BREAKING NEWS

৩২ আষাঢ়  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

কপালেই লেখা করোনার ভবিষ্যৎ, তৃতীয় নেত্রের মেলাটোনিনে ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা বিজ্ঞানীদের

Published by: Sulaya Singha |    Posted: June 7, 2020 1:03 pm|    Updated: June 7, 2020 1:03 pm

An Images

গৌতম ব্রহ্ম: জীবাণু হানায় বিগড়ে যায় দেহঘড়ি। বিপন্ন হয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাল কাটে যাপনের। ছন্দ ফেরাতে অন্যতম ভূমিকা নিতে পারে মেলাটোনিন হরমোন। যেখানে কল্পনার তৃতীয় নেত্র থাকে, সেখানেই রয়েছে মেলাটোনিনের গোমুখ, পিনিয়াল গ্রন্থি। জেট ল্যাগ কাটাতে এই হরমোন দারুণ কার্যকর। এবার কোভিড চিকিৎসায়ও ব্যাবহার হবে এই জাদু হরমোন। তাতে কি করোনা ভাগ্য বদলাবে? আশাবাদী চিন ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী।

তাঁদের দাবি, শরীরে মেলাটোনিন সক্রিয় থাকলে করোনার সঙ্গে যুঝতে অনেক সুবিধা। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ, এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মলিকুল কোষকে সাফসুতরো রাখে। জেটল্যাগের কারণে বায়োলজিক্যাল ক্লকের ছন্দপতন হলে মেলাটোনিন ক্যাপসুল ব্যবহার করা হয়। নরওয়ে, সুইডেনের মতো স্ক্যান্ডানেভিয়ান দেশে বহু মানুষ এক ধরনের ঋতুগত মনোবৈকল্যে (সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসর্ডার, সংক্ষেপে এফএডি) ভোগেন। তাঁদের চিকিৎসাতেও মেলাটোনিন-থেরাপি খুব কার্যকর।

[আরও পড়ুন: গবেষণা অসমাপ্ত, তবু COVID-19 রোধে প্রতিষেধকের উৎপাদন শুরু ব্রিটিশ সংস্থার!]

সম্প্রতি এলসিভিয়ার প্রকাশনা সংস্থার ‘লাইফ সায়েন্স’ জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জ্বর, গায়ে ব্যথা, কাশি- সবই ‘ইনফ্ল্যামেটরি রেসপন্স।’ মানে, প্রদাহজনিত শারীরিক প্রতিক্রিয়া। “এগুলো কমিয়ে দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরে ভারসাম্য আনে মেলাটোনিন।” জানালেন কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক-গবেষক ড. অসমঞ্জ চট্টরাজ। বিশ্বভারতীর ভূতপূর্ব অধ্যাপক সৌমেনকুমার মৈত্র এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চন্দনা হালদার দীর্ঘদিন ধরে মেলাটোনিন নিয়ে গবেষণা করছেন। সম্প্রতি তাঁদের ছাত্র অসমঞ্জও শুরু করেছেন এই নিয়ে গবেষণা।

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা, “আমাদের ফুসফুসে দু’রকমের কোষ থাকে। নিমোসাইট-১ ও নিমোসাইট-২। সার্স-কোভ-২ ভাইরাস নিমোসাইট ২ কোষের মধ্যে থাকা অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিন এনজাইম ২-এর রিসেপটিভ এরিয়া দিয়ে ঢুকে সাইটোকাইন তৈরি করে। যারা কোষকে ধ্বংস করে এগিয় নিয়ে যায় কোভিডের বিজয়রথের চাকা।” এবং সাইটোকাইনের মধ্যে সবচেয়ে খতরনাক হল ইন্টারলিউকিন-৬ বা আইএল-৬। এই অস্ত্রেই নোভেল করোনা সংক্রমণের গতি বাড়িয়ে নিচ্ছে। অক্সিডেশন করে কোষকে মেরে ফেলছে। “আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে পরিবর্তন করে দিচ্ছে। ফলে দুশমন হওয়া সত্ত্বেও শরীর করোনাকে চিনতে পারছে না। কোভিড কার্যত ওয়াকওভার পেয়ে যাচ্ছে।” কোভিড১৯-এর প্যাথোফিজিওলজি বোঝাতে গিয়ে এমনটাই জানালেন পিজি হাসপাতালের ডা. শুভেন্দু বাগ।

