Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
তৃণমূলের ইভেন্ট লঞ্চ

পরিচয় পত্র না বিমানের বোর্ডিং পাস! তৃণমূলের নতুন ‘ইভেন্ট লঞ্চ’-এ কর্পোরেট ছোঁয়া

২ মার্চ নেতাজি ইন্ডোরে নয়া কর্মসূচি ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০, ১১:৫৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০, ১১:৫৭

options
link
পরিচয় পত্র না বিমানের বোর্ডিং পাস! তৃণমূলের নতুন ‘ইভেন্ট লঞ্চ’-এ কর্পোরেট ছোঁয়া zoom

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: তৃণমূলের নতুন ‘ইভেন্ট লঞ্চ’-এ এবার পুরোদস্তুর কর্পোরেট ছোঁয়া। হুবহু যেন বিমানের বোর্ডিং পাস। সেই ধাঁচেই তৈরি হয়েছে সভার আমন্ত্রিতদের পরিচয় পত্র। আগামী ২ মার্চ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের শাসকদলের বর্ধিত কমিটির সভা। সেই সভাতেই ‘দিদিকে বলো’র মতো বড় মাপের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ইভেন্ট লঞ্চ। থাকার কথা পুরসভা, বিধানসভা, লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রতিনিধিদের। প্রাক্তন সাংসদরাও আমন্ত্রিতের তালিকায় রয়েছেন। তাদের সামনেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হল এত ঘটা করে এমন পরিচয় পত্র কেন? সম্ভবত গোটা দেশে এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির জন্য এভাবে আমন্ত্রিতদের পরিচয় পত্র তৈরি করা হল। যেখানে থাকছে একটি বারকোড। যা স্ক্যান করলেই প্রবেশাধিকার পাবেন আমন্ত্রিত। এক শীর্ষ নেতার কথায়, “আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই প্রবল চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে চলেছে। দল এবং দলীয় কর্মসূচি নিয়ে পদাধিকারী নেতা ও কর্মীদের উপর আরও দায়িত্ববোধ আরোপ করা দরকার।” তিনি মনে করেন, “দলনেত্রীর ছবি-সহ এমন পরিচয় পত্র তৈরি করে দিলে যেকোনও পদাধিকারীর এটা মনে হতে বাধ্য যে দল তাঁকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তার ফলে ওই কর্মী বা নেতাও গুরুত্ব দিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করবে। সেই সঙ্গে ওই নেতারও ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়বে। সর্বোপরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও নাম সর্বক্ষণের জন্য ওই ব্যক্তির ঘরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: পুলিশি অত্যাচার করে কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে তৃণমূল, সরব কৈলাস]

যদিও এমন কর্পোরেট আয়োজন নিয়ে প্রশ্নের মুখেও পড়ছে নেতৃত্ব। এতদিন দলীয় সভায় যারা আসতেন এমন পরিচয় পত্র করে দেওয়ায় সেই তালিকায় গণ্ডি পড়ে গেল। দলের অনেকেরই প্রশ্ন, তবে এতদিন যারা সভায় আসতেন তাদের মধ্যে অনেকেই কি অবাঞ্ছিত? তাঁরাও তো দলের কর্মী! নতুন এই আমন্ত্রণের প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেই নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, এতদিন যত সভা হয়েছে দল লক্ষ্য করেছে সেখানে সভার ভিতরের থেকে বাইরের লোক বেশি। দলের পর্যবেক্ষণ, তারা দলের সম্পদ হতে পারেন না। তেমন হলে তারা বাইরে না ঘুরে দলের কথা শুনতেন। তাই নির্দিষ্ট করে এবার যাদের আসতে বলা হল দলের কাছে তারাই আসল সম্পদ। এতে দলকেও অনেকটা গুছিয়ে নেওয়া গেল। আবার কে কে দলীয় অনুশাসন মানলেন তাও নজরে এল। সব থেকে বড় কথা, এই প্রথম নেতাজি ইন্ডোরে দলীয় সভার আসন ব্যবস্থা, যা গিয়ে দাঁড়াতে পারে ১৪ হাজারে, দলনেত্রীর সামনে তা রাখা হবে। তা দেখে তিনিও জানতে পারবেন কোন এলাকা থেকে কতজন প্রতিনিধি এল।

হুগলি জেলা থেকে এই কর্মসূচির জন্য এমন পরিচয় পত্র বিলি করার কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার পরপর দুই দিনে কলকাতার বিভিন্ন অংশে এই পরিচয় পত্র বিলি করে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ কটাদিন এ রাজ্যের বাকি অংশের দলীয় আমন্ত্রিত পদাধিকারীদের কাছে পৌঁছে যাবে এই পরিচয় পত্র। এদিনের বৈঠক অবশ্য ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কলকাতার তেরাপন্থ ভবনে এই বৈঠকে হাজির ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ দক্ষিণ কলকাতার মন্ত্রী সাংসদ বিধায়ক সহ যুব ও মূল সংগঠনের পদাধিকারীরা। যুব সংগঠনের সভাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে আগামী ২ মার্চ এর বৈঠকের উদ্দেশ্য পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া হয় সকলকে। যেহেতু পুরসভার ভোট। সূত্রের খবর এই ভোটকে মাথায় রেখে পুরমন্ত্রী তথা মেয়র তাঁর তরফ থেকে ১০ বছরের উন্নয়নের হাতিয়ার করে ভোটে সর্বতোভাবে লড়াইয়ে নেমে পড়ার বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ সামনে রেখে ভোটে জিতে নতুন বোর্ড গঠন করতে হবে। পরবর্তী পরিস্থিতিতে সর্বসম্মতভাবে বেছে নেওয়া হবে কলকাতা পুরসভায় দলের মুখ কে হবেন। শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.