Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Mounjaro Brides

বিয়ের সাজে তন্বী হওয়ার নেশা, জিম-ডায়েট নয়, কনের ভরসা সিরিঞ্জে!

দিল্লি, মুম্বই থেকে শুরু করে কলকাতা— মেট্রো শহরগুলিতে ‘মাউঞ্জারি ব্রাইড’ শব্দবন্ধটি এখন বেশ পরিচিত। কয়েক মাস আগেও যা ছিল ডায়াবেটিস বা চরম স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, তা এখন প্রি-ওয়েডিং প্যাকেজের অংশ হয়ে উঠেছে। লক্ষ্য একটাই, জিম বা কৃচ্ছ্রসাধন ছাড়াই দ্রুত ওজন কমানো। ব্যাপারটা ঠিক কী? চলুন, জেনে নিই।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১৪:০৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১৪:০৩

options
link
বিয়ের সাজে তন্বী হওয়ার নেশা, জিম-ডায়েট নয়, কনের ভরসা সিরিঞ্জে! zoom
বিয়ের আগে হবু কনেদের ভরসা ‘মাউঞ্জারি ব্রাইড’! কী এটি?

বিয়ে জীবনে ক’বার? বারবার নয়, একবারই। আর সেকারণেই প্রত্যেকের জীবনেই তা স্পেশাল। লাল বেনারসি, সোনার গয়না আর চন্দনচর্চিত মুখ। বাঙালির বিয়ের চিরাচরিত ছবি। তবে আজকাল এ ছবি বদলাতে শুরু করেছে। বিয়ের আগে থেকেই হবু দম্পতির হাজারো তোড়জোড়। নিজেকে ‘পারফেক্ট’ করার জন্য শুধু ফেসিয়াল বা ডায়েট চার্ট নয়, সম্প্রতি জায়গা করে নিচ্ছে সিরিঞ্জ এবং ভায়াল। ওজন ঝরিয়ে তন্বী হওয়ার নেশায় হবু কনেরা এখন ভিড় করছেন ক্লিনিকে। লক্ষ্য একটাই, জিম বা কৃচ্ছ্রসাধন ছাড়াই দ্রুত ওজন কমানো। আর এই লক্ষ্যপূরণে হাতিয়ার হচ্ছে ‘মাউঞ্জারি’ বা ‘ওজেম্পিক’-এর মতো মারণাস্ত্র। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয় জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট। ব্যাপারটা ঠিক কী? চলুন, জেনে নিই।

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লি, মুম্বই থেকে শুরু করে কলকাতা— মেট্রো শহরগুলিতে ‘মাউঞ্জারি ব্রাইড’ শব্দবন্ধটি এখন বেশ পরিচিত। কয়েক মাস আগেও যা ছিল ডায়াবেটিস বা চরম স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, তা এখন প্রি-ওয়েডিং প্যাকেজের অংশ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ইনজেকশন সরাসরি মস্তিষ্কে খিদের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। পাকস্থলী থেকে খাবার সরার গতি ধীর করে দেয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা লাগে এবং হু হু করে কমে ওজন। বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলে অনেক তরুণীই এখন কঠিন ব্যায়ামের বদলে এই সাপ্তাহিক ইনজেকশনকেই বেছে নিচ্ছেন।

Advertisement

বাজারের চাহিদা বুঝে ক্লিনিকগুলিও নানা প্রলোভনের টোপ ফেলতে শুরু করেছে। তিন মাস আগে শুরু করলে ফল ভালো, তবে এক মাসেও ‘ম্যাজিক’ দেখাবে এই ব্রাইডাল প্যাকেজ। এমনই দাবি নানা সংস্থার। এক-একটি সাপ্তাহিক ইনজেকশনের দাম ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও, পুরো কোর্সের খরচ প্রায় ৫০,০০০ টাকার উপরে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই অনেক সময় এই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এমনকী ফোনের ওপারেই বিক্রেতারা আশ্বাস দিচ্ছেন, “চিন্তা নেই, ডাক্তারবাবু নিজেও এটা নিয়েছেন।”

ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু এই দ্রুতলয়ে ওজন কমানোর মাশুল হতে পারে মারাত্মক। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এই ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনও যথেষ্ট তথ্য নেই। বমিভাব, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যার মতো সাধারণ উপসর্গ তো আছেই। পাশাপাশি অগ্ন্যাশয় বা কিডনির সমস্যার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসকদের বড় অংশই মনে করছেন, স্রেফ সাজগোজের জন্য কৃত্রিম হরমোন শরীরে ঢোকানো আসলে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সাময়িক সৌন্দর্যের লোভে হবু কনেরা নিজেদের ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য নিয়ে বড়সড় ঝুঁকি নিচ্ছেন। রূপটানের দুনিয়ায় নিজেকে নিখুঁত দেখানোর এই প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত জয় কার হচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.