কৃষ্ণকুমার দাস: কয়েকদিনেই আতঙ্ক পুরীতে পরিণত হয়েছে বউবাজার। একের পর এক ভেঙে পড়েছে বাড়ি। বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে আরও একাধিক বাড়িকে। দুর্ঘটনা এড়াতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। এবার রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়কে আবাসন খালি করতে বলল মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
[আরও পড়ুন: মাঝেরহাট বিপর্যয়ের বর্ষপূর্তি, রেল-পূর্ত দপ্তরের টানাপোড়েনে আটকে সেতু নির্মাণ]
দীর্ঘদিন ধরেই ১০৫ বউবাজার স্ট্রিটে থাকেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী তাপস রায়। মোট আটটি পরিবারের বসবাস এই আবাসনটিতে। জানা গিয়েছে, বুধবার রাতেই মেট্রো রেলের তরফে ওই আবাসনের বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট খালি করে দিতে বলা হয়েছে। সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ পর্যন্ত। এত অল্প সময়ে কীভাবে ঘর ছাড়বেন তা বুঝতে উঠতে পারছেন না আবাসনের বাসিন্দারা। কারও সন্তান কাজে। কেউ বয়সের ভারে ন্যুব্জ। এরই মাঝে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের কথায় যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। যদিও তাপস বাবু জানিয়েছেন, লিখিত কোনও নোটিশ দেয়নি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। মৌখিকভাবে তাঁকে জানানো হয়েছে বিষয়টি। তবে পরিস্থিতি বুঝে বাড়ি খালি করার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কথাই বলেছেন মন্ত্রী। কী হবে ভবিষ্যৎ তা নিয়ে উচাটন রয়েই গিয়েছে।
রবিবার থেকে একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়ছে বউবাজারে। বুধবারও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভেঙে পড়ে বাড়ি। ১৩এ দুর্গা পিতুরি লেনের তিনতলা সাজানো একটি বাড়ি মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। তবে এদিন বউবাজারের ঘরছাড়াদের ১০ মিনিটের জন্য বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যেই যা সম্ভব সেটুকু গুছিয়ে নিয়েই ঘর ছাড়েন বাসিন্দারা। প্রাণের প্রিয় বাড়িই যে এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে তাঁদের কাছে। তবে দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। বাড়িগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখতে বুধবার ড্রোনও ওড়ানো হয় ওই এলাকায়। কিন্তু কতদিনে সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন ওই এলাকার বাসিন্দারা, তা অনিশ্চিত।