৫ আশ্বিন  ১৪২৬  সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

স্টাফ রিপোর্টার: কাত করে শোয়ানো কয়েকটা ড্রাম। তার একটার মধ্যে জামা-প্যান্ট পরা এক অবয়ব। কিন্তু কাছে যেতেই দেখা গেল, জামা-প্যান্টের আড়ালে কোনও রক্তমাংসের দেহ নেই। রয়েছে আস্ত নরকঙ্কাল! পাশে সযত্নে রাখা জলের বোতল।

[আরও পড়ুন:রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতেই শুনুন মহিষাসুরমর্দিনী, পুজোয় উপহার দক্ষিণ দমদম পুরসভার]

বুধবার এমনই হাড় হিম করা দৃশ্যের সাক্ষী থাকল নিউটাউনের আকাঙ্ক্ষা মোড়। ঘড়িতে তখন দুপুর দেড়টা। নিউটাউন থানায় একটা ভাসা ভাসা খবর আসে, “মুনবিম হাউজিংয়ের উল্টোদিকে অদ্ভুত কিছু একটা রয়েছে। তাড়াতাড়ি আসুন।” সেখানে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের একটি সাব স্টেশন রয়েছে। চারপাশে হাঁটুসমান ঘাস। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি নিয়ে পু্‌লিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। তখনও আন্দাজ করা যায়নি ঠিক কী দৃশ্য অপেক্ষা করছে পুলিশ অফিসারদের জন্য। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে বড় বড় কতকগুলি ইলেকট্রিক কেবলের ড্রাম। কাত করে শোওয়ানো একটি ড্রামের দিকে আঙুল দেখাচ্ছিল স্থানীয় লোকজন। গিয়ে দেখা যায় জামা-প্যান্ট পরা একজন শুয়ে রয়েছেন। হাত দিয়ে ধরে তাঁকে ডাকতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ! বিবর্ণ পোশাক পরে কঙ্কাল শুয়ে আছে ড্রামের ভিতর। তার পাশে রাখা একটি জলের বোতল। এমনকী পাশে রাখা ব্যাগ থেকে উঁকি দিচ্ছে ফাইলও। চট করে দেখে মনে হবে যেন ক্লান্ত কোনও পথিক ব্যাগ রেখে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

লোকালয়ে নরকঙ্কাল পড়ে থাকার খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর পু্‌লিশের অনুমান, অসুস্থতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। কঙ্কালের ডিএনএ টেস্ট করলে তবেই বোঝা যাবে ঠিক কতদিন আগে মারা গিয়েছেন তিনি। কিন্তু কীভাবে ওই ব্যক্তি ড্রামের ভিতরে এলেন? পুলিশ মনে করছে, কোনওভাবে ড্রামের মধ্যে ঢুকে শুয়েছিলেন তিনি। তারপর সেখান থেকে আর উঠে আসতে পারেননি। তবে মৃত্যুর ঘটনাস্থল নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন কখনও কোনও কটূ গন্ধ পাওয়া যায়নি। একজন মানুষ এলাকায় শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গেল, অথচ কোনও গন্ধ বেরোল না, এই বিষয়টিই ভাবাচ্ছে পুলিশকে।

[আরও পড়ুন:পুজোয় খবর নিয়ে খবরদারি বিবেকানন্দ সার্বজনীনের, এবারের থিম মিডিয়া]

বাইরে থেকে কাউকে খুন করে এ জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কঙ্কালের পাশ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। সেই ব্যাগকে ঘিরেই দানা বেঁধেছে নতুন রহস্য। ব্যাগ থেকে পাওয়া গিয়েছে একটি প্যান কার্ড। তার নম্বর কেএএসপিএস৯৯১ই। প্যানকার্ডে লেখা নাম ফেডারসন সাংমা। এই কঙ্কালই কি তবে ফেডারসন? তদন্তে সেই দিকেই নজর দিচ্ছেন গোয়েন্দারা। তবে প্যানকার্ড অনুযায়ী সাংমার ঠিকানা অসমের কার্বি আংলং জেলার সাতগাঁও। ফেডারসনের ঠিকুজি জানতে সাতগাঁও যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে নিউটাউন থানার একটি টিম। সেখানে গেলে তবেই জানা যাবে আদৌ এই নরকঙ্কালের সঙ্গে ওই ব্যক্তির সম্পর্ক রয়েছে কি না।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং