গৌতম ব্রহ্ম: স্নেহ বড় বিষম বস্তু। এই স্নেহই বসন্তের ভাইরাল আগমনিতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বয়স্কদের কাছে।
জ্বরে আক্রান্ত নাতি-নাতনিদের কোলে নিয়ে আদর করার পর অনেক বয়স্ক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। শিশুর শরীর থেকে ভাইরাস সংক্রামিত হচ্ছে বয়স্কদের শরীরে। হরেক রোগে জর্জরিত দুর্বল বার্ধক্য সেই জীবাণুর হামলা সামলাতে পারছে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম রয়েছে, এমন অনেকের ভাইরাস সংক্রমণের জেরে প্রাণসংশয় হচ্ছে। এমনটাই দাবি করলেন শহরের চিকিৎসকরা।
[বহুজাতিক সংস্থার পানীয় জলের বোতলে কলিফর্ম, নোটিস পাঠাচ্ছে পুরসভা]
তাঁদের দাবি, এই সময় অ্যাডিনো ভাইরাস, রাইনো ভাইরাস বসন্তের বাইশ গজে পাওয়ার প্লে চালায়। তার জেরেই ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, বমি, পেট খারাপ হচ্ছে। কিন্তু বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেকসময় এই আপাত নিরীহ ‘ভাইরাল জ্বর’ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। তাই ডাক্তারদের পরামর্শ, বাড়িতে কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে আলাদা রাখতে হবে। বিশেষ করে বয়স্করা যেন কোনওভাবেই আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শে না আসেন। তাহলেই বিপদ। যদি একান্তই আসতে হয়, তবে ‘মাস্ক’ ব্যবহার করতে হবে। ভুলেও চুম্বন করা চলবে না। কোলে নিলে বা শিশুর ব্যবহৃত জিনিসে হাত দিলে হাত ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এমনটাই জানালেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মত, “ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত বয়স্ক রোগীদের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। ‘কেস হিস্ট্রি’ নিতে গিয়ে দেখছি, নাতি-নাতনিদের থেকে ভাইরাস সংক্রামিত হয়েছে। নিউমোনিয়া এমনভাবে শরীরে বাসা বাধছে যে, অনেক সময় পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।”
ফেব্রুয়ারি-মার্চ মানেই পরীক্ষার মাস। অনেক স্কুলেই পরীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। অসুস্থতার কারণে বহু পরীক্ষার্থী বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা। কেউ চিকেন পক্স নিয়ে, কেউ জ্বর নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। কেউ আবার পরীক্ষার হলে বসেই বমি করে ফেলছে। কেউ বারবার দৌড়াচ্ছে শৌচালয়ে। চুমুক দিচ্ছে ওআরএসের বোতলে। প্রতি বছর এমনটাই হয়।কিন্তু এবার যেন ভাইরাসজনিত অসুস্থতার প্রকোপ বেশি। জ্বর নিয়ে আউটডোরে প্রচুর রোগী আসছেন। এমনটাই জানালেন আরেক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাস। অরিন্দমবাবু জানালেন, “আক্রান্ত মানুষের শরীর থেকেই ভাইরাস অন্যদের মধ্যে সংক্রামিত হচ্ছে। বাচ্চারা স্কুল থেকে বাধিয়ে নিয়ে বাড়িতে আসছে। বাচ্চার থেকে বাবা-মা, দাদু-ঠাকুরমার হচ্ছে।
[পড়ুয়াদের সর্বনাশ করছে ‘চেরি’, গোয়েন্দাদের নজরে ৪৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট]
বাস-ট্রাম-মেট্রো-অটোয় যাতায়াত করাও ঝুঁকিবহুল। কোনও আক্রান্ত ব্যক্তি মুখে হাত দিয়ে হাঁচলেন। তারপর সেই হাত দিয়ে হ্যান্ডেল ধরলেন। সেই হ্যান্ডেলে অন্য কেউ হাত দিচ্ছেন। ব্যস, তাতেই বিপদ ঘনাচ্ছে। আর যদি কেউ মুখে হাত না দিয়ে হাঁচেন তাহলে তো কথাই নেই। কফের গুঁড়ো বা ‘ড্রপলেট’-এর মাধ্যমে ভাইরাস আশপাশের মানুষের উপর হামলা চালাবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, “বাচ্চারা এই সময় জ্বর-সর্দি-কাশিতে প্রচুর ভুগছে। দুই থেকে পাঁচদিন সময় লাগছে সারতে। এরপরও না সারলে রক্তপরীক্ষা করাতে হবে। প্রথমে অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়াই ভাল।” অরিন্দমবাবুর পরামর্শ, “প্রচুর জল খাওয়াতে হবে বাচ্চাকে। খাবারের মেনুতে প্রচুর ফল রাখতে হবে। তবে খাবার নিয়ে শিশুর উপর জোর খাটানো উচিত নয়।”
[চিত্র প্রতীকী]
সর্বশেষ খবর
-
পুলিশ হেফাজতে যুবকের রহস্যমৃত্যু! বিষ্ণুপুরে উত্তেজনা, অবরোধ
-
উপড়ে নেওয়া হয়েছে চুল! হাত-পায়ের হাড় ভাঙা, ইরানের জেলে চরম নির্যাতনের শিকার ২ বোন
-
মাঝআকাশে চূড়ান্ত ‘বেয়াদপি’ যাত্রীর, শেষে বাঁধা হল হাত-পা-মুখ! তারপর…
-
সামশেরগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে সিআইডি তদন্তে খুশি পরিবার, চাকরি নয়, ফাঁসি চাই, আবেদন সুজিতের স্ত্রীর
-
ইঁদুর-আরশোলায় খাওয়া মিষ্টিই উঠছে পাতে! বনগাঁর মিষ্টির দোকান বন্ধ করলেন আধিকারিকরা