২৮ আশ্বিন  ১৪২৬  বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

মনিশংকর চৌধুরি: রাজ্যজুড়ে চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত থমকে৷ গুটিকয়েক জায়গায় এমার্জেন্সি বিভাগ খোলা, তবে চিকিৎসক হাতে গোনা৷ বাকিরা ব্যস্ত নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে আন্দোলনে৷ কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসককে নিগ্রহের ঘটনা অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো কাজ করেছে,একথা সকলেরই জানা৷ কিন্তু প্রায় একই সময়ে জেলার হাসপাতালগুলিতেও এমন চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা ঘটে গিয়েছে, সে খবর বিশেষ প্রকাশ্যে আসেনি৷

[ আরও পড়ুন: ভাড়া নিয়ে বচসার জের, ট্যাক্সি চালককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে ধৃত যাত্রী]

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিন কয়েক আগেই ঘটে গিয়েছে এক চিকিৎসককে নিগ্রহের ঘটনা৷ যার সাক্ষী ওই হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মী৷ সেই ঘটনা তুলে ধরতে রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় চলে এসেছেন শ্যামাচরণ ঘোষ৷ যোগ দিয়েছেন এনআরএস চত্বরে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে৷ সেখানেই তাঁর থেকে ঘটনা শুনলেন সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের প্রতিনিধি৷

কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার পথে দিন কয়েক আগে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক যুবক৷ মাথায় গুরুতর চোট লাগে তার৷ যুবকটি মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ৷ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যুবককে ভরতি করা হয়৷ যার প্রত্যক্ষদর্শী সালার থানার বাসিন্দা, হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী শ্যামাচরণ ঘোষ৷ পরবর্তী ঘটনার বিস্তারিত তিনিই জানালেন৷ তাঁর কথায়, ‘ছেলেটিকে ভরতি করে ওর বাবা৷ সেসময় যে চিকিৎসক কাজের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করার পর চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্তু ওইটুকু সময়ও তাঁকে দিতে চাননি কয়েকজন৷ ডাক্তারবাবু সবে মাথায় স্টিচ করবেন বলে তৈরি হচ্ছিলেন৷ সেই সময়েই কয়েকজন বাইরে থেকে ওয়ার্ডে ঢুকে ডাক্তারবাবুর মাথায় একটা চড় মারেন৷ তারপর আরেকটা চড় মারেন৷ সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারবাবু উঠে পড়েন৷ বলেন, তিনি এভাবে কাজ করতে পারবেন না৷ ছেলেটির বাবাকে ডেকে বলেন, ছেলেকে নিয়ে যান৷ চিকিৎসা করতে অনুরোধ করবেন না৷ পারব না৷’

[ আরও পড়ুন: হাড় ঢুকেছে পরিবহর করোটিতে, চিরতরে বাদ সাঁতার-ড্রাইভিং]

চিকিৎসকের কাছ থেকে একথা শোনার পর স্বভাবতই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রোগীর বাবা৷ সরকারি হাসপাতালে তো পুলিশি নিরাপত্তা থাকে৷ তাহলে এমন ঘটনার সময়ে পুলিশ কোথায় ছিল? এই প্রশ্নের উত্তরে শ্যামাচরণ ঘোষ জানালেন, ‘পুলিশ তো ওদের ভয়ে লুকিয়ে গিয়েছিল৷ তারপর থানায় খবর দেওয়া হয়৷ পুলিশ অনেক পরে আসে৷’ পুলিশ হাসপাতালে যাওয়ার পর অবশ্য কিছুটা ভরসা পান চিকিৎসকরা৷ এদিকে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত যুবকের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে৷ তা দেখেই ফের চিকিৎসা পরিষেবায় ফেরেন ওই চিকিৎসক৷ তাঁর বাবাকে আশ্বস্ত করেন, ছেলের চিকিৎসা হবেই৷

আর এভাবেই মানবিকতার নজির রাখেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা৷ শ্যামাচরণ ঘোষের কথায়, ‘ডাক্তারবাবুরা নিজেদের কাজ করছেন৷ কিন্তু সব গোলমাল পাকিয়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে৷’ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শ্যামাচরণবাবুর মতো অভিযোগ রয়েছে আরও অনেকের৷ অভিযোগ যাঁরাই করুন, তার সত্যতা থাক বা না থাক, রাজ্যজুড়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতিতে পড়েছে, তার সামগ্রিক দায়ভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এড়াতে পারেন না, সেকথা অভ্রান্ত৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং