সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিবিআইয়ের হাত থেকে নিজেকে ‘বাঁচাতে’ কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজীব কুমার৷ আর বৃহস্পতিবারই তাঁকে স্বস্তি দিল হাই কোর্ট৷ বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন নগরপালকে৷ তবে এখন কলকাতার বাইরেও যেতে পারবেন না তিনি৷ সিবিআইয়ের কাছে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে৷ পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কোনও কাজেও যেতে পারবেন না তিনি বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
[আরও পড়ুন: জুনের ১০ তারিখ খুলছে রাজ্যের স্কুলগুলি, ফেসবুক পোস্টে ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর]
বিচারপতি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই ডাকলেই তাঁকে হাজিরা দিতে হবে৷ জেরা সবরকম সহযোগিতা করতে হবে৷ কোনও প্রশ্ন এড়াতে পারবেন না তিনি৷ প্রতিদিন শহরে তাঁর উপস্থিতি জনিত হাজিরা মেলাবেন এক সিবিআই অফিসার৷ মামলার পরবর্তী শুনানি গরমের ছুটির পর ১২ জুন৷ সেই শুনানির সময় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হতে পারে৷
সিবিআইয়ের নোটিস খারিজ করার আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবারই আদালতে আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন সিট কর্তা৷ বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছিলেন রাজীব কুমারের আইনজীবী৷ আর এদিন বিকেলেই হাই কোর্টের শুনানিতে সাময়িক স্বস্তি পেলেন রাজীব কুমার৷ সিবিআই সূত্রে খবর, বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন রাজীব কুমার বলে আন্দাজ করেছিলেন তাঁরা৷ সেইমতো গত কয়েকদিন ধরেই সেখানে উপস্থিত রয়েছেন সিবিআইয়ের আইনজীবী৷ কিন্তু তা না করে এদিন সরাসরি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল৷
উল্লেখ্য, গত সোমবার হাজিরা এড়িয়ে যান রাজীব কুমার। তারপর দুপুরে সিআইডি আধিকারিকদের মাধ্যমে সিবিআই দপ্তরে বাড়তি সময় চেয়ে চিঠি পাঠান তিনি। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে বলা হয়, পারিবারিক কিছু কাজে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বাড়িতে। সেই কারণে সোমবার সিবিআই দপ্তরে যেতে পারেননি। পারিবারিক ওই ব্যস্ততা মিটতে সময় লাগবে। তাই তাঁকে যেন সিবিআই দপ্তরে যাওয়ার জন্য অন্যদিন নির্দিষ্ট করা হয়। এবং সেটা সাতদিন পর। পাশাপাশি বারাসত আদালতে জামিনের আগাম আবেদনও জানাননি তিনি। গতকাল বিকেল অবধি রাজীবের আরজি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন সিবিআই কর্তারা। তবে রাতের দিকে আকারে ইঙ্গিতে তাঁরা বুঝিয়ে দেন যে আর সময় দেওয়া হবে না প্রাক্তন নগরপালকে। কিন্তু এদিন হাই কোর্টের শুনানিই তাঁর কাছে রক্ষাকবচের মতো কাজ করল৷ পরবর্তী পদক্ষেপের আগে অনেকটাই সময় পেয়ে গেলেন রাজীব কুমার৷