Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Holi

শরীর থেকে জোর করে দোলের রং তোলা অত্যন্ত ক্ষতিকারক! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

রং নিয়ে রংবাজি নয়! সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৮, ২০২১, ১৩:৫৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৮, ২০২১, ১৩:৫৭

options
link
শরীর থেকে জোর করে দোলের রং তোলা অত্যন্ত ক্ষতিকারক! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? zoom

অভিরূপ দাস: বাঁদুরে, টকটকে লাল, গাঢ় গোলাপি এসব রং গায়ে লেগে থাকলে ক্ষতি নেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, দোলের (Holi 2021) রং যত না বেশি ক্ষতি করে, তার চেয়ে ঢের ক্ষতি করে গায়ের জোরে রং তোলার প্রক্রিয়া। ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, কেরোসিন, তার্পিন জাতীয় তেল দিয়ে মুখ ঘষলেই বিপদ। কারণ, ত্বকের উপরিভাগের আস্তরণ উঠে যায়। ফলে কিছু থেকে ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে।

করোনা (Coronavirus) আবহে বেপাড়ায় গিয়ে রং খেলার বিধিনিষেধ থাকলেও ছোট পরিসরে রং খেলা যেতেই পারে। কোন রং দিয়ে দোল খেলব? এমন প্রশ্নই সাধারণত ঘুরপাক খায় রং-পাগলদের মনে। ত্বকরোগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাজারচলতি কোনও রং-ই তেমন নিরাপদ নয়। রাসায়নিক পদার্থ মেশানো রং তো বটেই, এমনকী, ভেষজ রং থেকেও ত্বকের রোগের ঘটনা দেখা যায়। একমাত্র গাছের পাতা, ফুল, ফলের নির্যাস থেকে হাতে তৈরি রং সম্পূর্ণ নিরাপদ। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ত্বকরোগের সহকারী অধ্যাপক ডা. অভিষেক দে’র কথায়, শুধুমাত্র বাড়িতে ভেষজ রং তৈরি করে নিরাপদে ব্যবহার করা সম্ভব। বাড়িতে তৈরি করা রং অস্থায়ী। কিন্তু বাজারে যে রং বিক্রি হয় তা গায়ে লাগলে সহজে উঠতে চায় না। এদিকে দোলের পরের দিনই অফিস। মুখে রং নিয়ে অফিস যাব? এমন চিন্তা থেকেই রং তুলতে নেমে পড়েন সকলে। ডা. অভিষেক দের কথায়, “অনেকেই কেরোসিন তেল, তার্পিন তেল দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুখ ঘষতে থাকেন। এই প্রবণতা মারাত্মক।” তাঁর কথায়, “মুখে সাতদিন রং লেগে থাক ক্ষতি নেই। হালকা কোনও ক্লিনজার কিংবা শ্যাম্পু দিয়ে পাঁচ-সাত মিনিট মুখ ধোয়া যেতে পারে। তাতে যতটা রং ওঠে উঠুক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুখের রঙ এমনিই ফিকে হবে। কিন্তু রং তুলতে গায়ের জোরে ঘষাঘষি নয়।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: ইঞ্জেকশন নয়, এবার ট্যাবলেটই করোনার টিকা! নতুন সাফল্যের দাবি ভারতীয় সংস্থার]

দোলের রং নিয়েও রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। বিভিন্ন ধরনের একজিমা হয় দোলের রং থেকে। ডা. দে জানিয়েছেন, কাদের সঙ্গে দোল খেলব সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজে পরিবেশ বান্ধব রং কিনলাম আর বন্ধুরা আমাকে কালো বাঁদুরে রঙ মাখাল, তাতে কোনও লাভ নেই। কারণ কালো রঙে থাকে লেড অক্সাইড, যা ত্বক তো অবশ্যই, কিডনির কাজও ব্যাহত করে। সবুজ রঙে থাকা কপার সালফেট আবার ত্বকের অ্যালার্জি ও চোখের জন্য ক্ষতিকর। লাল রঙে থাকে মারকিউরিক সালফাইডে ত্বকের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। নীল ও আসমানি রঙে থাকে বিষাক্ত প্রুসিয়ান ব্লু ও সাদা রঙে থাকে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড যা চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গায়ের জোরে রং তোলা নয়, বরং রং যাতে সহজে উঠে যায় তার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। দোলের রং থেকে বাঁচতে মুখে ময়েশ্চারাইজার মাখার নিদান দিয়েছেন ডা. অভিষেক দে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দোল খেলার দিন সকালে মুখে পুরু করে সানস্ক্রিন ময়েশ্চারাইজার মেখে নেওয়া বুদ্ধির কাজ। এতে ত্বকের ক্ষতি অনেকটা কম হয়। তবে এক দেড় ঘণ্টার বেশি সানস্ক্রিন কাজ করে না। তার চেয়ে বেশি সময় ধরে রং খেললে নতুন করে সানস্ক্রিন ক্রিম মেখে নিতে হবে। রং থেকে চুল বাঁচাতে নারকেল তেল মেখে রং খেলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। দোল খেলার সময়ে রং থেকে চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখে রং ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রেটিনা। এমনটা হলে দ্রুত চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.