২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: দুর্গাপুজোর মতো এবার কালীপুজোতেও সরকারি অনুদান এবং বিদ্যুতের বিলে ছাড় দেওয়ার জোরালো দাবি উঠল। তাও আবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা-সহ অন্যান্য আইপিএস কর্তা এবং সিইএসসির পদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের সামনেই এমন দাবি তুললেন শহরের বিভিন্ন কালীপুজো কমিটির কর্তারা।
দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজোর উদ্যোক্তাদের নিয়েও সোমবার সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করেছিল কলকাতা পুলিশ। এই বৈঠক হয় কলামন্দিরে। বৈঠকের শুরুতেই কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (সদর) জাভেদ শামিম জানান, “এবার কালীপুজো পড়েছে রবিবার। পরের দিন থেকে বিসর্জন দেওয়া যেতে পারে। বিসর্জনের শেষ দিন ৩১ অক্টোবর। তবে ওই দিন আবার ছটপুজো। কারণে বাজে কদমতলা ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও জানিয়েছেন, এবার শহরে মোট কালীপুজোর সংখ্যা ৩,২৫৬টি। ‘আসান’ অ্যাপের মাধ্যমে কালীপুজোর অনুমোদনের কাজ চলছে। এই কাজ চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

[আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে ৫০ হাজার চিঠি পাঠাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি, কেন জানেন?]

পাশাপাশি সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমেও পুজোর অনুমোদনের কাজ শুরু হয়েছে। যাঁরা অনুমোদন পাননি, তাঁরা এরই মধ্যে আবেদনপত্র পাঠাতে পারেন। জাভেদ শামিম আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই পুজো করতে হবে। মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থানের গেট নিরাপত্তার কারণে আইন মেনেই করতে হবে। রাত দশটার পর আর মাইক বাজাবেন না। ৯০ ডেসিবেলের বেশি শব্দবাজি ব্যবহার নিষিদ্ধ।”
এরপরেই পুজো কমিটির কর্তারা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখতে ওঠেন। আমহার্স্ট স্ট্রিটের নবযুবক সংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, “দুর্গাপুজোয় প্রতিটি কমিটিকে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়। বিদ্যুতের বিলে ছাড়ও পায় তারা। তাহলে কালীপুজোটা কি কোনও পুজো নয়? শারদীয়ার মতো দীপাবলিও বাঙালির প্রাণের উৎসব। আমরা পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে আমাদের এই দাবি রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।” এই বক্তব্যকে তুমুল হাততালি দিয়ে সমর্থন করেন অন্যান্য পুজো কমিটির কর্তারাও। বক্তব্য রাখতে উঠে পাথুরিয়াঘাটা পুজো কমিটি এবং কালীঘাট গরমিল সংঘের কর্তারাও জানান, “আমরা এই দাবিতে সহমত হচ্ছি। দুর্গাপুজোর পর কালীপুজো আসায় আমাদের স্পনসরশিপ অনেক কমে যায়। বিজ্ঞাপনও পাই না। তার উপর বাজারমূল্য এতটাই বেড়েছে যে পুজো করাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কালীপুজোয় সরকারি অনুদান ন্যূনতম ১০ হাজার টাকার দাবি তুলছি আমরা। সঙ্গে আমাদের পুজোয় বিদ্যুতের বিলেও ছাড় দেওয়া হোক। পাশাপাশি, ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের মতো ফোরাম ফর কালীপুজোও তৈরি করা হোক। এর জন্য আমাদের মধ্যে একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি করলে আমাদের মধ্যে সমন্বয় আরও ভাল হবে।”
এরপর বিভিন্ন পুজো কমিটি তাদের পুজোর সমস্যা নিয়ে পুলিশ কর্তাদের সামনে বক্তব্য তুলে ধরে। ওয়াটগঞ্জের সন্ধ্যানীড়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “কালীপুজোয় দূষণ হয় বলে চেঁচামেচি করা হয়। তাহলে বছরের অন্যান্য দিনগুলিও কি দূষণ ছড়ায় না?” উল্টোডাঙার করবাগান সর্বজনীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “অরবিন্দ সেতুর উপর হাইটবার থাকায় এবারে আমাদের বিসর্জনের সমস্যা হবে। বিসর্জনের জন্য এই হাইটবার তুলে দিলে ভাল হয়।”

[আরও পড়ুন: রাতভর মুরগি খেয়ে দোকানেই ঘুম চন্দ্রবোড়ার! বনকর্মীদের সাহায্যে উদ্ধার]

বিদ্যুতের বিল সম্পর্কে সিইএসসির পক্ষ থেকে অরিজিৎ বসু জানান, “কালীপুজোয় বিদ্যুতের চার্জ গতবার যা ছিল, এবারেও তাই রয়েছে। বাড়ানো হয়নি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সম্পর্কে সমস্যা জানাতে দুটি হেল্পলাইন চালু হয়েছে – ৯৮৩১০৭৯৬৬৬ ও ৯৮১০৮৩৭০০।” পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা জানান, “সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের সমস্ত নির্দেশ মেনেই আপনারা পুজো করুন। নিষিদ্ধ শব্দবাজি, সাউন্ড, মণ্ডপ সমস্ত বিষয়েই এই নির্দেশ মানতে হবে। ডিজে ব্যবহার করা যাবে না। দুর্গাপুজো কমিটিগুলি এই বিষয়ে আমাদের সাহায্য করেছে বলেই শান্তিতে পুজো মিটেছে।”

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং