BREAKING NEWS

১১ কার্তিক  ১৪২৭  বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

দেশে করোনা ভাইরাস নির্ণয়ের পরিকাঠামোই নেই, চরম উদ্বেগে স্বাস্থ‌্যকর্তারা

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: January 23, 2020 9:06 am|    Updated: March 12, 2020 1:09 pm

An Images

ফাইল ফটো

গৌতম ব্রহ্ম: আফ্রিকার ইবোলার পর চিনের করোনা ভাইরাস। মারণ জীবাণুর আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে ডালপালা ছড়াচ্ছে ঝড়ের গতিতে। আঁচ এসে পড়েছে ভারত তথা কলকাতাতেও। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় কলকাতা-সহ দেশের সাতটি বিমানবন্দরে চরম সতর্কতা জারি হয়েছে। চিন থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বসানো হয়েছে থার্মাল ক্যামেরা। বেলেঘাটা আইডি-তেও খোলা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। 

কিন্তু সমস্যা অন্যত্র! ঘটনা হল, কলকাতা তো বটেই, ভারতের কোনও ল্যাবরেটরির করোনা ভাইরাস নির্ণয়ের ক্ষমতা নেই। রোগ ধরতে হলে সন্দেহভাজনের লালার নমুনা পাঠাতে হবে আমেরিকার আটলান্টা বা চিনের ইউহানে। অর্থাৎ, রোগীর দেহে করোনা ভাইরাসই বাসা বেঁধেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে মাস ঘুরে যাবে। ততদিনে সঠিক চিকিৎসার অভাবে রোগীর শারীরিক অবস্থার বড়সড় অবনতি তো ঘটবেই, মৃত্যু হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। আর এই অসহায়তাই করোনা-আতঙ্ককে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চরম উদ্বেগ রাজ্যের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্তাদের।

[আরও পড়ুন: চিনা ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রস্তুত কলকাতা, বেলেঘাটা আইডিতে খুলল বিশেষ ওয়ার্ড]

চিনে এখনও পর্যন্ত ৫৪৩ জন করোনা ভাইরাসের ছোবল খেয়েছেন। ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোগের উৎপত্তিস্থল ইউহানের একটি সামুদ্রিক মাছের বাজার। এই সংক্রমণের জেরেই ভারত-সহ প্রতিবেশী দেশগুলিতে সতর্কতা জারি হয়েছে। হংকং, থাইল্যান্ড, ম্যাকাও, মেক্সিকো ও আমেরিকাতেও করোনা আক্রান্ত রোগীর হদিশ মিলেছে। রোগের মোকাবিলায় প্রস্তুত আটলান্টার ল্যাবরেটরি। কিন্তু ভারত এখনও অন্ধকারে। জানা গিয়েছে, নিপা থেকে সার্স – অনেক ভাইরাসই নির্ণয় করতে পারে পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি’। করোনার ক্ষেত্রেও পুণেতেই পাঠাতে হবে নমুনা। কিন্তু সেখানেও পরীক্ষা হবে না। সিল-প্যাক হয়ে তা উড়ে যাবে আটলান্টা বা চিনে।
এই আতঙ্ক-অসহায়তার আবহেই করোনা ভাইরাস নিয়ে জেলাগুলিকে সতর্ক করল স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি ‘অ্যাডভাইসরি’ বিজ্ঞপ্তি রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়েছে।

রাজ্য এখনও নিজস্ব কোনও ‘প্রোটোকল’ তৈরি করতে পারেনি। তাই কেন্দ্রের অ্যাডভাইসরিই এদিন বিকেলে বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। বেলেঘাটা আইডি-তে দুই শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি রাখা হয়েছে। চিকিৎসক-নার্সরা অসুখের মোকাবিলায় প্রস্তুত। আতঙ্ক ছড়ালেও এখনও পর্যন্ত ভারতে একটিও ‘করোনা কেস’ পাওয়া যায়নি। তবে কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ সাতটি বিমানবন্দরে করোনা ভাইরাস নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চিন থেকে আসা সব যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীদের জ্বর মাপার জন্য থার্মাল ক্যামেরা বসানো হয়েছে। চিন থেকে কলকাতা রোজ উড়ান রয়েছে। তাই বাড়তি সতর্কতা।

যদিও রোগ নির্ণয় নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। তা গোপন করেননি রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. অজয় চক্রবর্তী। তাঁর মত, করোনা ভাইরাস বিশ্বের দু’ জায়গাতে নির্ণয় করা হয়। আমেরিকার আটলান্টা ও চিনের ইউহানে। তবে বাংলা থেকে সরাসরি এই দুই ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠানো যাবে না। পুণের ‘এনআইভি’ মারফতই পাঠাতে হবে। অজয়বাবু জানিয়েছেন, “পিসিআর যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা H1N1-এর মতো ভাইরাস নির্ণয় করতে পারি। কিন্তু করোনা নির্ণয়ের পরিকাঠামো নেই। রোগ নির্ণয়ে গোটা দেশই অসহায়।”

[আরও পড়ুন: সংস্পর্শেই ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস, উদ্বেগ বাড়িয়ে ঘোষণা চিনের]

করোনার সঙ্গে প্রথম পরিচয় অবশ্য চিনের নয়, মধ্যপ্রাচ্যের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০১২ সালের এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি-সিনড্রোম করোনা ভাইরাস’ বা মার্স-করোনা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জর্ডন, কাতার, সৌদি আরব, তিউনিসিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় দেড়শো মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রাণ গিয়েছিল ৫৭ জনের।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement