শাম্মী হুদা: সোমবারের রাতে চেনা কলকাতা দেখেছিল অচেনা দৃশ্য। মঙ্গলবার ফের স্বমহিমায় কল্লোলিনী। মেট্রোয় যুগলকে হেনস্তার প্রতিবাদে দমদম মেট্রো স্টেশনের বাইরেই দেখানো হল বিক্ষোভ। প্রতিবাদে মুখর হলেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে তরুণ-তরুণীরা। শামিল হলেন আম কলকাতাবাসীও।
[ নীতি পুলিশের এ শহর নয় চেনা কলকাতা, প্রতিবাদে নেটদুনিয়া ]
ঘটনা সোমবার রাতের। মেট্রোর মধ্যে আলিঙ্গন করতে দেখা যায় এক যুগলকে। তাঁদের ওই অবস্থায় দেখেই মেজাজ সপ্তমে ওঠে এক প্রবীণের। কটাক্ষ করে বলা হয়, ঘনিষ্ঠ কাজ পার্কস্ট্রিটের কোনও পানশালায় গিয়ে করলেই হয়। মেজাজ হারাননি ওই যুবক ও যুবতী। তাঁরা বলেন, এতে কি কারও কোনও অসুবিধা হচ্ছে? তাঁরা যদি নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে নেন, তাহলে অসুবিধা কোথায়! যুবককে সলমন খান বলেও শ্লেষ করা হয়। তাতেও স্থির থাকেন তরুণ-তরুণী। তারপরই আসে হুমকি। দমদমে নামলে দেখে নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তবে শুধু মুখের কথায় থেমে থাকেনি বিষয়টা। দমদমে নেমে সত্যিই যুগলের উপর চড়াও হন বয়স্করা। চলে দেদার চড়-থাপ্পড়। প্রেমিককে বাঁচাতে আঁকড়ে ধরেন তাঁর প্রেমিকা। তাতেও রেহাই মেলেনি। সহযাত্রীদের অনেকেই মেয়েটিকে মেরেই ‘হাতের সুখ’ করে নেন। সকাল হতেই এ ছবি ছড়িয়ে পড়ে। চেনা শহরে এহেন নীতি পুলিশি দেখে তাজ্জব হয়ে যান শহরবাসী। সারা দিনই প্রতিবাদে মুখর ছিল সোশ্যাল মিডিয়া। ঘটনার প্রতিবাদে দমদম মেট্রো স্টেশনের বাইরে একজোট হলেন তরুণ-তরুণীরা।
[ শ্রমিক দিবসেই জীবনাবসান, প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র ]
প্রতিবাদীদের দাবি কী? তাঁদের স্লোগানেই তা অনেকটা স্পষ্ট হবে। ‘আমার শরীর আমার মন, দূর হটো রাজ শাসন’- উচ্চকণ্ঠে এই স্লোগান দিলেন এক তরুণ। সমস্বরে উচ্চারিত হল সে কথাই। নীতি পুলিশির বিরুদ্ধেই তাঁদের প্রতিবাদ। প্রতিবাদী এক তরুণী তারস্বরে চেঁচিয়ে বললেন, ‘দয়া করে কারও তাবেদারি করবেন না। রাষ্ট্রের তাবেদারি করবেন না। সবার আগে মানবিকতাকে জায়গা দিন। কারণ যিনি আজ হেনস্তা করছেন তাঁর ঘরেও ভাইবোন আছে।’ সুতরাং এই প্রবণতা চলতে থাকলে একদিন ঘরের লোকও যে অন্য কারও হাতে হেনস্তার শিকার হবেন না, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। এদিন সেকথাই জোর দিয়ে বলতে চাইলেন প্রতিবাদী যুবক-যুবতীরা। মেট্রো বা ট্রেন থেকে নেমে অনেকেই পায়ে পায়ে গিয়ে দাঁড়ালেন তাঁদের পাশে। নীতি পুলিশির এই ছবি কোনওভাবেই বরদাস্ত করতে পারছে না শহরবাসী। এদিন এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই যেন তার প্রমাণ মিলছে। প্রতিবাদী এক তরুণী বললেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, যাঁরা ছেলেটি ও মেয়েটিকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে, তাঁদের নামে এফআইআর দায়ের হোক।’
ঘটনাস্থলে মজুত ছিলেন পুলিশকর্মীরাও। তবে যেহেতু এটি মেট্রোর ঘটনা তাই পুলিশ আগ বাড়িয়ে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তবে নীতি পুলিশি যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনা তাদের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
[ ১৪ মে কি আদৌ হবে পঞ্চায়েত ভোট? আদালতের রায়ে ফের অনিশ্চয়তা ]
সর্বশেষ খবর
-
মেয়ে-জন্ম এক সামাজিক নির্মাণ! যে ভাষায় কথা বলি সেখানেও লুকিয়ে লিঙ্গবৈষম্যের শিকড়
-
বলিউডে ‘কন্ট্রোভার্সি ক্যুইন’, পাকিস্তানে ‘ঈশ্বর’ রাখি সাওয়ান্ত! নিষিদ্ধ ফতোয়া উড়িয়ে কী এমন করলেন?
-
যুদ্ধে পুড়ছে ইউক্রেন, হরমুজে হাহাকার, ট্রাম্পের ভ্রূ কুঁচকে দিল্লির দরবারে পুতিন-পেজেস্কিয়ান
-
দিল্লিতে শুরু মোদি-পুতিন বৈঠক, ব্রিকস বিন্যাসে মার্কিন ভ্রূকুটি ফুৎকারে ওড়াল ‘ধুরন্ধর’ ভারত
-
১৩ মাসের ব্যবধানে ফের হাসপাতালে সৌরভের মা, এখন কেমন আছেন নিরূপা গঙ্গোপাধ্যায়?