নব্যেন্দু হাজরা: সরকারি আশ্বাসে পুরনো ভাড়াতেই আগামিকাল থেকে পথে নামছে বেসরকারি বাস (Private Bus) মিনিবাস। ‘আনলক-১’ এর তৃতীয় দিনেই সুর নরম করল বেসরকারি বাস মালিক সংগঠন। ভাড়া বদ্ধির সমস্যাকে অগ্রাহ্য করে বৃহস্পতিবার থেকে বাস চালাতে রাজি হলেন তারা। যত আসন, তত সংখ্যক যাত্রীদের বাসে তোলা যাবে বলে জানানো হয়। ভাড়া নিয়ে রেগুলেটরি কমিটি গঠনেরও আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরিবহনের অভাবে সোমবার থেকেই নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। পর্যাপ্ত বাস না থাকায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সরকারি অফিসের কর্মীদের চিন্তা করতে হচ্ছে যে, আজও লাল কালি পড়বে নামের পাশে। কিন্তু আগামিকাল থেকেই সেই সমস্যার অবসান। সরকারি আশ্বাসে পুরনো ভাড়াতেই পথে বাস চালাতে রাজি হয়েছে বেসরকারি বাস মালিকদের সংগঠন। তাই ভাড়া না বাড়িয়েই বৃহস্পতিবার অফিস যাত্রীদের মুখে হাসি ফোটাবেন পারবেন তারা। এমনটাই আশা করেছেন জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কবে থেকে ভাড়া বৃদ্ধি হবে জানা যায়নি। এই বিষয়ে রেগুলেটরি কমিটি গঠন করা হয়। তাঁরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।” ফলে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসেই কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সপ্তাহের শুরু থেকে যে নাজেহাল দশা দেখা দেয় দ্রুত তা মিটবে বলেই এদিন জানান জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
[আরও পড়ুন:‘লকডাউনের আগে পরিযায়ীদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা যেত’, ফের কেন্দ্রকে তোপ মমতার]
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে বুধবার সকাল থেকেই রাস্তায় অটো ও অ্যাপ ক্যাবে ২ জনের পরিবর্তে ৪ জন করে যাত্রী তোলা হয়। কিন্তু তাতে সামাল দেওয়া যায়নি পরিস্থিতি। দীর্ঘ লাইনে, বাস স্টপে অপেক্ষা করতে দেখা যায় শয়ে শয়ে যাত্রীদের। বাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন বহু মানুষ। কোথাও আবার সামাজিক দূরত্বকে শিকেয় তুলে চাকরি বাঁচাতে বাদুরঝোলা হয়েই অফিসে যান অনেকে। মঙ্গলবারও পরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলি। বেসরকারি বাস মালিকদের চারটি সংগঠন পরিবহন দপ্তরে গিয়ে একাধিক দাবি-সহ একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। তারপর থেকেই সুর নরম করতে শুরু করেন তাঁরা। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রীর একটি ফোন সব সমস্যার অবসান ঘটায়।
[আরও পড়ুন:‘ত্রাণ থেকে কেউ বঞ্চিত হলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা’, কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর]
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বসে আশ্বাসের সুরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পরিবহন ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে এই সময় সরকারি কর্মীদের নামের পাশে লাল কালি দেওয়া হবে না। এক দেড় ঘণ্টা তাঁদের দেরি হতেই পারে। সেই বিষয়ে ছাড় রয়েছে।” তবে সামাজিক দূরত্ব মেনে অফিস যাওয়ার বিষয়ে তিনি বার বার সতর্ক করেছেন বঙ্গবাসীদের। সেই ক্ষেত্রে এতটুকু ঝঁকি নিতে রাজি নন তিনি।
সর্বশেষ খবর
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
-
পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর নরম, ইরান হরমুজে খুলে দিলেই নিষ্ফলা যুদ্ধে ইতি টানবেন ট্রাম্প!
-
মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
-
রাজারহাটের অভিজাত আবাসনে পানীয় জলদূষণ! অসুস্থ বহু বাসিন্দা, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’