এখানেই শেষ নয়। ফুসফুস প্রথম স্টেশন হলেও কোভিড এক্সপ্রেস কিন্তু শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও ছোবল মারে। তাই কোভিড রোগীদের মধ্যে জন্ডিসও দেখা দেয়। এখানেও রয়েছে আইএল৬-এর কালো হাতের কারিকুরি। কী রকম? চিকিৎসকদের বিশ্লেষণ, নোভেল করোনা (Coronavirus) ‘ভেসেল পারমিয়েবিলিটি’ বাড়িয়ে শিরা-ধমনীতে আইএল৬-কে ঢোকার পাকা ব্যবস্থা করে দেয়। আর একবার রক্তে ঢুকে পরলেই হল। লিভার, কিডনি সবেতেই কামড় বসাতে শুরু করবে কোভিড। লিভারে ঢুকলে জন্ডিস, কিডনিকে আঘাত করলে রেনাল ফেলিওর।

এভাবেই চলে কোভিডের সাম্রাজ্য বিস্তার। আর এখানেই ‘গেম চেঞ্জার’-এর ভূমিকা নেয় মেলাটোনিন। প্রথমত, ওঠার আগেই সাইটোকাইন ঝড় থামিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, ‘ইনফ্ল্যামেটরি প্রসেস’-কে আটকায়। নিজে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হওয়ায় বন্ধ করে ‘সেল অক্সিডেশন।’ ভারসাম্য আনে ‘ইমিউনো রেসপন্স’-এ। চতুর্থত, ভেসেল পারমিয়েবিলিটি কমিয়ে দেওয়ায় নোভেল করোনা রক্তে মিশতে পারে না। ফুসফুসেই আটকে থাকে। বাড়তি কাজও করে মেলাটোনিন। রোগী সিসিইউ বা আইসিইউয়ে থাকলে শারীরিক কষ্টের দোসর হয়ে প্রভূত মানসিক চাপও জাঁকিয়ে বসে। মেলাটোনিন ‘সেডেটিভ’ হয়ে টানটান স্নায়ুকে শিথিল করে, রোগীর ‘আরইএম স্লিপ’ কমিয়ে ‘এনআরইএম স্লিপ’ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোগী অনেক বেশি স্ট্রেস ফ্রি থাকতে পারেন। শুভেন্দুবাবু জানিয়েছেন, “আমাদের শরীর খুব ভাল চিকিৎসক। কিন্তু পাশ করা ডাক্তার নয়। সাইটোকাইনকে ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে শত্রুকে। তাতে সমস্যা হয়। অনেক সময় সাইটোকাইন ধ্বংস করে দেহ কোষকেই। কোভিডের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়।” এখানেই খেলা ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে মেলাটোনিন। হয়ে উঠতে পারে অব্যর্থ সঞ্জীবনী।

[আরও পড়ুন: পুরুষের মাথায় চুল কম হলে বাড়তে পারে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা! বলছেন বিশেষজ্ঞরা]

সত্যি, সবই ললাটলিখন! মানুষের করোনা-ভাগ্য তার কপালেই লেখা! ভাইরাস আমাদের শরীরে ঢুকে কতটা তাণ্ডব চালাবে, নাকি প্রতিরোধের দেওয়ালে ঠোক্কর খেয়ে দেহ-ময়দান ছেড়ে পিঠটান দেবে, সবই লেখা কপালের মধ্যিখানে তৃতীয় নেত্রে! এখন দেখার মেলাটোনিনের আশীর্বাদে সেই আমাদের করোনা–ভাগ্য কতটা বদলায়!

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement