পুজোর আগে চুরির প্যাটার্ন জেনেই ধরতে হবে চোর। কোন জায়গা থেকে আসা চোর কী পদ্ধতি অথবা কোন প্যাটার্নে অপরাধ করে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে? সেদিকে নজর দিতে হবে পুলিশকে। আর এই প্যাটার্নের ‘পিছু’ নিয়েই চোরের সন্ধান পেতে হবে তদন্তকারীকে। কলকাতার প্রত্যেকটি থানার ওসি ও গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদের এমনই নির্দেশ লালবাজারের (Lalbazar)।
একই সঙ্গে নতুন আয়া তথা পরিচারকদের ব্যাপারে শহরের বাসিন্দাদের আরও বেশি সতর্ক করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন লালবাজারের কর্তারা। গত কয়েক মাসে বাড়ির আয়া ও পরিচারক-পরিচারিকাদের বিরুদ্ধে চুরি করে পালানোর বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে পুলিশের কাছে। সম্প্রতি অপরাধদমন সংক্রান্ত বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকদের সতর্ক করেছে লালবাজারের পুলিশকর্তারা। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় বেড়েছে ছিঁচকে চুরির মতো ঘটনা। এছাড়াও কলকাতার একেকটি জায়গায় একেক পদ্ধতিতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এই ব্যাপারে বিভিন্ন থানায় অভিযোগও দায়ের হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
অপরাধীদের হদিশ পেতে আগেই অপরাধের ‘হটস্পট’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল লালবাজার। এবার লালবাজারের নির্দেশ, পুজোর আগেই জানতে হবে চুরির ‘প্যাটার্ন’। পুলিশের মতে, উত্তর ও মধ্য কলকাতার কিছু জায়গায় মন্দিরে চুরি হয়।
অপরাধীদের হদিশ পেতে আগেই অপরাধের ‘হটস্পট’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল লালবাজার। এবার লালবাজারের নির্দেশ, পুজোর আগেই জানতে হবে চুরির ‘প্যাটার্ন’। পুলিশের মতে, উত্তর ও মধ্য কলকাতার কিছু জায়গায় মন্দিরে চুরি হয়। আবার দক্ষিণ কলকাতা বা দক্ষিণ শহরতলিতে দেখা যায়, মোবাইল, ল্যাপটপ ঘরের ভিতর জানালার কাছাকাছি থাকলেই তা নজর পড়ে চোরের। এমনকী, তিন বা চারতলা বাড়িতে রেনপাইপ বেয়ে উঠে তারা পৌঁছে যায় বারান্দা অথবা ঘরের মধ্যে। বহুতলে থাকার কারণে অনেকেই বারান্দা লাগোয়া ঘরের দরজা বন্ধ করেন না। সেই সুযোগই নেয় দুষ্কৃতীরা।
আবার দক্ষিণ কলকাতা ও বন্দর এলাকায় দরজার লক ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে চুরির একাধিক অভিযোগ এসেছে পুলিশের কাছে। আবার পুরনো সামগ্রী বিক্রিওয়ালা অথবা কাগজ কুড়নি সেজে চুরির ঘটনাও ঘটেছে শহরে। লালবাজারের মতে, এমনও দেখা গিয়েছে একই ধরনের চুরি হচ্ছে, কিন্তু তার ‘প্যাটার্ন’-এর পার্থক্য রয়েছে। লালবাজারের কর্তাদের মতে, এবার থেকে প্রত্যেকটি চুরির ঘটনাও থানা ও গোয়েন্দা পুলিশকে বিশ্লেষণ করতে হবে। তাহলেই ধরা পড়ে যাবে ওই চুরির বিশেষ প্যাটার্ন। সেই একই প্যাটার্নে কতগুলি চুরি হচ্ছে, তা ধরা পড়বে সেই বিশ্লেষণেই।
সিসিটিভি ও মোবাইলের কল ডাম্প করে দেখা সম্ভব কোন কোন দুষ্কৃতী একা বা একসঙ্গে সেই প্যাটার্ন মেনে অপরাধ ঘটাচ্ছে। আবার চুরির সময়, চুরির এলাকা দেখেও নজর রাখতে হবে প্যাটার্নের উপর। ওই বিশেষ দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা গেলে সেই প্যাটার্নে চুরি থামানো হবে।
সেই মতো সিসিটিভি ও মোবাইলের কল ডাম্প করে দেখা সম্ভব কোন কোন দুষ্কৃতী একা বা একসঙ্গে সেই প্যাটার্ন মেনে অপরাধ ঘটাচ্ছে। আবার চুরির সময়, চুরির এলাকা দেখেও নজর রাখতে হবে প্যাটার্নের উপর। ওই বিশেষ দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা গেলে সেই প্যাটার্নে চুরি থামানো হবে। এভাবে পুলিশ একাধিক প্যাটার্নের উপর নজর রেখেই রুখতে পারবে শহরের চুরি। পুজোর আগে এভাবে শহরকে চুরিমুক্ত করা সম্ভব হবে। একই পদ্ধতিতে প্যাটার্নের উপর নজর রেখে বাইক চুরিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে অভিমত পুলিশকর্তাদের।
এদিকে, শহরে গত কয়েকমাসের মধ্যে আয়া তথা পরিচারক-পরিচারিকাদের দ্বারা চুরির বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তারিও হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের চুরির অপরাধ বন্ধ করতে প্রত্যেক থানা ও গোয়েন্দা বিভাগকেও নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। লালবাজারের কর্তাদের মতে, তার জন্য এলাকায় গিয়ে গিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে হবে। বিভিন্ন আবাসনে বৈঠক করে সতর্ক করতে হবে বাসিন্দাদের। নতুন আয়া, পরিচারক বা পরিচারিকা নিয়োগ করা হলেই কলকাতা পুলিশের ‘বন্ধু অ্যাপ’-এ ফর্ম ভরে সেই তথ্য পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিতে হবে। এ ছাড়াও প্রত্যেক আয়ার পরিচয়পত্র যাতে জমা দেওয়া হয়, সেই ব্যাপারে আয়া সেন্টারগুলিকেও সতর্ক করা হচ্ছে। সেন্টারগুলি যাতে পরিচয়পত্র যাচাই করে, সেই ব্যাপারেও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু, পলাতক ভুয়ো ডাক্তার, মৃতের মা’য়ের নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি!
-
এআইয়ের সাহায্যে ভয়ংকর বিস্ফোরক বানাচ্ছে বোকো হারাম, জঙ্গি হানার ছকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
-
অ্যাক্রোপলিস মলে মহিলার ‘শ্লীলতাহানি’, গ্রেপ্তার ৬
-
মোদির জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বালানোয় মোটা অঙ্কের জরিমানা! শাস্তির মুখে কী সাফাই আইআইএম জম্মুর?
-
হাসিনা কাঁটার মধ্যেও বাণিজ্য সম্পর্কে শান, ভারত-বাংলাদেশ টাস্ক ফোর্স গড়তে আলোচনা!