পায়ের ঘায়ে থিকথিক করছে ব্যাকটেরিয়া। সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না সেখানে। সেই ব্যাকটেরিয়াকে মারতে একাধিক ভাইরাস দিয়ে মলম তৈরি করছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ। এমন ভাইরাস যা বারোটা বাজিয়ে দেবে ব্যাকটেরিয়ার!
আইসিএমআর ডিরেক্টর ড. শান্তসবুজ দাসের বক্তব্য, ডায়াবেটিক ফুট আলসার নিরাময় করতে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প খুঁজছে অনেকেই। তার মধ্যে একটা বিকল্প ফাজ। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে পারে এমন বিশেষ ধরনের ভাইরাস।
আরও পড়ুন:
কীভাবে? ভাইরাস প্রথমে চিনে নেবে শত্রু ব্যাকটেরিয়াকে। তার কোষের সঙ্গে লেগে যাবে। নিজের জিনগত উপাদান ঢুকিয়ে দেবে ব্যাকটেরিয়ার ভিতর। এরপর ব্যাকটেরিয়ার কোষের দখল নেবে ফাজ বা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী ভাইরাস। অভিনব ওষুধ আবিষ্কারের নেপথ্যে ডায়াবেটিস ফুট আলসার নিয়ে দুশ্চিন্তা। ডায়াবেটিস বা মধুমেহ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শতকরা দশ শতাংশ আক্রান্ত হন ডায়াবেটিস ফুট আলসারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে স্নায়ুর উপরে। ক্রনিক ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের স্নায়ুর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। পায়ের পেশি, হাড়, ত্বক একে একে সবই ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এ ছাড়াও মধুমেহ অসুখে স্নায়ুর অনুভূতি চলে যায়। পায়ের তলায় কিছু ঢুকে গেলে বুঝতে পারেন না সুগারের রোগী। ফলে সেখান থেকে সংক্রমণ। সুগারের রোগীর ঘা সহজে সারতে চায় না।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সংক্রমণ ভয়ংকর রকম অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। ওষুধ দিয়ে কিছুটা কমে। তবে সিংহভাগ ক্ষেত্রে পা বাদ দিতে হয়। সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেখা যায় সেপসিসও। ড. শান্তসবুজ দাস জানিয়েছেন, পায়ের এই সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটা মারণ সমস্যা। ডায়াবেটিক ফুট আলসারে ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া থিক থিক করে। ডায়াবেটিক ফুট আলসার আবার পলিমাইক্রোবিয়াল, অর্থাৎ একটা ব্যাকটেরিয়া নয়, অনেকগুলো ব্যাকটেরিয়া থাকে এই ক্ষতে। কনভেনশনাল অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ডায়াবেটিক ফুট আলসার সারানো খুব ঝঞ্ঝাটের।
আইসিএমআর ডিরেক্টর ড. শান্তসবুজ দাসের বক্তব্য, ডায়াবেটিক ফুট আলসার নিরাময় করতে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প খুঁজছে অনেকেই। তার মধ্যে একটা বিকল্প ফাজ। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে পারে এমন বিশেষ ধরনের ভাইরাস। এদিকে ফাজ জাতীয় ওষুধ খাওয়া নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। কিন্তু বহিরঙ্গে ব্যবহার বা বাহ্যিক ব্যবহারে সমস্যা নেই। সেই থেকেই নয়া প্রোজেক্ট। তৈরি হয়েছে ফাজ ককটেল। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ার দফারফা করতে পারে এমন একগুচ্ছ ভাইরাসের ককটেল। হাইড্রোজেলের মতো এই ওষুধ পায়ের ক্ষতে লাগিয়ে দিতে হবে। আইসিএমআর-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, জেলটা লাগিয়ে দিয়ে তার ওপর ব্যান্ডেজ করে দিলেই হবে। ডায়াবেটিক ফুট আলসারের ক্ষতস্থানে যে ব্যাকটেরিয়া আছে, তাকে মারবে ওই ফাজ ককটেল।
সর্বশেষ খবর
-
‘কারও নামে বদনাম করিনি’, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই নেতাজি নিয়ে সুরবদল অনন্ত মহারাজের
-
ইউক্রেনের ব্যাঙ্কের সঙ্গে বিবাদ! যুদ্ধের মাঝে রাশিয়ায় বড় দায়িত্বে ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি
-
‘সময় ঠিক করুন, সব প্রশ্নের জবাব দেব’, স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিরোধীদের পালটা চাপ শাহের
-
খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো প্রত্যাবর্তন! কুয়েতের দলকে উড়িয়ে এসিএল টু-র মূল পর্বে ইস্টবেঙ্গল
-
‘শাহী’ বৈঠকে রফাসূত্র, কুড়মালি ভাষা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তিতে সবুজ সংকেত!