Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ১৫ জুলাই ২০২৬
Ritabrata Banerjee

‘মঞ্চ নাচা-গানার নয়, গুরুত্ব শহিদ পরিবারদের’, একুশের সমাবেশ নিয়ে কর্মীদের কী বার্তা ঋতব্রতর?

যে মঞ্চে সেলেব্রিটিদের দাপটে তিল ধারণের জায়গা পাওয়া যেত না, সেই মঞ্চে এবার গুরুত্ব পাবেন শহিদ পরিবারের লোকজনেরাই। একুশের জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১৯:২২

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১৯:২২

options
link
‘মঞ্চ নাচা-গানার নয়, গুরুত্ব শহিদ পরিবারদের’, একুশের সমাবেশ নিয়ে কর্মীদের কী বার্তা ঋতব্রতর? zoom
গান্ধীমূর্তির পাদদেশে একুশের সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় ঋতব্রত শিবির।

একুশের সমাবেশ। উদ্দেশ্য পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া শহিদ কংগ্রেস কর্মীদের শ্রদ্ধা জানানো। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল জমানায় ‘শহিদ স্মরণ’-এর উদ্দেশে সমাবেশের আয়োজন হয়েছে ঠিকই। তবে সেখানে মোটের উপর শহিদ তথা শহিদ পরিবারের লোকজনেরাই যে ব্রাত্য থেকে যেতেন, তা নিয়ে বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস। এবার নির্বাচনের পর সেই দলটাই বর্তমানে দ্বিধাবিভক্ত। নেত্রী-নীতি সব উলটে পালটে গিয়েছে। মমতাকে ‘নিঃসঙ্গ’ করে এবার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে একুশের সমাবেশের আয়োজন করতে চলেছে ঋতব্রত শিবির। এবার ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরেও অতীতের একুশ সমাবেশ ঘিরে সমালোচনার সুর। “যে মঞ্চে সেলেব্রিটিদের দাপটে তিল ধারণের জায়গা পাওয়া যেত না এতদিন, সেই মঞ্চে এবার গুরুত্ব পাবেন শহিদ পরিবারের লোকজনেরাই।” একুশের জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি জানান, “নীচুতলার কর্মীরা যাঁরা রক্ত দিয়ে লড়াই করে গেছেন, একুশের মঞ্চ তাঁদের। কোনও নাচা-গানা হবে না। আমি আগেই জানিয়ে দিলাম।”

তৃণমূল কংগ্রেসের তত্ত্বাবধানে গতবছর পর্যন্ত একুশের ‘শহিদ স্মরণ’ মেগা ইভেন্টের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। মঞ্চে আড়ম্বর যেমন। তেমনই আয়োজনেও কমতি থাকত না। সকাল থেকে শুরু হত গান-বাজনা। বেলা বাড়লেই শো-টপার হিসেবে এন্ট্রি নিতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ সমাবেশের মঞ্চে কার্যত টলিউডের ‘চাঁদের হাট’ দেখতে লাখো লাখো মানুষের ভিড়ে রেড রোডে সেদিন জনসমুদ্র। তাঁদের সঙ্গে করে রীতিমতো র‌্যাম্প-ওয়াক করতে দেখা গিয়েছে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এসবের মাঝে শহিদদের উদ্দেশে ফুল-মালাও অর্পণ করা হত বৈকি! সমালোচকরা অবশ্য তেমনটাই বলে এসেছেন এতকাল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
তৃণমূল কংগ্রেসের একুশের সমাবেশের মঞ্চ। ফাইল ছবি।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “মঞ্চ নাচা-গানার নয়, মঞ্চে সেলিব্রিটিদের জায়গা নেই। থাকবে শহিদ পরিবারের লোক। সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে তাঁদেরই। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে, নিয়ম লঙ্ঘন না করেই অনুষ্ঠান করব।”

এবার ‘আসল’ তৃণমূলের স্রষ্টা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথাতেও একই ক্ষোভের সুর। একুশের জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠক থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “মঞ্চ নাচা-গানার নয়, মঞ্চে সেলিব্রিটিদের জায়গা নেই। থাকবে শহিদ পরিবারের লোক। সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে তাঁদেরই। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে, নিয়ম লঙ্ঘন না করেই অনুষ্ঠান করব।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, “পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত তৃণমূল স্তরের কর্মীদের জন্য পার্টি ফান্ডের কত টাকা, কোথায় খরচ হয়েছে, একুশের মঞ্চ থেকেই আমরা জবাব চাইব।” এদিন সমাবেশে জমায়েত প্রসঙ্গে ঋতব্রত জানান, “তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের উপর আমার ভরসা আছে। কারা আমাদের সঙ্গে আছেন, দেখার জন্য একুশে জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”

২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে সফল করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে জোর দেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। দক্ষিণ কলকাতার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি বৈঠকে কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই ছয় জেলার নেতাদের উপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২১ জুলাইকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সমাবেশ হিসেবে নয়, বরং দলের ইতিহাস, আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রতিটি জেলা তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যত বেশি সম্ভব মানুষকে কলকাতায় আনার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে। বুথ থেকে ব্লক এবং জেলা স্তর পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয়ভাবে প্রচারে নামার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এবারের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। সমাবেশকে ঘিরে পরিবহণ, কর্মী সমন্বয়, প্রচার কৌশল এবং জনসমাগম নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নেতৃত্বের আশা, বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি দলের সাংগঠনিক শক্তির বড় বার্তা তুলে ধরবে। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.