কলহার মুখোপাধ্যায়, বিধাননগর: ভাগ্য বদলানোর ইঙ্গিত সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতালে। সূত্রের খবর, সোমবার দেওয়া লকআউট নোটিস প্রত্যাহার করতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর তা প্রত্যাহার করলেই নতুন বছর থেকে আনন্দলোক বন্ধ হওয়ার যে আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল, তা থেকে মুক্তি পাবেন রোগীরা। পাশাপাশি স্বস্তি মিলবে হাসপাতালের কর্মীদেরও। মঙ্গলবার বেলার দিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে যেন খানিকটা স্বস্তির হাওয়া খেলল। নিশ্চিন্ত হলেন অনেকেই।
সোমবার আনন্দলোক হাসপাতালের গেটে লক আউট নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, কর্মচারী সংগঠনের দুই নেতৃত্বে বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাড়তে থাকা লোকসান আর কর্মীদের একাংশের বিশৃঙ্খলার জন্যই শেষপর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তাঁরা আরও জানান, ১ জানুয়ারি থেকে কোনও কর্মীকে বেতন বা বকেয়া টাকা দেওয়া হবে না। যদিও কর্মচারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা এই সিদ্ধান্ত মানবেন না। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বিপাকে পড়েন রোগীরা। আশেপাশের এলাকা ছাড়াও এমন পুরনো, নির্ভরযোগ্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসা, অস্ত্রোপচারের জন্য আসেন দূরদূরান্তের রোগীরাও। তাঁরা এখন কোথায় যাবেন, কী করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।
[আরও পড়ুন: বর্ষবরণের জন্য প্রস্তুত শীতের কলকাতা, চিড়িয়াখানা-ইকো পার্কে উপচে পড়া ভিড়]
ওদিকে, কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন হাসপাতালের কর্মীরা। আনন্দলোক হাসপাতালের এই সমস্যার সমাধানে হস্তক্ষেপ করে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, ওয়েস্টবেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডক্টর নির্মল মাজির মাধ্যমে জট কাটাতে তৎপর হয় প্রশাসন। দুপুরের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং কর্মচারী সংগঠন বৈঠকে বসবে। সেখান থেকে দুই অভিযুক্ত নেতাকে বদলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তরা বদলি হলে, হয়ত লক আউট নোটিস প্রত্যাহার করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালেও বেনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে আর্থিক সাহায্য পেয়ে হাসপাতাল ফের চালু করা হয়। হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডি কে শরাফ জানিয়েছিলেন, অভিযুক্ত দুই নেতৃত্বের মূল নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হলে তাহলেই আমি আবার ধার করে এনে হলেও হাসপাতালের কর্মীদের মাইনে দিয়ে আবার পুনরুজ্জীবিত করে তুলব। কিন্তু ওই দুই নেতৃত্বরা থাকলে আমার পক্ষে এই হাসপাতাল চালানো সম্ভব হবে না।”
[আরও পড়ুন: প্ল্যান পাসের আগেই শুরু করা যাবে বাড়ি তৈরির কাজ, নয়া সিদ্ধান্ত কলকাতা পুরসভার]
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