নজিরবিহীন ঘটনা কলকাতা পুরসভায়। অধিবেশন কক্ষের দরজা তালাবন্ধ থাকল। ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না কাউন্সিলররা! তৃণমূল সাংসদ তথা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় কিছু সময় অপেক্ষা করেন। এরপর বাধ্য হয়েই তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে সভা বসল। মেয়র ফিরহাদ হাকিমও এদিন কলকাতা পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “পুরসভার কালো দিন। রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করছি সংঘাত নয়, সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য একসঙ্গে কাজ করার।” তৃণমূল কাউন্সিলররা এদিন উপস্থিত থাকার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফিরহাদ।
এই বিষয়ে আরও খবর
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে কলকাতা পুরসভাতেও শুরু হয়েছে ডামাডোম। মেয়রের পদ থেকে কি ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করবেন? সেই জল্পনা চলছে পুরসভা অন্দরে। আজ, শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। আগেই বাতিল হয়েছিল মেয়র পারিষদের বৈঠক। পুরসভার মাসিক অধিবেশনও স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে কলকাতা পুরসভার সচিব বদল করেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা পুরসভা নিয়ে একের পর কড়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাজ্য সরকার। সচিব পদেও রদবদল হল। এতদিন কলকাতা পুরসভা সচিব ছিলেন স্বপনকুমার কুণ্ডু। তাঁকে ওএসডি (স্টেস্ট গ্যাজেটারস) পদে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় কলকাতা পুরসভার সচিব পদে নিয়ে আসা হয়েছে কিশোরকুমার বিশ্বাসকে।
শুক্রবার দুপুরে কলকাতা পুরসভায় বৈঠকের জন্য হাজির হন তৃণমূল কাউন্সিলররা। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়, মেয়র ফিরহাদ হাকিমরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পুরসভায় দেখা গেল চূড়ান্ত ‘নাটক’। দেখা গেল, কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষ তালা বন্ধ।
এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে কলকাতা পুরসভায় বৈঠকের জন্য হাজির হন তৃণমূল কাউন্সিলররা। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়, মেয়র ফিরহাদ হাকিমরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পুরসভায় দেখা গেল চূড়ান্ত ‘নাটক’। দেখা গেল, কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষ তালা বন্ধ। কাউন্সিলররা দাঁড়িয়ে থাকলেও সেই দরজা খোলা হয়নি! মালা রায় নিজে একাধিকবার অধিবেশন কক্ষের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে পুরসভার ক্লাব রুমে কাউন্সিলররা বৈঠক করলেন।
সেখানেই মালা রায়, ফিরহাদ হামিক, অন্যান্য কাউন্সিলররা তাঁদের বক্তব্য রাখেন। পুরসভায় তৃণমূলের ১৩৭ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এদিন তাঁদের মধ্যে ৯০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, এদিন ক্লাব রুমের বৈঠকে কোনও মাইকেরও ব্যবস্থা করা হয়নি। খালি গলাতেই তাঁরা বক্তব্য রাখেন। এদিন মালা রায় বলেন, “তালা খুলে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তালা খোলা হয়নি। তাই ক্লাব রুমে অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বহু পুরসভাতেই তৃণমূলের কাউন্সিলররা পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। কলকাতা পুরসভাতেও কি একই ঘটনা ঘটতে পারে? সেই চর্চাও শুরু হয়েছে।
এদিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে ১০০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী কাল, শনিবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং বা আশেপাশের রাস্তায় প্রতিবাদে নামতে হবে। এদিন অধিবেশন কক্ষ না খোলার প্রতিবাদে আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন নেত্রী।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
এবার জঙ্গিপুর পুরসভা! ‘অকেজো’ পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ১১ কাউন্সিলরের
-
৪ মাস আগে গোপনে বিয়ে সিয়া-চেতনের! তারপরই কেতনকে সরানোর ষড়যন্ত্র, পুণে কাণ্ডে নয়া মোড়
-
সক্রিয় মৌলবাদী-রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি! ২০০ দাঙ্গাকারী চিহ্নিত, বারুইপুরে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
-
‘সিঙ্গুরে মরণাপন্ন মমতাকে বাঁচান বাবা-মা’, এবার আন্দোলন নিয়ে ‘দিদি’কে খোঁচা কাকলিপুত্রের
-
‘আর কত নারী বর্বরতার শিকার হবে?’, বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান শুভশ্রী



