এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ছিল মূলত নারীর কাঁধে। পুরুষদের ক্ষেত্রে বিকল্প বলতে কন্ডোম বা ভ্যাসেকটমি। যার মধ্যে একটির কার্যকারিতা সীমিত, অন্যটি স্থায়ী। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই চিত্র বদলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা এমন একটি পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছেন, যার মাধ্যমে সাময়িকভাবে শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করা সম্ভব, তাও আবার শরীরে স্থায়ী ক্ষতি ছাড়াই।

আরও পড়ুন:
এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এ। মার্কিন গবেষকরা দেখিয়েছেন, শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কীভাবে এই কাজটি করা যেতে পারে। সেই প্রক্রিয়ার নাম ‘মিয়োসিস’, যা শুক্রাণু তৈরির জন্য অপরিহার্য।
আরও পড়ুন:
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা JQ1 নামের একটি যৌগ ব্যবহার করেন, যা মিয়োসিসের একটি নির্দিষ্ট ধাপকে সাময়িকভাবে বাধা দেয়। ফলে শুক্রাণু তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রভাব স্থায়ী নয়। ওষুধ বন্ধ করার পর আবার স্বাভাবিকভাবে শুক্রাণু উৎপাদন শুরু হয় এবং প্রজনন ক্ষমতাও ফিরে আসে।
এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে কয়েকটি কারণে। প্রথমত, এটি সম্পূর্ণ নন-হরমোনাল, অর্থাৎ টেস্টোস্টেরন বা অন্যান্য হরমোনের উপর এর প্রভাব পড়ে না। ফলে হরমোনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও কম। দ্বিতীয়ত, এটি রিভারসিবল, অর্থাৎ প্রয়োজনে বন্ধ করলে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা সম্ভব।

তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এতে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এই গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রুফ অফ কনসেপ্ট’ হিসেবে কাজ করছে, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে।
এদিকে, পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও কিছু আশাব্যঞ্জক কাজ চলছে। যেমন- শুক্রাণুর নির্দিষ্ট প্রোটিন ব্লক করে, এমন ওষুধ তৈরির কাজ চলছে। কিছু নন-হরমোনাল পিল ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের জন্য আরও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি তৈরি হলে পরিবার পরিকল্পনায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া সহজ হবে। এতে নারীদের উপর চাপ কমবে এবং প্রজনন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে উভয়ের অংশগ্রহণ বাড়বে।
তবে এখনও অনেক পথ বাকি। দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা কেমন হবে এবং সব ধরনের অনুমোদন পেতে কত সময় লাগবে, এই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি। তারপরও বলা যায়, এই নতুন গবেষণা জন্মনিয়ন্ত্রণ বিজ্ঞানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। হয়তো খুব দূরে নয় সেই দিন, যখন পুরুষদের জন্যও নিরাপদ, কার্যকর এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বাজারে পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সভাপতি পদে দায়িত্ব নিয়েই মহামেডানকে ঋণমুক্ত করার আশ্বাস হুমায়ুনের, বার্তা ‘রাজনীতি’ নিয়েও
-
আগামী সপ্তাহেই সংসদে ‘অপারেশন লোটাস’! মমতার নির্দেশে হঠাৎ দিল্লিতে অভিষেক
-
‘ওয়াকা ওয়াকা’র নস্ট্যালজিয়া উসকে ফিরছে শাকিরা ম্যাজিক, কোন গানে ‘ফিফা’র মঞ্চ মাতাবেন নোরা?
-
‘ভাইকিং’ পোশাকে ফোটোশুট হালান্ডদের, বিশ্বকাপের আগে বিপাকে নরওয়ে
-
কারা পাবেন আবাসের বাড়ি? সুবিধাভোগী যাচাইয়ে ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা, রয়েছে ‘সেলফ সার্ভে’র সুবিধাও