Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Golpark Firing

গোলপার্ক কাণ্ড: সোনা পাপ্পুর ডানহাত বাবুসোনা ও ‘শত্রু’ গোষ্ঠীর সাট্টা সঞ্জুর নেতৃত্বেই হামলা!

রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। দু’পক্ষের মধ্যে চলে ইটবৃষ্টিও। এমনকী বোমাবাজি এবং গুলি চালানোরও অভিযোগ ওঠে।

Advertisement
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৭:৪৮

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ১৭:৪৮

options
link
গোলপার্ক কাণ্ড: সোনা পাপ্পুর ডানহাত বাবুসোনা ও ‘শত্রু’ গোষ্ঠীর সাট্টা সঞ্জুর নেতৃত্বেই হামলা! zoom
রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোলপার্ক এলাকা।

গোলপার্কের পঞ্চাননতলার রোডে বোমা এবং গুলির (Golpark Firing) ঘটনায় নয়া মোড়! তদন্তে দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর ডানহাত বাবুসোনা মণ্ডল ও বিপরীত গোষ্ঠী সাট্টা সঞ্জুর নাম উঠে এলো। পুলিশের দাবি, রবিবার সন্ধ্যায় দুই বিপরীত গোষ্ঠী অর্থাৎ বাবুসোনা ও সাট্টা সঞ্জুর ‘নেতৃত্বে’ই হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং সিসিটিভিতে তাঁদের সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের। অন্যদিকে এই ঘটনায় ইতিমধ্যে আরও চার কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃত চারজনের মধ্যে দুজন সোনা পাপ্পু এবং বাকি দুজন বাপি হালদারের ঘনিষ্ঠ বলে জানা যাচ্ছে।

রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। দু’পক্ষের মধ্যে চলে ইটবৃষ্টিও। এমনকী বোমাবাজি এবং গুলি চালানোরও অভিযোগ ওঠে। রবিবারের এই ঘটনায় দক্ষিণ কলকাতার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর গ‌্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। ঘটনার পরেই রবীন্দ্র সরোবর থানায় তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগ কসবার কুখ্যাত সোনা পাপ্পু ও তার ঘনিষ্ঠ বাবুসোনা এবং তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। পঞ্চাননতলার বাপি হালদার ও তাঁর লোকেদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছে পুলিশ। 

Advertisement

ঘটনার পরেই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, ধৃতরা সবাই সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ বলে খবর। অন্যদিকে বাবু সোনার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে সরাসরি অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে সাট্টা সঞ্জুর নাম উঠে এসেছে। অন্যদিকে বাবুসোনার বিপরীত গোষ্ঠী বাপি হালদারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্তে পুলিশের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তার ইন্ধনে সংঘর্ষ হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে কসবা ও রবীন্দ্র সরোবর অঞ্চলের দু’টি সিন্ডিকেটের মধ্যে পুরনো গোলমাল।

তদন্তে পুলিশের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তার ইন্ধনে সংঘর্ষ হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে কসবা ও রবীন্দ্র সরোবর অঞ্চলের দু’টি সিন্ডিকেটের মধ্যে পুরনো গোলমাল।

পুলিশের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, সোনা পাপ্পু ও বাপি হালদারের গোষ্ঠীর মধ্যেই সংঘর্ষের জেরেই চলে গুলি ও বোমা। রবীন্দ্র সরোবর থানায় এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছে। এই ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ব্যাপারে সোমবার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘‘কাউকে ছাড়া হবে না। সারারাত ধরে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দশ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’’ তবে ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু, বাবুসোনা মণ্ডল, তার সঙ্গীরা এখনও পলাতক বলে জানা যাচ্ছে।

তদন্তে পুলিশ জেনেছে, কাকুলিয়া রোড ও তার আশপাশের জায়গায় বাপি হালদারের সিন্ডিকেট প্রোমোটিংয়ের কাজ করছে। কসবা, তপসিয়া এলাকায় সোনা পাপ্পু ও তার ঘনিষ্ঠ বাবুসোনা মণ্ডল চালাচ্ছে সিন্ডিকেট। সম্প্রতি কাকুলিয়া এলাকায় দখলদারির চেষ্টা করে সোনা পাপ্পু ও বাবুসোনা। তাতে বাধা পায় তারা। আবার সোনা পাপ্পু কাকুলিয়া রোডে একটি বাড়িও কিনেছে। গত প্রায় এক বছর ধরে বাপি হালদার ও সোনা পাপ্পুর সিন্ডিকেটের মধ্যে গোলমাল বেড়ে চলছিল। গত বছর গণেশ পুজোর সময় দু’এলাকার মধ্যে গোলমাল হয়। কিছুদিন আগে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা রেললাইনের ধারে গিয়ে সঞ্জুর সাট্টার ঠেক ভেঙে দেন। সঞ্জু ও তার লোকেদের ধারণা হয়, সোনা পাপ্পুর ইন্ধনেই ভাঙা হয়েছে তার সাট্টার ঠেক। পুলিশের মতে, এর মধ্যে সঞ্জুও জানতে পারে যে, পাপ্পু ও বাবুসোনা লোক পাঠিয়ে কাকুলিয়ায় গোলমাল করতে পারে। তাই সঞ্জু এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে প্রতিরোধ তৈরি করে।

রবিবার কাকুলিয়া রোডের বেণুবন এলাকার বাসিন্দারা পিকনিকে যান। কসবার বোসপুকুর হয়ে ফেরার সময় সেখানেই বিকেলে কাকুলিয়ার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে বোসপুকুরের বাবুসোনাদের গোলমাল বাধে। অভিযোগ, এর পরই সোনা পাপ্পু তার সঙ্গী বাবুসোনা, মিন্টাই, ঝোলদের বলে শোধ তুলতে। রবিবার রাত সাড়ে আটটার পর হাতে পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাবুসোনারা প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে এসে প্রথমে ইটবৃষ্টি ও বোতলবৃষ্টি শুরু করে। গুলি ও বোমা চালাতে থাকে। চপারের আঘাত করে এলাকার বাসিন্দাদের। পাল্টা হামলা চালায় বাপি হালদারের লোকেরাও। এলাকা রণক্ষেত্র হওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের গাড়ি ও বেশ কয়েকটি বাইক এবং স্কুটি ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। দু’পক্ষেরই পলাতকদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.