Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Abul Bashar

তাঁর চোখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ছিলেন জীবনানন্দ! দুর্দিনের ধর্নায় পাশে নেই সেই আবুল বাশার, কেন?

একাধিক ইস্যুতে মঙ্গলবার রানি রাসমণি রোডে ধর্নায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যেমন দেখা মেলেনি বহু তৃণমূল বিধায়কের, তেমনই এককালের মমতার প্রশংসক বুদ্ধিজীবীরাও গরহাজির ছিলেন। মমতা ক্ষমতা হারাতেই ভোলবদল?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২, ২০২৬, ২০:৫৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২, ২০২৬, ২০:৫৩

options
link
তাঁর চোখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ছিলেন জীবনানন্দ! দুর্দিনের ধর্নায় পাশে নেই সেই আবুল বাশার, কেন? zoom
Advertisement

ছাব্বিশে ভরাডুবির পর একমাসও পেরোয়নি। এই কয়েকদিনেই তৃণমূল কার্যত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। কালীঘাটের বৈঠকে দেখা মিলছে না অধিকাংশ বিধায়কের। প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন একাধিক নেতা। সোনারপুরে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবস্থায় হামলা, রিগিং, ভোট পরবর্তী হিংসা, এসআইআর-সহ একাধিক ইস্যুতে রানি রাসমণি রোডে ধর্নায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে যেমন দেখা মেলেনি বহু তৃণমূল বিধায়কের, তেমনই এককালের মমতার উদার প্রশংসক বুদ্ধিজীবীরাও গরহাজির। মমতা ক্ষমতা হারাতেই ভোলবদল? উত্তর দিলেন সাহিত্যিক আবুল বাশার (Abul Bashar)। অতীতে মমতাকে যিনি জীবনানন্দ-রবীন্দ্রনাথের মতোই বিরল প্রতিভা আখ্যা দিয়েছিলেন। 

‘ফুল বউ’ খ্যাত লেখকের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রাজনীতিক হিসাবে নয়, একজন সাহিত্যিক হিসাবে। আবুল বাশার বলেন, “আমি কোনওকালে রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। ওঁর যে প্রতিবাদী চরিত্র, নতুন করে (ওয়াই চ্যানেলের ধর্নায়) সেটাকেই মানুষ দেখছেন। জননেত্রী হয়ে উঠেছিলেন তো এই প্রতিবাদের কারণেই। একেবারে শূন্য থেকেও কিন্তু তিনি পূর্ণ হতে পারেন।” প্রশ্ন উঠছে, অতীতে ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা’র হয়ে মিছিলে হেঁটেছেন, মঞ্চে থেকেছেন, এখন ক্ষমতা হারানো ‘বিরোধী নেত্রী’র ধর্নায় থাকলেন না কেন? ডাকা হয়নি বলে? ডাকা হলেও কি থাকতেন তিনি? সাহিত্যিকের উত্তর, “মমতা কখনও, কোথাও ডাকেননি, আমি নিজে থেকে গিয়েছি। তিনি আমাকে সাহিত্যের পরিসরেই রাখতে চেয়েছেন। সাহিত্যের পরিসরে থেকে যেভাবে তাঁকে সমর্থন করা যায়, সেটাই করেছি। নেপথ্যে ওর গোটা জীবনের প্রতিবাদী মুখ।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রাজ্যে হকার উচ্ছেদের ঘটনাকে মমতার মতোই ‘অমানবিক’ বলেন বাশার। তাঁর কথায়, “আমাদের কলকাতা শহরের নিজস্ব একটা চরিত্র আছে। শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে হলেও ধীরে ধীরে করতে হবে। উচ্ছেদের আগে হকারদের জন্য একটা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি। যাতে তাঁরাও বাঁচতে পারেন। আচমকা উচ্ছেদে তাঁদের যেন নিরন্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যাঁরা এই কাজটা করছেন, সেই নতুন সরকারের সম্বিত ফেরাতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যেকের দাবি, তিনি রং বদলাচ্ছেন না মোটেও। এখনও মমতার প্রশংসক। অবুল বাশার বলেন, “আমি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসক। আমি তাঁর কবি সত্তার তারিফ করেছি। রাজনীতিটা যে খুব মনে দিয়ে করেছি, তা কিন্তু নয়। একটা সময় বামপন্থীদের সঙ্গে ছিলাম। নকশালদের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল আমার, এসইউসিআই দলটির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। জরুরি অবস্থার পটভূমিতে ‘অগ্নিবলাকা’ লিখি। যেখানে নকশাল যুবনেতাই তো নায়ক। সেখানে আমার রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। কিন্তু সক্রিয় রাজনীতি কোনওদিন করিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন প্রতিবাদী নারী হিসাবে দেখেছি। বাংলায় মহিলাদের সার্বিক বিকাশে মমতা কাজ করেছেন। তিনি রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। বলা বাহুল্য, একজন ঐতিহাসিক চরিত্র।”

ভবিষ্যতে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে বা স্বেচ্ছায় হকার উচ্ছেদ-সহ অন্য ইস্যুতে পথে নামবেন এই সাহিত্যিক? আবুল বাশারের উত্তর, “শারীরিক কারণে আমি এখন প্রায় হাঁটতে পারি না। এর আগেও ধর্না মঞ্চে গিয়েছি খুব কষ্ট করে। তবু, পরিস্থিতি তেমন হলে নিশ্চয়ই যাব।” হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে যোগ করেন, “সরকারের বদল হয়, হবে। কিন্তু গরিব মানুষের প্রতি তাদের সহানুভূতি থাকা উচিত। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হওয়া উচিত। কেন বুলডোজার চালানো হবে! বুলডোজার তো বাংলার সংস্কৃতি নয়। ভয় দেখাচ্ছেন কেন?”

এখানেই না থেমে ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেন সাহিত্যিক। তিনি বলেন, “বারবার ভয় দেখালে কিন্তু ভয় ভেঙে যায়! এক সময় মানুষ রুখে দাঁড়ায়। বিদ্রোহ করে। আমি কিন্তু ভয় দেখাচ্ছি না। এটাই আসলে মানুষের স্বভাব। প্রতিবাদ থেকেই তো জন্ম হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র। ইতিহাস তো সাক্ষী, মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে, তারপর বিদ্রোহ করেছে। অতীতে বাংলাদেশে, নেপালে, শ্রীলঙ্কায় হয়েছে…। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়তো স্বতস্ফুর্ত সেই গণবিদ্রোহের নেত্রী হয়ে উঠবেন।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.