Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২৪ আগস্ট ২০২৬
Garden Reach

ডবল ইঞ্জিনে দুর্দান্ত গতি! গার্ডেনরিচে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে নতুন ৫ প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনাথ-শুভেন্দুর

মোট ৩৪০০ কোটি প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে রবিবার ভূমিপুজোয় কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১৪:১৭

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১৪:১৭

options
link
ডবল ইঞ্জিনে দুর্দান্ত গতি! গার্ডেনরিচে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে নতুন ৫ প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনাথ-শুভেন্দুর zoom
গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে নতুন ৫ প্রকল্পের শিলান্যাস প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, নিজস্ব ছবি
Advertisement

সবে সেঞ্চুরি পার করেছে বাংলার বিজেপি সরকার। তাতেই ডবল ইঞ্জিন সরকারে গতি বাড়ছে দ্রুতহারে। গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের লক্ষ্যে রবিবার আরও পাঁচটি নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস হয়ে গেল। ৩৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সেই প্রকল্পের ভূমিপুজো করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলা হচ্ছে, ভারতে জাহাজ নির্মাণ ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে এ এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে সূচিত হল। এদিনের অনুষ্ঠানে নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বারবারই উল্লেখ করেছেন, বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার এবার থেকে কেন্দ্রের হাতে হাত মিলিয়ে সব কাজ করবে। এরাজ্য বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণেই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে গার্ডেনরিচের। তা আরও বাড়বে। আজ গর্বের দিন। ৩৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পাঁচটি নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। এরপর ৩৪০০ কোটি কেন, আরও অনেক বেশি অঙ্কের বিনিয়োগ হবে এ রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ এখন বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে যে সরকার এতদিন ছিল, তাদের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কোনও ইচ্ছা ছিল না। ফলে পশ্চিমবঙ্গ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। অথচ বাংলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের জমি আছে, মানবসম্পদ আছে, পরিকাঠামো আছে, কাঁচামাল – সবই রয়েছে। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার পূর্ণ গতিতে কাজ করছে।”

গার্ডেনরিচের নতুন ৫ প্রকল্প দেশের জলসীমান্ত সুরক্ষায় শিপইয়ার্ডের উৎপাদন ক্ষমতা ও পরিকাঠামো বৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে সংস্থা নৌবাহিনী এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্রের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। রবিবার এই নতুন প্রকল্পের মূল অনুষ্ঠান গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্সে হলেও খিদিরপুর, শালিমার, রায়চক এবং ইছাপুরে একই সময়ে এই প্রকল্পগুলোর ভূমিপুজো বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

Advertisement
গার্ডেনরিচে রিমোট কন্ট্রোলে একযোগে প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনাথ সিং ও শুভেন্দু অধিকারীর, নিজস্ব ছবি

এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে গার্ডেনরিচের। তা আরও বাড়বে। আজ গর্বের দিন। ৩৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পাঁচটি নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। এরপর ৩৪০০ কোটি কেন, আরও অনেক বেশি অঙ্কের বিনিয়োগ হবে এ রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ এখন বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে যে সরকার এতদিন ছিল, তাদের কেন্দ্রীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কোনও ইচ্ছা ছিল না। ফলে পশ্চিমবঙ্গ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। অথচ বাংলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের জমি আছে, মানবসম্পদ আছে, পরিকাঠামো আছে, কাঁচামাল – সবই রয়েছে। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার পূর্ণ গতিতে কাজ করছে।”

দেশের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গার্ডেনরিচে হুগলি নদীর দুই তীরে অবস্থিত দুটি ছোট শিপইয়ার্ড এবং রায়চকে ৩২ একর নদীর তীরবর্তী জমির জন্য ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট, কলকাতা’র সঙ্গে ইজারা চুক্তি করেছে। একনজরে দেখে নিন নতুন প্রকল্পগুলির খুঁটিনাটি –

  • যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। রায়চকের এই কেন্দ্রটি ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে একটি জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে ৩৫৬ মিটার দীর্ঘ জলসীমা (ওয়াটারফ্রন্ট), ৯৬ মিটার জেটি এবং ৮-১০ মিটার গভীরতা থাকবে। এছাড়াও এখানে ২০০ মিটারের ড্রাই ডক, স্লিপওয়ে, লঞ্চিং প্যাড, জেটি এবং ব্লক তৈরির সুবিধা থাকবে, যার ফলে ২০০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের যুদ্ধজাহাজ এবং ৬০,০০০ ডিডব্লিউটি (DWT) পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
  • শালিমারের ৪ একর আয়তনের ‘টিম্বার পন্ড’ কেন্দ্রটিকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে গড়ে তোলা হবে; এর আওতায় ১৩০ মিটার দীর্ঘ ড্রাই ডক সংস্কার ও ১২০ মিটার দীর্ঘ স্লিপওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি মাঝারি আকারের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, কিডারপুর ডকসের ‘দামোদর’ কেন্দ্র, যেখানে একটি পুরনো কর্মশালা ও ২৫ মিটার দীর্ঘ জলতট বা ওয়াটারফ্রন্ট রয়েছে, সেখানে প্রায় ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে মাঝারি আকারের জাহাজ মেরামত এবং বৈদ্যুতিক ফেরি ও অন্যান্য ছোট জলযান তৈরি হবে।
  • ইছাপুরে ওয়াইআইএলের মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি যৌথ বিনিয়োগে দুটি নতুন ইউনিট স্থাপন করা হবে, যা দেশীয় ধাতুবিদ্যা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। ২৭৭.৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ৩,০০০ টন ক্ষমতার ‘হেভি ডিউটি ​​হাইড্রোলিক ওপেন ডাই ফোর্জিং প্রেসটি পুরনো ২,৬৫০ টন ক্ষমতার প্রেসের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং এর মাধ্যমে বন্দুকের ব্যারেল, গোলাবারুদের যন্ত্রাংশ ও ভারী প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (ফোর্জিং) তৈরি করা হবে।
  • পাশাপাশি, ৪৭৩.৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ‘রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্ট’-এ সুপার অ্যালয় ফোর্জিং, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমার টিউব, সমরাস্ত্রের হার্ডওয়ার, রেলওয়ের অ্যাক্সেল এবং পারমাণবিক চুল্লির যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। ‘ইন্ডাস্ট্রি ৪.০’ এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এই কেন্দ্রগুলি উন্নতমানের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে, আমদানির উপর নির্ভরতা কমাবে এবং প্রতিরক্ষা, রেলওয়ে ও কৌশলগত খাতগুলোকে সহায়তা প্রদান করবে।

সামগ্রিকভাবে, এই প্রকল্পগুলো গার্ডেনরিচ ও ইছাপুরের ফ্যাক্টরিতে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশেষ করে এমএসএমই-সহ আনুষঙ্গিক শিল্পগুলোর বিকাশের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-কাঠামোর পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করবে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.