তসলিমা নাসরিনের পর এবার শ্রীজাত। মৃত্যুপথে ছেলেকে একপলক দেখতে না পাওয়ার যে শোক নিয়ে চলে গিয়েছেন বাংলাদেশে জেলবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর (Chinmoy Krishna Das) মা, সেই বেদনাদায়ক ঘটনা নিয়ে গর্জে উঠলেন বাংলার কবি। তাঁর নতুন কবিতায় যুগপৎ সেই শোক আর সংখ্যালঘুর প্রতি ক্ষমতাবানদের চোখরাঙানির কথা উঠে এল। ‘রক্তপলাশ’ নামে সেই কবিতায় শ্রীজাত প্রায় অঙ্গীকারের মতোই উচ্চারণ করেছেন, ‘জলেও জেনো বারুদ থাকে/ একদিন ঠিক উঠবে জ্ব’লে!/সেদিন আগুন ফলবে শাখে…/রক্তপলাশ, মায়ের কোলে।’ এর আগে চিন্ময় প্রভুর পাশে দাঁড়িয়ে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র’কে কার্যত তুলোধোনা করেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। এবার শ্রীজাতর কলমে তা ধরা পড়ল।
শুরুতে সরাসরি প্রসঙ্গে ঢুকে তিনি লিখেছেন, ‘এই পৃথিবী ছাড়ার আগে/ সন্তানকে চোখের দেখা।/এর চে’ বেশি মা’র কী লাগে?/কিন্তু মা সেই গেলেন একা।/লাগামবিহীন ঘৃণার বিষে/শেষ ইচ্ছেটাও ছাড় পেলো না।/তিক্তকষায় মিশবে কি সে?/চোখের জলের স্বাদ যে নোনা।’
আরও পড়ুন:

বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই গ্রেপ্তার হন সে দেশের সনাতন সমাজের মুখপাত্র তথা জনপ্রিয় হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস, যাঁকে সকলে ‘চিন্ময় প্রভু’ বলে চেনেন। জাতীয় পতাকার উপর ধর্মীয় পতাকা রেখে অবমাননা ও আইনজীবী খুনের মতো গুরুতর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। অথচ বিনা বিচারেই প্রায় ২ বছর জেলবন্দি চিন্ময় প্রভু। সম্প্রতি তাঁর মা সন্ধ্যারানি ধর অসুস্থতার মাঝে একটিবার ছেলের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁর পরিবার প্যারোলের আবেদন জানিয়েও ব্যর্থ হয়। প্যারোলে ছাড়া হয়নি চিন্ময় প্রভুকে। শেষমেশ গত বৃহস্পতিবার তাঁর মায়ের মৃত্যু সংবাদ এসে পৌঁছয় জেলে। তখন হিন্দু সন্ন্যাসীকে প্যারোলে ৫ ঘণ্টার জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। মৃত মাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন চিন্ময় প্রভু। তাঁর সেই অশ্রুসজল মুখের ছবি ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়, সমব্যথী হন বহু মানুষ।

চিন্ময় প্রভুর সেই মুখ বেদনার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের আগুনও জ্বালিয়েছে। তসলিমা নাসরিনের দীর্ঘ পোস্টে তারই প্রতিফলন ঘটেছিল। এবার শ্রীজাত কবিতাতেও তাই। শুরুতে সরাসরি প্রসঙ্গে ঢুকে তিনি লিখেছেন, ‘এই পৃথিবী ছাড়ার আগে/ সন্তানকে চোখের দেখা।/এর চে’ বেশি মা’র কী লাগে?/কিন্তু মা সেই গেলেন একা।/লাগামবিহীন ঘৃণার বিষে/শেষ ইচ্ছেটাও ছাড় পেলো না।/তিক্তকষায় মিশবে কি সে?/চোখের জলের স্বাদ যে নোনা।’ ক্রন্দনরত চিন্ময় প্রভুর আবেগের সঙ্গে একাত্ম হয়ে শ্রীজাত লিখলেন, ‘মায়ের চিতায় কয়েক ফোঁটা/ঝরতে গিয়ে বৃষ্টি নামে।/এই জলই হোক খরস্রোতা।/দেখব তখন কোথায় থামে!/ছেলের দু’হাত বাঁধলো কী হায়,/মা ঠিক যখন যাচ্ছিল ঘুম…/চোখরাঙানির এই দুনিয়ায়/অশ্রু কেবল সংখ্যালঘু।’ এই প্রথম নয়, এর আগেও নানা অমানবিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গর্জে উঠেছিল শ্রীজাতর লেখনি। কবিতায় তিনি ধারালো প্রতিবাদ করেছেন। এবারও তার অন্যথা হল না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
একবার নয়, তিনবার মহিষাসুরের দম্ভ চূর্ণ করেছিল মহামায়ার ত্রিশূল! কী বলছে কালিকা পুরাণ?
-
গভীর রাতে ক্যাটরিনার বাড়িতে, সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ‘অ্যানিম্যাল’ রণবীর!
-
সবচেয়ে কষ্টের রাত কোনটা? প্রশ্ন শুনেই চোখ ছলছল! সামলে নিয়ে উত্তরে মন জিতলেন স্মৃতি
-
পুজোর আগে রাজ্যে থাবা বসাচ্ছে ডেঙ্গু, হটস্পট বেছে বেছে নজরদারি চালাচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর
-
মা নিজে এসেছিলেন শাঁখা পরতে! দুর্গাপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে হর-পার্বতী পুজোর আশ্চর্য কাহিনি