Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
ISIS victims

দেশে ফিরল ৩৯ কফিন, সন্ধ্যায় কলকাতায় আসছে ইরাকে নিহত দুই বাঙালির দেহাংশ

দুপুরে দেহাবশেষ নিয়ে সি-১৭ বিমানে দিল্লিতে ফিরলেন বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯, ১৭:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৭, ২০১৯, ১৭:৫২

options
link
দেশে ফিরল ৩৯ কফিন, সন্ধ্যায় কলকাতায় আসছে ইরাকে নিহত দুই বাঙালির দেহাংশ zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। ইরাক থেকে সোমবার দুপুরে কফিনবন্দি হয়ে ৩৯ জন ভারতীয়র দেহাংশ ফিরল দেশের মাটিতে।

ধারালো অস্ত্রের একটা কোপে ধড় থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল মাথা। আর তারপরই গুলি করে হত্যা। ইরাকে এভাবেই মুণ্ডচ্ছেদ করে ৩৯ জন ভারতীয় পণবন্দিকে হত্যা করেছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা। মৃতদের মধ্যে সমর টিকাদার ও খোকন শিকদার নামে দুই বাঙালিও ছিলেন।

Advertisement

বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভি কে সিং ওই দেহাবশেষ নিয়ে সোমবার দুপুরে সি-১৭ বিমানে দিল্লিতে ফিরলেন। ৩৮ জনের ক্ষেত্রেই ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট মিলে গেলেও বিহারের রাজুকুমার যাদবের ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার ফল সম্পূর্ণ মেলেনি। কাজেই তাঁর দেহ ফেরানো যায়নি। ভীমপুর থানার মহাখোলা গ্রামের সমর টিকাদার ও নদিয়ার তেহট্টের ইলশেমারি গ্রামের বাসিন্দা খোকন শিকদার নামে দুই বাঙালিও রয়েছেন মৃতের তালিকায়। সোমবার সন্ধে ৬টা নাগাদ তাঁদের কফিনবন্দি দেহাবশেষ দমদম বিমানবন্দরে আসার কথা। সেখান থেকে জেলায় আনা হবে। সোমবার রাতেই তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রবিবার ভারতীয় আধিকারিকদের হাতে মৃত ভারতীয়দের দেহাবশেষ তুলে দেওয়া হয়। এদিন কেন্দ্রের তরফে নিহত ভারতীয়দের পরিবারের হাতে কফিনবন্দি দেহগুলি তুলে দেওয়া হচ্ছে। সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ প্রথমে ওই বিমান পৌঁছয় অমৃতসরে। পাঞ্জাবের বাসিন্দা ২৬ জনের দেহ তুলে দেওয়া হয় তাঁদের পরিজনদের হাতে৷ অমৃতসর বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জাব সরকারের মন্ত্রী নভজোৎ সিং সিধু।

[ক্ষমা চাইলেন কেজরি, মঞ্জুর করে মামলা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত জেটলির]

হিমাচল প্রদেশের চারজনের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় সড়কপথে। বিহারের ছয় জন এবং পশ্চিমবঙ্গের দু’জনের দেহ ফেরানো হচ্ছে অন্য বিমানে। কলকাতা ও পাটনা বিমানবন্দরে থাকবেন সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা। প্রতিটি দেহকে পৌঁছে দেওয়া হবে বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানায়। তেহট্ট থানার ইলশেমারি গ্রামের খোকনের স্ত্রী নমিতা ও ভীমপুর থানার মহাখোলা গ্রামের সমরের স্ত্রী দীপালি রবিবার জানান, বিডিও অফিস থেকে স্বামীদের কফিনবন্দি দেহ ফেরার খবর তাঁদের জানানো হয়েছে। দু’জনেই জানান, এই প্রতীক্ষা দুঃসহ। কোথাও একটা আশা ছিল, স্বামী বেঁচে রয়েছেন। কিন্তু প্রিয়জনকে হারিয়ে একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

কফিনবন্দি দেহের উদ্দেশে রবিবারই সামরিক অভিবাদনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান প্রাক্তন সেনাপ্রধান ভি কে সিং। তিনি বলেন, আইএস জঙ্গিরা অত্যন্ত নির্মমভাবে নিরীহ ভারতীয় নাগরিকদের হত্যা করেছে। ২০১৪ সালের জুন মাসে ইরাকে ৪০ জন ভারতীয় নিখোঁজ হওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসে। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের। পরে নিখোঁজদের পরিবারের ডিএনএ-র নমুনা চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। ৩৮ জন ভারতীয়ের ক্ষেত্রেই পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ডিএনএ মিলে যায়। রাজ্যসভায় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এই ঘটনাটির বিষয়ে জানান।

নিহতরা ইরাকের একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে কাজ করতেন। হরজিৎ মাসিহ নামে এক পাঞ্জাবি দেশে ফিরে এসে জানান, ইরাকে জঙ্গিরা তাঁদের অপহরণ করে আটকে রেখেছিল। মৃতের ভান করে হরজিৎ পালিয়ে এলেও বাকি ৩৯ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি। তাঁরা কেউ বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। সূ্ত্রের খবর, ২০১৩ সালের জুনে বাগদাদ থেকে মসুল যাচ্ছিল ভারতীয় শ্রমিকের একটি দল। তখনই তাঁদের অপহরণ করে আইএস জঙ্গিরা। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ও পাসপোর্ট।

[স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই, অটোতেই প্রসব মহিলার]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.