স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চায়েত ভোটে নিচুতলায় বিজেপির (BJP) সঙ্গে সমঝোতা করলে ইতিমধ্যেই দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে সিপিএম। কিন্তু সেই বার্তার পরও তৃণমূলকে ঠেকাতে নিচুতলায় বিজেপির হাত ধরতেই আগ্রহী স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ। পার্টির স্থানীয় নেতারাও পঞ্চায়েতস্তরে বিজেপির সঙ্গে অঘোষিত জোটের পক্ষে সওয়াল করছেন।
সম্প্রতি আলিমুদ্দিনে রাজ্য কমিটির বৈঠকে একাধিক জেলার রিপোর্টে নিচুতলায় বিজেপির সঙ্গে এই মহাজোটের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। যা নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে আলিমুদ্দিন। নিচুতলায় এই বিজেপি ছোঁয়াচ কতটা এড়ানো যাবে তা নিয়ে সংশয়ে রাজ্য নেতৃত্ব। বিজেপির ছোঁয়া এড়াতে শীর্ষনেতারা নিচুতলার নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিচ্ছেন, গ্রামেগঞ্জে হারানো ভোটব্যাংক ফেরাতে যে বামপন্থীরা দূরে সরে গিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।
[আরও পড়ুন: Lionel Messi: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের পরই অবসর ঘোষণা করলেন মেসি!]
পঞ্চায়েত ভোটের আগে বাম-বিজেপি সমঝোতা নিয়ে শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি সমবায় নির্বাচনে রাম-বাম সমঝোতা সামনে এসেছে। রাজ্য নেতাদের চোখ এড়িয়ে যেভাবে নিচুতলায় এই বোঝাপড়ার সমীকরণ তৈরি হচ্ছে তাতে স্পষ্ট, পঞ্চায়েতে তৃণমূলকে আটকাতে বাম—রাম প্রয়োজনে তলে তলে আঁতাঁত করবে। আর এক্ষেত্রে বিজেপির প্রছন্ন মদতও রয়েছে। তৃণমূলকে আটকাতে যেখানে নিজেদের সংগঠন নেই সেখানে সিপিএমকে সমর্থন করার গোপন কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপির নমনীয় মনোভাব উৎসাহিত করছে স্থানীয় বাম নেতাদের।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “নিচুতলার বিষয়টা আলাদা। অফিসিয়ালি আমরা জোটের কথা বলিনি।” অর্থাৎ, নিচুতলায় বামেদের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় আপত্তি নেই বিজেপির শীর্ষনেতাদের। কারণ, অধিকাংশ বুথেই বিজেপির সংগঠন নেই। ফলে সেখানে তৃণমূলকে আটকাতে বামেদের হাত ধরার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই বিজেপির জেলা নেতাদেরও।
[আরও পড়ুন: লালন শেখের মৃত্যুরহস্যে ৭ সিবিআই আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR, মৃতদেহ নিল পরিবার]
রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা সিপিএমের পদযাত্রায় মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি জেলা নেতাদের। কিন্তু আগামীদিনে চলে যাওয়া ভোট ব্যাংক ফেরানোর পাশাপাশি বুথে বুথে কতটা সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হবে সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ১৫টিরও বেশি জেলায় নিচুতলার সাংগঠনিক শক্তি খুবই দুর্বল। আর যেখানে সংগঠন দুর্বল সেখানে নিচুতলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জোট হতে পারে বাম—রামে। এটা বলা যেতে পারে, একুশের ভোটের পর ফের পঞ্চায়েতে নিচুতলায় গেরুয়া শিবিরের হাত ধরার যে হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা নিয়ে চিন্তায় আলিমুদ্দিন।
সর্বশেষ খবর
-
‘পশ্চিমবঙ্গে ডিম এখন খুব সস্তা’, চড়া সুর যশের, বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ‘জেগে উঠলেন’?
-
প্রোপাগান্ডা রাজনীতি গণতন্ত্রের অংশ নয়, পথ দেখাচ্ছে হাঙ্গেরি
-
রাজ্যে এবার বুলেট ট্রেন, দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছবে মাত্র ৬ ঘণ্টায়, বড় আশ্বাস রেলমন্ত্রীর
-
জল্পনার অবসান! বিশ্বকাপ শুরুর পাঁচ দিন আগে ইরানকে ভিসা মঞ্জুর আমেরিকার
-
ইবোলা পরিসংখ্যানে আশার আলো কঙ্গোতে! বিপদ কাটেনি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা