BREAKING NEWS

১৪ মাঘ  ১৪২৯  রবিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ 

READ IN APP

Advertisement

গর্ভপাতের আগে অন্তঃসত্ত্বাদের ‘গর্ভগৃহে’ রাখত ধৃত পলি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 4, 2016 11:07 am|    Updated: December 4, 2016 11:07 am

Child trafficking: main accused polly is now trump card of CID for further investigation

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: এ যেন অন্য ধরনের ‘গর্ভগৃহ’!

নিজের দুর্গানগরের বাড়িকেই টানা দশ বছর ধরে শিশু পাচারের ‘গর্ভগৃহ’ বানিয়ে তুলেছিল এই চক্রের ধৃত মূল এজেণ্ট উৎপলা বাউরি ওরফে পলি৷ অবৈধ গর্ভপাতের আগে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের এই ‘গর্ভগৃহে’ রেখে তাঁদের অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে দেখভাল করত সে৷ মাসের পর মাস ধরে চলত অন্তঃসত্ত্বাদের দেখভালের কাজ৷ মাঝে মধ্যে এই গর্ভগৃহে এসেই অন্তঃসত্ত্বাদের গর্ভের সন্তানদের দেখে যেত ধৃত দুই চিকিৎসক তপনকুমার বিশ্বাস এবং সন্তোষকুমার সামন্ত৷

অন্তঃসত্ত্বাদের গর্ভের সন্তান ৭-৮ মাস হলেই তাঁদের গর্ভপাতের জন্য নিয়ে যাওয়া হত বাদুড়িয়ার ‘সোহন নার্সিংহোম অ্যান্ড পলিক্লিনিক’ এবং কলেজ স্ট্রিটের ‘শ্রীকৃষ্ণ নার্সিংহোম’-এ৷ এখানেই অবৈধ গর্ভপাত করিয়ে শিশু সন্তানদের দায়িত্ব না নিয়েই লোক জানাজানির ভয়ে সরে পড়তেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা৷ এই সুযোগটাই খুব সহজে নিয়ে নিত পলিরা৷ সেই সদ্যোজাতদের দত্তকের নামে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হত৷ ডেলিভারি বা সিজারের সময় অপরিণত কোনও শিশুর মৃত্যু হলে ছোট্ট দেহ পুঁতে ফেলা হত মছলন্দপুরে পলির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সুজিত দত্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর জমিতে৷ ধৃত পলিকে জেরা করে এই তথ্যই পেয়েছেন সিআইডির গোয়েন্দা কর্তারা৷ অন্যদিকে বেহালার ধৃত নার্সিংহোম মালকিনের মেয়ে রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি হোটেলের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি৷ শিশু পাচারের টাকায় মন্দারমনিতে ওই হোটেল রিনা কিনেছিল বলে গোয়েন্দাদের ধারণা৷

বাদুড়িয়ার নার্সিংহোম মালিক আসাদুর জামান, কলেজ স্ট্রিটের নার্সিংহোম মালিক পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং বেহালার নার্সিংহোম মালকিন বড়দিদের শিশুপাচার চক্রের মূল ‘লিঙ্কম্যান’ এই পলি৷ দেশে-বিদেশে সদ্যোজাতদের পাচার করে মাত্র দেড় বছরে ফুলেফেঁপে উঠেছিল সে৷ পাচার চক্রের আরও তথ্য জানতে এই পলিই এখন সিআইডির গোয়েন্দাদের কাছে তুরুপের তাস৷

দুর্গানগরের অত্যন্ত সচ্ছল পরিবারের তরুণী ছিল পলি৷ কয়েক বছর আগে তার সঙ্গে প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাদুড়িয়ার রাজা ব্যাপারির৷ সেই প্রেম থেকে পরে বিয়ে৷ রাজা ছিল গাড়ির চালক৷ আর্থিক দিক থেকে বড় একটা সচ্ছল নয়৷ সেই কারণে বিয়ের পর থেকেই রাজার সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না পলির৷ তারই মধ্যে পলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে মছলন্দপুরের সত্যজিত্‍ সিংহের৷ সত্যজিত্‍ একটা সময় পলির গাড়ির চালক ছিল৷ সেই গাড়িতে চেপেই যাতায়াত করত পলি৷ তারই সূত্র ধরে সত্যজিৎ-পলির ঘনিষ্ঠতা৷

অপরদিকে রাজার সঙ্গে পলির দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকে৷ বছরখানেক আগে রাজাকে পুরোপুরিভাবে ছেড়ে মছলন্দপুরে গিয়ে সত্যজিতের সঙ্গে থেকে লিভ টুগেদার করতে শুরু করে পলি৷ ততদিনে মছলন্দপুরেই সত্যজিৎকে সঙ্গে নিয়ে বাবার নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৈরি করে পলি৷ নাম দেওয়া হয় ‘সুজিত দত্ত মেমোরিয়াল ট্রাস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডেশন’৷ এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তহবিলে দিল্লি থেকে কয়েকবার কেন্দ্রের মোটা টাকাও ঢোকে৷ এরই মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাজের মাধ্যমে পলি ও সত্যজিতের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে বাদুড়িয়ার ‘সোহন নার্সিংহোম অ্যান্ড ক্লিনিক’-এর মালিক আসাদুর জামানের৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে