২১ চৈত্র  ১৪২৬  শনিবার ৪ এপ্রিল ২০২০ 

Advertisement

তরুণীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, সন্তান জন্মের পরই গ্রেপ্তার যুবক

Published by: Bishakha Pal |    Posted: February 21, 2020 8:50 pm|    Updated: February 21, 2020 8:50 pm

An Images

ছবিটি প্রতীকী

অর্ণব আইচ: ঠান্ডা পানীয়ের মধ্যে মাদক খাইয়ে তরুণীকে ধর্ষণ করে ব্ল্যাকমেল করার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হল যুবককে। ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর পরিবারের কাছে টাকা চেয়েছিল অভিযুক্ত যুবক। কিন্তু কিছুদিন আগে তরুণী একটি সন্তানের জন্ম দেন। এরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় সে। তবে গ্রেপ্তারের পর ভোল পালটে আদালতে তরুণীকে বিয়ের আর্জি জানায় সে। যদিও চিঁড়ে ভেজেনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতেই রাখা হয়েছে যুবককে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৫ সালে বাগুইআটির বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় কাশীপুরের যুবক বিজন রায়ের। তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাও হয়। গত বছরের মে মাসে ওই যুবক তরুণীকে কাশীপুরে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। অভিযোগ, ঠান্ডা পানীয়র মধ্যে মাদক মিশিয়ে ওই তরুণীকে খাওয়ায় ওই যুবক। তিনি প্রায় অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে যুবক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ওই ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ তুলে রাখে অভিযুক্ত। তরুণীর জ্ঞান ফিরে আসার পর তাঁকে সেই ফুটেজ দেখানো হয়। এরপর থেকেই যুবক ওই তরুণীকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। বলে, তার কথামতো না চললে ওই ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই ভয়ে তরুণী পুলিশকে অভি়যোগও জানাতে পারেননি।

[ আরও পড়ুন: ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কৃতিত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নামে পোস্টারে, শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর ]

এর মধ্যেই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি অভিযুক্ত যুবক। উপরন্তু তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চায় সে। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় যুবক তার কাছে থাকা তরুণীর ওই অশ্লীল ছবি ও ধর্ষণের ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, যুবক তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে এত হুমকি দেওয়ার পরও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তিনি গর্ভপাত করার কথা ভাবেননি। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তরুণী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের জন্মের পরই তিনি কাশীপুর থানায় গিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই সূত্র ধরে কাশীপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ওই যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

শুক্রবার অভিযুক্তকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। তার জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তী। আদালতে অভিযুক্ত যুবক আরজি জানায়, সে তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি। সন্তানটি যে তার, তা-ও স্বীকার করে সে। কিন্তু এতদিন সে তরুণীকে বিয়ে করেনি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তাকে জেরা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত যুবকের আসল উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[ আরও পড়ুন: ভাষা দিবসকে সামনে রেখে অখণ্ডতার বার্তা, বিরোধী শক্তিকে ফের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক মমতার ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement