ লাখি গাড়ি কেনার বিতর্ক এখনও চলছে শতরূপকে নিয়ে।

হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠকের পর সেলিমের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শতরূপের মুখে ‘নৈতিকতার ঠেকা’ মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় সিপিএমের মধ্যে।

পার্টির এক যুব নেতার কথায়, “বাবা গাড়ি কিনে দিতেই পারে, কিন্তু পছন্দ ২২ লক্ষের গাড়ি হবে কেন? অন্য গাড়িও তো পছন্দ হতে পারত। এ তো বুর্জোয়া মানসিকতা।” সিপিএমের এক প্রবীণ নেতার কথায়, “শতরূপের পাশে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক রয়েছেন তাই তাঁর এত ঔদ্ধত্য। ব্যক্তি আক্রমণ করা, আর কাজ হচ্ছে লোককে অপমান করা। যেটা পার্টির অন্য কোনও যুব নেতারা করেন না।” ওই নেতার প্রশ্ন, রাজনৈতিক আক্রমণ, পালটা জবাব চলতেই পারে, কিন্তু কাউকে নিম্নরুচির কথাবার্তা বলে ব্যক্তি আক্রমণ করলে কি পার্টির ভোট বাড়বে?

শতরূপের আচরণ কমিউনিস্ট ছাত্র-যুব সুলভ নয়, পার্টির নীতিকে লঙ্ঘন বা অসম্মান করে কথাবার্তা বলছে সে, এমন ক্ষোভও উঠে এসেছে পার্টির অন্দরে। দলের আরও একাধিক যুব নেতা রয়েছে। প্রতীক উর রহমান, সৃজন ভট্টাচার্য, যাঁরা দলের ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলে এসেছেন তাঁরা ভালো কাজ করলেও পার্টির সামনের সারিতে তাঁদের আর আনা হচ্ছে না।

প্রতীক উর ও সৃজনদের সাইড লাইনে রাখা হচ্ছে বলেও সোশাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন দলের সমর্থকরা। শতরূপকে সামনে রাখা হচ্ছে কারণ তিনি সেলিমের ঘনিষ্ঠ বলেই। সূত্রের খবর, শতরূপের অকমিউনিস্টসুলভ আচরণের প্রবল বিরোধী কলকাতার কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগনার সায়নদীপ মিত্র থেকে আইনজীবী নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। জানা গিয়েছে, বামপন্থী কর্মীরাও হোলটাইমারদের ব্যক্তিগত জীবনযাপনের তথ্য তুলে শতরূপের বিলাসবহুল জীবনের কাহিনি নিয়ে সরব পার্টির মধ্যেই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.