১৯ শ্রাবণ  ১৪২৮  বৃহস্পতিবার ৫ আগস্ট ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

লকডাউনে মন খারাপ, মজার অডিও বানিয়ে শোনানো হবে অঙ্গনওয়াড়ির বাচ্চাদের

Published by: Sulaya Singha |    Posted: August 19, 2020 11:01 pm|    Updated: August 19, 2020 11:01 pm

Now students can listen to poems, initiative taken by WB Govt

ছবি প্রতীকী

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: দীর্ঘ লকডাউনে টানা পাঁচ মাস অঙ্গনওয়াড়ির ক্লাস বন্ধ। দেখা হচ্ছে না বন্ধুর সঙ্গে। দুষ্টুমিরও সুযোগ নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরে বন্দি থেকে মন খারাপ। কিংবা মা-বাবার কথা একটু না শুনলেই জুটছে কড়া বকুনি। সেই শিশুদের মন ভোলানোর জন্য এবার পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার।

পাইলট প্রজেক্টে সাফল্য এসেছে পুরুলিয়ার মতো দু-একটি জেলায়। ঠিক হয়েছে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ-সহ সিলেবাসে থাকা সমস্ত ছড়া বা রূপকথার গল্পের অডিও রেকর্ড করে তা পাঠানো হবে প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে। বাবা–মা, কখনও ঠাকুরমা–ঠাকুরদা কিংবা বড়ির অন্য কেউ যিনি মোবাইল ব্যবহারে মোটামুটি পারদর্শী, তাঁর ফোনেই সেই ক্লিপিং ভরে দেওয়া হবে। বাচ্চাদের মন ভোলাতে তিনিই সেসব শুনিয়ে মুখস্থ করাবেন। ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গোটা রাজ্যে দ্রুত এই কাজ শুরু করতে চলেছে নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর।

[আরও পড়ুন: সার্জারি না জেনেই গলব্লাডার অপারেশন, প্রাণ হারালেন রোগী, নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে শুরু তদন্ত]

দপ্তরের মূল উদ্দেশ্য, বাচ্চাদের ভুলিয়ে রাখা। গান, ছড়া এসবের মাধ্যমে তাদের ব্যস্ত রাখা। যার জেরে শিশুটির পড়াশোনার কাজও এগিয়ে যাবে। মনও ভাল থাকবে বলে দপ্তরের বিশ্বাস। তার সঙ্গে বাবা–মা–ঠাকুরদা–ঠাকুরমা কিংবা বাচ্চাটির পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শিশুটির মাধ্যমে সেই পরিবারের সঙ্গে অটুট বন্ধন তৈরি করা। এই মুহূর্তে সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকেই সরকারের তরফে খাদ্যশস্য পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ঠিক হয়েছে ওই সময়েই প্রতি ১৫ দিন অন্তর অডিও ক্লিপিংগুলি পরিবারের মোবাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এমনকী, বাড়িতে কারও মোবাইল না থাকলে, তা প্রতিবেশীর মোবাইলেও পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর জেরে শিশুদের মন ভাল থাকবে। পরিবারের বন্ধন স্বাস্থ্যকর থাকবে। সদস্যদের মধ্যে সদ্ভাব থাকবে। সার্বিকভাবে গ্রামীণ সমাজের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

দপ্তর সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে সরাসরি রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আসে এমন শিশুর সংখ্যা ৩৪ লক্ষ। তাদের বেশিরভাগেই বয়স তিন থেকে ছয়। তাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে দ্বিগুণ সংখ্যক আরও শিশু। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৭০ লক্ষ। তারা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পরোক্ষে রেজিস্ট্রার্ড ওই শিশুগুলির সঙ্গে আসা–যাওয়া করে, বা ওই পরিবারেরই সদস্য।

প্রথম পর্বে এই কাজে পুরোপুরি সাফল্য এলে এরপর নানারকম ‘ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি’র টাস্কও পাঠানো হবে অডিও ক্লিপিংয়ের মাধ্যমে। মন্ত্রী শশী পাঁজার কথায়, “যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, ততদিন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আনা হবে না এই বাচ্চাদের। কিন্তু তাতে মানসিক বিকাশ যাতে ঠিকমতো হয়, মন ভাল থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখাও দরকার।” একইসঙ্গে বলেছেন, “অনেক বাচ্চা একসঙ্গে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে থাকলে যে ‘ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি’ হয়, তা এখন হচ্ছে না। ফলে মনে চাপ পড়তে বাধ্য। সরকার তাদের মন ভোলানোর এই কাজটা করে গোটা পরিবারকে একসূত্রে বাঁধতে চাইছে।”

[আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘যুবযোদ্ধাদের’ নামতে হবে, ভারচুয়াল বৈঠকে বার্তা অভিষেকের]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement