সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: “আমি সদ্য বিবাহিতা সুন্দরী তরুণী গৃহবধূ। আমার স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম। আমার শারীরিক চাহিদা মেটাতে পারেন না। কিন্তু আমার চাহিদা প্রচুর। সেই চাহিদা মেটানোর জন্য অবাধ মেলামেশার পুরুষ বন্ধু চাই। দু’ঘণ্টার জন্য ৫০০ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাবে আমাকে।”
ঠিক এই কথাগুলি লিখেই কে বা কারা যাদবপুরের এক তরুণী সুন্দরী গৃহবধূর নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা ও ছবি দিয়ে পোস্ট করে দিয়েছিল এসকর্ট সার্ভিসের ওয়েবসাইটে। শুধুমাত্র ওই গৃহবধূই নন, তাঁর অবিবাহিত ননদেরও ছবি-সহ বিস্তারিত তথ্য এসকর্ট সার্ভিসের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছিল। সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই টানা দু’মাস ধরে নানা উটকো লোকের উৎপাতে দিনে-রাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন ওই গৃহবধূ ও তাঁর ননদ। এর ফলে তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক স্বাভাবিক জীবনও বিপন্ন হয়ে উঠেছিল। পাড়ায় মুখ দেখাতে পর্যন্ত পারছিলেন না এই পরিবারের সমস্ত সদস্যই। এমনকী সদ্য বিয়ে করা স্বামীর সঙ্গেও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছিল ওই গৃহবধূর।
অগত্যা বাধ্য হয়ে ওই গৃহবধূ ও তাঁর ননদ দ্বারস্থ হন লালবাজারের গোয়েন্দাদের। বিস্তারিত জানিয়ে তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেন লালবাজারের সাইবার থানায়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামেন সাইবার থানার গোয়েন্দারা। টানা দু’মাস ধরে এই ঘটনার তদন্ত চালানোর পর অবশেষে শুক্রবার বড়বাজারের হরিরাম গোয়েঙ্কা স্ট্রিট থেকে গৌরব বর্মা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে
জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূ ও তাঁর ননদের প্রতিবেশী নাজিয়া রহমানের নির্দেশেই ধৃত যুবক গৌরব এই অপকর্ম করেছিল। সেই প্রতিবেশীকে খুঁজছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।
[ডিভিশন বেঞ্চেও থমকাল বিজেপির রথ, মিলল না অনুমতি]
যাদবপুরের আজাদগড় শ্রীনগরের এক বাসিন্দার সঙ্গে কয়েক মাস আগেই বিয়ে হয় ওই গৃহবধূর। তাঁদের পাশেই থাকে অভিযুক্ত নাজিয়া রহমান। তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, নাজিয়াদের সঙ্গে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক বিবাদ রয়েছে দীর্ঘ দিনের। নাজিয়ার সঙ্গে আবার বন্ধুত্ব ছিল বড়বাজারের হরিরাম গোয়েঙ্কা স্ট্রিটের এক ব্যবসায়ীর ছেলে গৌরব বর্মার। ওই গৃহবধূ ও তাঁর
শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে কীভাবে ফাঁসানো যায় তার জন্য গৌরবের সঙ্গে পরামর্শ করেছিল নাজিয়া। তখন গৌরবই ওই গৃহবধূ ও তাঁর ননদের ছবি-সহ বিস্তারিত তথ্য নাজিয়ার কাছ থেকে চায়।
এরপর সেই তথ্য নিয়ে গৌরব এসকর্ট সার্ভিসের ওয়েবসাইটে পোস্ট করে দেয় গত ৩ অক্টোবরে। তারপর থেকেই শুরু হয় যত বিপত্তি। ওয়েবসাইট দেখে বিভিন্ন উটকো লোক আসা-যাওয়া শুরু করে ওই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়িতে। এমনকী, মাঝরাতেও আসতে শুরু করে মদ্যপ যুবকরা। মাঝরাতে দরজায় কলিং বেলের শব্দ শুনলেই আঁতকে উঠতেন ওই পরিবারের সদস্যরা। এমনকী, ফোনেও উত্ত্যক্ত করত মদ্যপ যুবকের দল। পরের দিনই ওই গৃহবধূ ও তাঁর ননদ দ্বারস্থ হন লালবাজারের। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা।
সর্বশেষ খবর
-
স্বামী, শ্বশুর-সহ প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে উদ্দাম যৌনতা, ‘মির্জাপুর’এ শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ রসিকার
-
বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে বিপদ! মহিলাকে ‘ধর্ষণ’, ধৃত ২
-
বাড়ির চৌহদ্দিতে সংসার পেতেছে মেনি বিড়াল, বাস্তুমতে এই লক্ষণ শুভ নাকি অশনি সংকেত?
-
সাউথ সিটি থেকে অ্যাক্রোপলিস, ‘অখাদ্য’ খুঁজতে এবার কলকাতার নামী ৩ মলে অভিযান
-
ঘরে বৃদ্ধের রক্তাক্ত দেহ, কাছেই ঝোপে খোঁজ মিলল স্ত্রীর! জোড়া ‘খুনে’ চাঞ্চল্য কোচবিহারে