অর্ণব আইচ: চিৎপুরের পোড়ো বাড়িটিতে মাদক নিতে গিয়েছিল কয়েকজন যুবক। অন্ধকার ঘরে ঢুকে মোবাইলের আলো জ্বালিয়েই আঁতকে ওঠে তারা। ঘরের এক কোণে শুয়ে একটি কঙ্কাল! ‘ভূতের ভয়ে’ চিৎকার করে দৌড়ে বাইরে চলে আসে তারা। বলা ভাল ‘ভূতের হাত’ থেকে বাঁচতে তারা ছুটে চলে আসে পুলিশের কাছে। রীতিমতো হাঁফাতে হাঁফাতে গিয়ে কঙ্কাল দেখতে পাওয়ার ঘটনাটি জানায়।
আর সেই কঙ্কাল উদ্ধারই উসকে দিল এক আইনজীবীর মৃত্যুরহস্য। উত্তর কলকাতার আইনজীবী পার্থ সাহা (৫২) নিখোঁজ হওয়ার আট মাস পর চিৎপুরের শ্রীনাথ মুখার্জি লেনের পোড়োবাড়ি থেকে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে, এমনই দাবি পুলিশের। কঙ্কালের পরনের জামাকাপড়, ব্যাগ ও অন্যান্য কিছু জিনিসপত্র, ডায়েরির পাতায় লেখা সুইসাইড নোট ও নোটের তলায় সই দেখে সেগুলি যে তাঁর স্বামী পার্থর, তা পুলিশকে জানিয়েছেন আইনজীবীর স্ত্রী রূপা সাহা।
[আরও পড়ুন: ছাদনাতলা থেকে তরুণীকে হিঁচড়ে নিয়ে যায় পুলিশ! ২৪ ঘণ্টা পর বিয়ের পিঁড়িতে হিন্দু-মুসলিম যুগল]

যদিও কঙ্কাল তথা দেহটি যে তাঁর স্বামীর, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে তিনি ডিএনএ পরীক্ষার দাবি করেছেন। দু’পাতা সুইসাইড নোটে তিনি মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করে যাননি। বরং হতাশা ও ‘প্যানিক ডিসঅর্ডার’-এর কারণে তিনি আত্মহত্যা করছেন বলে দাবি করেছেন। স্ত্রীকে বৈষয়িক কিছু বিষয় জানিয়েছেন। ভাইকেও আলাদাভাবে একটি ব্যাংকের ব্যাপারে তথ্য জানিয়ে নিচে ‘রাজু’ বলে সই করেছেন। আলাদাভাবে ছেলেকেও উৎসাহিত করে গিয়েছেন। গত বছরের ১১ অক্টোবর তিনি লিখেছেন ওই সুইসাইড নোটটি। মূলত সেদিনই সকাল ১০টার পর থেকে পার্থবাবু নিখোঁজ হয়ে যান। পুলিশের কাছে তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, ওই কঙ্কালটি তাঁর স্বামীর হয়ে থাকলে তাঁকে খুন করা হয়েছে। স্বামীকে খুনের পিছনে তাঁর পরিচিতদেরই হাত রয়েছে বলে অভিযোগ আইনজীবীর স্ত্রীর।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর কলকাতার নর্দান অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা আইনজীবী পার্থ সাহা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত বছরের ১১ অক্টোবর সকাল ন’টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর পরিবারের লোকেরা চিৎপুর থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ ও ভবানী ভবনে সিআইডিকেও বিষয়টি জানান। যদিও কেউ বুঝতে পারেননি যে, বাড়ি থেকে আধ কিলোমিটার দূরেই তিনতলা পোড়ো বাড়ির দোতলার ঘরেই রয়েছে তাঁর দেহ। ওই বাড়িতে কারও যাতায়াত থাকে না বলে পচা গন্ধও কেউ পাননি। সুইসাইড নোট মিললেও কীভাবে ওই আইনজীবী আত্মঘাতী হন, তা নিয়েও রয়েছে রহস্য। তিনি বিষ বা ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে তাঁর পরিবারের লোকেরা ছাড়াও কয়েকজন পরিচিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[আরও পড়ুন: জেলা পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় মাত্র ১ শতাংশ, ‘সুষ্ঠু’ মনোনয়নের কৃতিত্ব দাবি তৃণমূলের]
সর্বশেষ খবর
-
জীবন-মৃত্যুর সীমান্তে দুই বন্ধু, ‘আমরা হেরে গেলে রোনাল্ডো কাপ জিতুক’, বলছেন মদ্রিচ
-
হারের পরের সাংবাদিক বৈঠকেই এল বাবার মৃত্যুসংবাদ, হতবাক কঙ্গোর কোচ, পাশে দাঁড়াল ফুটবল বিশ্ব
-
গাড়ি শিল্পে বড় বিনিয়োগ, মারুতির নয়া কারখানা উদ্বোধনে ভারতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী, থাকবেন মোদিও
-
ফের ক্যামেরার সামনে গালিগালাজ, বিজেপিকে একের পর এক কুকথা মহুয়ার! ভাইরাল ভিডিও
-
আরও আইনি প্যাঁচে অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজ! বিপুল সম্পত্তি কীভাবে? খোঁজ নিচ্ছে ইডি