Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Taratala Disaster

তারাতলা কাণ্ডে ২ হাজার পাতার চার্জশিট পুলিশের, কীভাবে ধসে পড়ল গোডাউন?

গত ২৪ জুন দুপুরে তারাতলায় ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে নির্মীয়মান একটি গোডাউন একেবারে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ২১:১৮

link
অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ২১:১৮

options
link
তারাতলা কাণ্ডে ২ হাজার পাতার চার্জশিট পুলিশের, কীভাবে ধসে পড়ল গোডাউন? zoom
তারাতলার ফাইল ছবি।
Advertisement

তারাতলা কাণ্ডের চার্জশিট পেশ করল কলকাতা পুলিশ। তারাতলায় গোডাউন ধসে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। গ্রেপ্তার করা হয় সাতজনের। ঘটনার ৮৭ দিনের মধ্যেই আজ, শনিবার আলিপুর আদালতে চার্জশিট পেশ করল বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’। ধৃত ওই সাতজনের বিরুদ্ধেই ওই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ৭০ জন সাক্ষীর বয়ান রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে আদালত।

গত ২৪ জুন দুপুরে তারাতলায় ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে নির্মীয়মান একটি গোডাউন একেবারে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঘটনার জেরে আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করে উদ্ধারকাজ। ভয়াবহ এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৬ জনের। যদিও সেনা, এনডিআরএফ-সহ একাধিক বাহিনীর জোর উদ্ধারকাজে প্রাণে রক্ষা পান বহু শ্রমিক। ঘটনায় জিরো টলারেন্সের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল অর্থাৎ সিট গঠন করে কলকাতা পুলিশ। অনিচ্ছাকৃত খুন ও অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তারাতলা থানায় মামলা দায়ের হয়। ওই ঘটনার তদন্তে ‘সিট’ তৈরি করে লালবাজার। তদন্তে নেমে একে একে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেই এদিন চার্জশিট পেশ করা হয়। প্রথমে ‘সিট’-এর পক্ষ থেকে অনলাইন তথা সিসিটিএনএস-এ চার্জশিট দেওয়া হয়। ক্রমে নথিগুলি আদালতে দিয়ে আসেন লালবাজারের আধিকারিকরা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

যে সাতজনের বিরুদ্ধে এদিন চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন আমিনুর শেখ, কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, কমল সামন্ত, শম্ভুনাথ বেহরা, দিবাকর ভান্ডারী ও আব্দুল হামিদ ওরফে মহম্মদ আতাউর। কীভাবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, তা উল্লেখ করা হয়েছে সিটের জমা দেওয়া চার্জশিটে। বলা হয়েছে, কোনও এক বিশেষ ব্যক্তি নয়, এই বিপর্যয়ে প্রত্যেকের গাফিলতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রী ঠিক করে ব‌্যবহার করা হয়নি। পরিকাঠামোগত দিক থেকেও ভুল তথা গাফিলতি ছিল। পুরসভার প্ল‌্যানমতো কিছুই করা হয়নি। তার ফলে লোহার বিম বেঁকে যায়। কংক্রিটের ঢালাইয়ের ভার লোহার বিম নিতে পারেনি বলেও উল্লেখ চার্জশিটে। এই ব‌্যাপারে যাদবপুরের বিশেষজ্ঞদের পাঠানো রিপোর্টের বিষয়টিও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকী, এই গাফিলতির পিছনে যে আর্থিক লেনদেন ছিল, প্ল‌্যান চূড়ান্ত করার পিছনেও আর্থিক লেনদেন ছিল, সেই ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। নির্মাণের সামগ্রীর মানের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। ধৃত সাতজনের কী ভূমিকা ছিল, তা-ও চার্জশিটে স্পষ্ট করেছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, সৈয়দ মহম্মদ গুলজার ওরফে গুলজার হোসেন ছিলেন বিল্ডিং বা প্রকল্পের সুপারভাইজার। কিছুদিন আগেই গ্রেপ্তার আমিনুর শেখ প্ল‌্যানে সই করেছিলেন। ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের যাবতীয় নির্মাণের দায়িত্ব ছিল তাঁর উপরই। প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দে‌্যাপাধ‌্যায়েরও ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। কমল সামন্ত ছিলেন পরিকাঠামোগত বিষয়ক ইঞ্জিনিয়র। শম্ভুনাথ বেহরা জমির লিজ নিয়েছিলেন ও গোডাউনটি নির্মাণ শুরু করেন। দিবাকর ভান্ডারী, আব্দুল হামিদ ছিলেন শ্রমিকদের ঠিকাদার। তঁাদের কী কী গাফিলতি ছিল, তা-ও চার্জশিটে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.